টেনশন ফ্রি থাকার জন্য

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:৫২
বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা অনেক বেশি স্মার্ট। অনেক কাজ করেন তারা। দেখলে অবাক হতে হয় এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। তবু কর্মময় এই জীবনের মধ্যে অনেককেই খুঁজে পাওয়া যাবে, যাদের গতি হরহামেশাই ম্লান হয়ে যায়। বন্ধু-বান্ধবদের মধ্য থেকে কেউ একটা মজা করে কথা বললে কোথায় যেন হারিয়ে ফেলে নিজেকে। ছোট্ট একটা কথা তার দিনটাই মাটি করে দেয়। অযথাই কষ্টের ভার মনে বইতে হয় তাকে। আর অহেতুক এই টেনশনের নাম ব্রুডিং। ব্রুডিংয়ের নানা দিক নিয়ে এই আয়োজন। লিখেছেন রফিকুল ইসলাম ব্রুডিংয়ে ভোগার বিষয়টা কিন্তু অনেকটাই নির্ভর করে মানিয়ে নেওয়ার উপর। আর যখন ব্রুডিংয়ে আক্রান্ত হয় কেউ তখন কিন্তু কিছু অনিয়মও চোখে পড়ে, যেমন পিঠে ব্যথা, ক্ষুধা কমে যাওয়া, অল্পেই ক্লান্ত হওয়া, হতাশা, এগুলো সবই হয় মাত্রাতিরিক্ত আত্মনিমগ্ন হওয়ার ফলে। এর একটা মজার দিকও আছে। এমন অনেককেই খুঁজে পাওয়া যাবে যাদের চাপের মুখে পড়লে মাথা খুব ভালো কাজ করে। যেমন তাদের পরীক্ষার আগের রাতের প্রস্তুতিটা কাজে লাগে সবচেয়ে বেশি। কারণ তখন সম্পূর্ণ মনোযোগ থাকে পরীক্ষায়। তাই এভাবেই চাপের মধ্যে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। অতিরিক্ত চাপ আর মানসিক অস্থিরতা থেকে নিজেকে মুক্ত করার প্রথম শর্ত হলো আত্মবিশ্বাস বাড়ান। পারিপার্শ্বিক চাপ যতই থাক আমি ঠিকঠাক মতো আমার কাজ করে নেব। এই বিশ্বাস মাথায় রেখে ঠান্ডা মাথায় কাজ করলেই স্বাভাবিকভাবে এগোতে পারবেন। আর মনে রাখতে হবে পারিপার্শ্বিকতা, পরিবর্তন আর সহযোগিতার উপর সম্যক জ্ঞান নিয়েই এগিয়ে যাওয়া যাবে সামনে। নিয়মমতো কাজ করা, সময়মতো পড়তে বসা, পড়ার সময় ফোনে কথা না বলা। নিজের গোপন বিষয় কখন কার সাথে শেয়ার করবেন—এ বিষয়গুলো ঠান্ডা মাথায় ভেবে নিজেই সিদ্ধান্ত নিন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরে কী হতে পারে, তা নিয়ে একটু মাথা খাটালে ভালো হয়। মানসিক অস্থিরতা কমানোর টিপস  সবকিছু কিন্তু আপনার নিয়ন্ত্রণে নয়। সব সময় একশ ভাগ সফলতা বা কর্ম নিপুণ করার ক্ষমতা কারো হাতেই থাকে না। ভুল হতেই পারে। তা নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। এগোতে হবে সামনে।  শুধু শুধু হতাশার রাজ্যে তলিয়ে যাওয়ার কোনো মানে নেই। নিজেকে নিয়ে কল্পনার রাজ্যে ভেসে বেড়ানো তার চেয়ে ঢের ভালো। নিজেকে রাজকন্যা ভাবেন কিংবা ভাবেন সফল কোনো ব্যক্তি যিনি আপনার আদর্শ। আবার ফিরে আসুন সজীব সুন্দর মন নিয়ে।  নিজের জরুরি কাজগুলো রুটিন মাফিক করে ফেলুন। ‘না’ বলতে শিখুন। কখনও নিজেকে, কখনও অন্যকে প্রয়োজন হলে ‘না’ বলুন।  আগামীতে কী করবেন তা কাগজে-কলমে লিখে আর মনের মধ্যে ধারণ করুন। ফলে আপনি সেই মতোই প্রস্তুত হতে পারবেন।  পরিকল্পনা আর পড়াশোনাগুলো নিয়মিত করতে হবে। নইলে ধুলো জমে আবছা হয়ে যাবে।