কাজের চাপেও সাবলীল

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:৫৩
ফিচার বিকেল পাঁচটায় অদৃশ্য লালবাতি দেখে যখন বাড়ির পথে পা বাড়াচ্ছেন, হঠাত্ই বসের ডাক। জরুরি একটি ফাইল তার টেবিলে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ। তখনই আপনার মনে পড়ল, এই ফাইলটির কাজ শেষ করে বসের কাছে জমা দেওয়ার জন্য বস আপনাকে এক সপ্তাহ ধরে তাড়া দিচ্ছেন, আর আপনি কেবলই ভুলে যাচ্ছেন। ফলে অফিসের শেষ বেলায় অহেতুক কাজের ঝামেলা চেপে বসল আপনার ঘাড়ে। অথবা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়িতে কিংবা বাসে ওঠার সময়ই মনে পড়ল, আজ জমা দেওয়ার জন্য রাত জেগে তৈরি করা রিপোর্টটি পড়ে আছে ডাইনিং টেবিলে। এসব ভুল ছাড়াও মানিব্যাগ, চাবির রিং, মোবাইল ফোন জায়গা-বেজায়গায় রেখে আসা। শত কাজের চাপে ছোটখাটো কাজগুলোতেও এমন সব ভুল, যা আপনার সাথে যায় না কোনোভাবেই। একটু খেয়াল করে দেখুন তো, এসব মিসটেক কি শুধুমাত্র কাজের চাপে কিংবা আপনার ভুলোমনার জন্যই হচ্ছে? নাকি প্রতিদিন কী কী কাজ করতে হবে, তা আপনি কখনোই দিনের শুরুতে হিসাব করেন না। অর্থাত্, প্রতিদিনকার কাজের রুটিন বলতে কোনো বিষয় আপনার জীবনযাপনের অভিধানে নেই। আর যদি তাই হয়, তবে এসব অহেতুক ঝুট-ঝামেলা এড়াতে আপনার প্রয়োজন, নিজের কাজগুলোকে একটি রুটিনের আওতায় আনা। নিজের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারা একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের অন্যতম গুণ। এই গুণটি অর্জন করতে হলে আপনাকে নিজের প্রতিদিনকার কাজগুলোকে আনতে হবে একটি নির্দিষ্ট রুটিনের মধ্যে। আর থাকতে হবে, সেই রুটিন মেনে চলার ইতিবাচক মানসিকতা। প্রতিদিনকার রুটিন না থাকার কারণে মেয়েরাও এহেন সমস্যার মুখে পড়েন। জরুরি জিনিস ভুলে যাওয়া, এক কাজ দুই বার করে ফেলা, সহজ কাজে ভুল করা ইত্যাদি ঘটেই থাকে। এসবের জন্য চাকরিজীবী মেয়েরা অফিস আর পরিবার সামলাতে হিমশিম খান। তবে, সবকিছুকে রুটিনের আওতায় এনে এ রকম সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় সহজেই। পুরোটুকু না হলেও অন্তত অধিকাংশ তো অবশ্যই। এ জন্য প্রথমেই আপনার প্রয়োজন একটি ডায়েরি বা প্ল্যানার। শুক্রবার বন্ধের দিনে খানিকটা সময় ব্যয় করুন। ছক কেটে তাতে লিখে ফেলুন আগামী সপ্তাহের প্রতিদিন আপনার কী কী কাজ আছে। বাড়ির কাজ ও অফিসের দায়িত্ব অবশ্যই আলাদা করে লিখুন। পরিকল্পনাটা এমনভাবে করতে হবে, যেন সপ্তাহের ছয় কর্মদিবসের কোনোদিনই আপনার উপর বেশি চাপ না পড়ে। যেদিন অফিসে জরুরি ও দীর্ঘ সময়ের মিটিং আছে, সেদিন সন্ধ্যাবেলা অন্য কোনো কাজ না রেখে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য সময় রাখুন। আবার যেদিন অফিসের কাজ কম, সেদিন ফেরার পথে সপ্তাহের বাজার করে নিয়ে যেতে পারেন। অফিসে বা বাড়িতে করতে হবে এমন যেকোনো ধরনের কাজ হোক না কেন, প্ল্যানারে নোট করে ফেলুন। বাড়ি এবং অফিস আলাদা রাখুন। অফিসে পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন। তবে, তা কখনোই বাড়িতে ফলাবেন না। এভাবে টুকরো সব কাজ প্ল্যানারে টুকে নিয়ে করুন। এতে মনে রাখার মতো ঝামেলা কমে যাবে। আপনিও নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবেন। মডেল আনিকা ছবি দীপঙ্কর দীপু