কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন, বাংলা বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ও অভিজ্ঞতা সনদে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি লাভের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। ৩ সদস্যের কমিটি তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার আশ্রয় ও গুরুতর অপরাধের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের পর দুই মাস অতিক্রান্ত হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, মোহাম্মদ গোলাম মাওলা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার চাকরির আবেদনপত্রে মিথ্যা-বিভ্রান্তিমূলক তথ্য উপস্থাপনসহ ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজসে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি লাভ করেন এবং ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি তিনি চাকরিতে যোগদান করেন। এ বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি তদন্ত শেষে গত ৩ সেপ্টেম্বর কুবি উপাচার্যের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পদে আবেদনের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কর্মস্থলের প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি গ্রহণের তারিখ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির আবেদনের সাথে মাদ্রাসা থেকে পাস করা সনদপত্র জমা দিয়ে আবেদনপত্রে এসএসসি-এইচএসসি পাস ও শিক্ষাবোর্ডের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য প্রদান, পূর্ব চাকরির অভিজ্ঞতার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম তথ্য প্রদান, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে ব্যক্তিগত নথি সংশোধন, পিএইচডি পাসের সনের বিষয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রদানের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বিজ্ঞাপনে উল্লেখিত অভিজ্ঞতার শর্ত এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির কোনটিতে ১ম শ্রেণি না থাকা, নিজের নাম ও পিতার নাম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে পরিবেশন করাসহ অন্যান্য অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৫ অক্টোবর ওই তদন্ত প্রতিবেদনটি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকাস্থ লিয়াজোঁ অফিসে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে উপস্থাপন করা হয়। সূত্র জানায়, এ ধরনের গুরুতর অপরাধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়ে ৭ বছরের জন্য তার পদোন্নতি ও ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সূত্র আরো জানায়, অভিযুক্ত গোলাম মাওলাকে নিয়োগ প্রদানকারী বর্তমান উপাচার্যের নিকট গত ৩ সেপ্টেম্বর উক্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলেও তাকে চাকরিতে এখনো বহাল রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা ও একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ভুয়া তথ্য ও জাল কাগজপত্র সত্ত্বেও যারা তাকে নিয়োগ দিয়েছে তাদেরসহ অভিযুক্ত গোলাম মাওলাকে চাকরিচ্যুত করে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন ও ফৌজদারী আইনে ব্যবস্থা নেয়া বাঞ্চনীয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আমির হোসেন খান তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করলেও অভিযুক্ত গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে কোন কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
