মাথা গোঁজার ঠাঁই চায় শতবর্ষী বই বিক্রেতা

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৩, ২১:১০
বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরে শতবর্ষী বই বিক্রেতা সিদ্দিকের বেঁচে থাকার জন্য নেই এক ইঞ্চি মাথা গোঁজার ঠাঁই কিংবা জীবিকার কোন অবলম্বন। ভারতের কলকাতার বড় বাজারে জন্ম এই সিদ্দিকের। ১৯৪৫ সালের বিশ্ব যুদ্ধের কথা এখনও মনে আছে তার। সুখ আর স্বাচ্ছন্দ্যের স্বপ্ন নিয়ে দেশ বিভাগের সময় চলে আসেন তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাত্ আজকের বাংলাদেশে। এখানে এসেও কোন কর্ম না জোটায় শুরু করেন কায়দা, আমপারাসহ বিভিন্ন ইসলামি বই বিক্রি। ভেবেছিলেন, এভাবে বই বিক্রি করে সংসার চলাবেন। কিন্তু কয়েক বছর পর তার চাকরি হয় খুলনার খালিশপুর জুট মিলে। সেখানে ২০ বছর চাকরি করেন। সংসারে তার ২ মেয়ে, কোন পুত্র সন্তান বা উপার্জনক্ষম লোক নেই যে বড় হয়ে সংসারের বোঝা টানবে। ৭১’র স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার চাকরি চলে যায়। অভাব এসে আবারও ভর করে সংসারে। তিনি চলে আসেন সৈয়দপুরে এবং জীবিকার জন্য আবার বই বিক্রি শুরু করেন। শহরের রাস্তায় রাস্তায় অলিগলি বইয়ের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে ঘুরে বেড়ান শতবর্ষী সিদ্দিক। তার পুঁজির পরিমাণ মাত্র দেড় হাজার টাকা। মাঝে-মধ্যে বই কেনার মত টাকাও থাকে না। তখন অনেকেই তাকে বাকীতে বই দিয়ে সাহায্য করেন বলে তিনি জানান। এই বই বিক্রি করে সামান্য আয়ে তার সংসার চলে। দুই মেয়ে আগরবাতি তৈরির কাজ করে বাপের অসহায়ত্ব ঘোচানোর চেষ্টা করে। তবে এত অসহায় হয়েও কারো কাছে তিনি কোনোদিন হাত পাতেননি কিম্বা ভিক্ষাবৃত্তিও বেছে নেননি। শতবর্ষী এই মানুষটি পরিশ্রম করেই টেনে চলেছেন জীবনের বোঝা।