ইত্তেফাক রিপোর্ট
তের বছর বয়সি লাজিনা আক্তার। কাজ করত কামরাঙ্গীচর ছাতা তৈরির একটি কারখানায়। সেখানে সে ১২ ঘণ্টা কাজ করত, কোনো ছুটি ছিল না। সেলাইয়ের কাজ করতে হাতে সুই ফুটতো; কিন্তু এ বিষয়ে কারখানায় বলা যেত না। বর্তমানে লাজিনা ইসলামী রিলিফ নামের একটি বেসরকারি সংগঠনের সহায়তায় লেখাপড়া শিখছে এবং মাসিক কিছু টাকা বৃত্তিও পাচ্ছে। একই অবস্থা শেখ সজিবের। সে একটি হোটেলে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কাজ করতো। বেতন পেত; কিন্তু কোনো ছুটি ছিল না।
মোহম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের একটি সিএনজি গ্যারেজে কাজ করত মো. ইরফান। বয়স ১২ বছর। সে স্কুলে যেতে চাইত; কিন্তু বাবা-মা বলতো লেখাপড়া শিখে আমাদের কী হবে? কাজ করলে টাকা রোজগার হবে। জান্নাত একটি বাসায় গৃহকর্মের কাজ করত। জান্নাত লেখাপড়া করতে চাইতো; কিন্তু তার মা-বাবার কথা— ‘মেয়েরে পড়াইয়া কী হইবো’ এখন ‘এএসডি’ নামের একটি সংগঠনের সভায়তায় সে স্কুলেও যাচ্ছে, গৃহকর্মের কাজও করছে। লাজিনা, সজীব, ইরফান, জান্নাত এরা সবাই কাজের পাশাপাশি কিংবা কাজ ছেড়ে লেখাপড়া শিখছে। এমন শ্রমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের অসংখ্য শিশু-কিশোর। এই বয়সে যাদের প্রয়োজন শিক্ষার।
গতকাল সোমবার ডেইলি স্টারের এ এস মাহমুদ মিলনায়তন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিশুরা তাদের এসব অভিজ্ঞার কথা তুলে ধরেন। ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের সহায়তায় বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে সরকার কাজ করছে, তবে এ কাজের জন্য সবাইকে সরকারের সঙ্গে থেকে সমন্বিত ভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিটা শিশুই অসীম প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। কর্মে নিয়োজিত শিশুরাও অনেক মেধাবী, তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করে দেওয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব। তারা নিজে পরিশ্রম করে উপার্জন করছে। তিনি আরো বলেন, সরকার শিশুশ্রম নিরসনে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যেমন ৩৮ কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এই নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য একটি আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুশান্ত কুমার প্রামাণিক, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইদ আহমেদ এবং ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের কর্মসূচি ব্যাপস্থাপক গোলাম মোতাসিম বিলাহ। এছাড়া সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপার্সন ড. খাজা সামছুল হুদা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিএডব্লিউএন ফোরামের ভাইস চেয়ারপার্সন মো. মাহবুবুল হক। সূচনা বক্তব্য রাখেন বিএসএএফের পরিচালক আব্দুছ সহিদ মাহমুদ।
