বিয়াল্লিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৫৫
জনপ্রিয় গায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার হোসেনের গানের একটি লাইন—“ত্রিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুজছি”। তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলছি— বিয়াল্লিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি। ত্রিশ লাখ বা তার অধিক বাঙালি বীর সন্তানের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে আনা স্বাধীনতা আজো কি আমরা পেয়েছি? সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার আরো নাম না জানা বাঙালির প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া ভাষার মর্যাদা কি আমরা দিতে পারছি বা দিচ্ছি। বণিক বেশে আসা ইংরেজ-ফরাসিরা বাংলার শেষ নবাবকে সরিয়ে দিয়ে শুরু করে শাসন নামের শোষণ। ইংরেজ-ফরাসি দ্বন্দ্বের মাঝেও বলির পাঁঠা হলো বাঙালি জাতি। শাসনের নামে শোষণের, অত্যাচারের, নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েও ক্ষান্ত হয়নি, লাগিয়ে দিয়েছে সামপ্রদায়িক দ্বন্দ্ব। যাঁর হাত ধরে এলো স্বাধীনতা; যাঁর নেতৃত্বে সকল ক্ষত দূর হতে শুরু করেছিল, তাঁকেও থামিয়ে দেওয়া হলো। ষড়যন্ত্রের বিষে এখনো টালমাটাল বাঙালি জাতি। অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করে ভিনদেশিরা। আমরা কীভাবে চলবো তা নির্ধারণ করে ষড়যন্ত্রকারীরা। আমাদের সমস্যা নিয়ে দ্বারস্থ হতে হয় অন্যের কাছে। ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সোচ্চার। তারা লাগিয়ে দিয়েছে ভাইয়ে ভাইয়ে রেষারেষি। যার পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষ সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে একে অপরের সঙ্গে। প্রাণ দিচ্ছে বাঙালি। আর উত্সব করছে ষড়যন্ত্রকারীরা। প্রতিটি ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করছে। তাদের খেলার পুতুল হয়ে গেছে জাতি। তারা যেভাবে নাচাতে চায়, সেভাবেই নাচাচ্ছে। যেভাবে চালাতে চায়, সেভাবেই চালাচ্ছে। আর আমরাও তাদের নাচের পুতুল সাজতে মনে হয় পছন্দ করি। তা না হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদেরকে আহ্বান করি কেন? বলতে পারি না কেন—আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তোমরা নাক গলানোর কে? ঢাকা