বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অচলাবস্থা কি চলতেই থাকবে

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৫৫
বিগত কিছুদিনের ব্যবধানে দেশের নতুন-পুরাতন বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটিতে ছাত্রছাত্রী বা শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন আন্দোলনের মুখে উপাচার্য মহোদয়গণ তাঁদের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়েছেন। কয়েকটিতে সাধারণ শিক্ষকরা উপাচার্যের অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বিরত রয়েছেন। কোনো কোনোটিতে উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতা আর নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধের প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে এসবের প্রতিকার পেতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়—এ যেন উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানগুলোর এক অনিবার্য সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন জাগে—এরকম পরিস্থিতি কি একান্তই কাম্য কিংবা জরুরি? সৃষ্ট সংকট বা উদ্ভুত পরিস্থিতিগুলো ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ/বর্জন না করে বা উপাচার্য মহোদয়দের অবরুদ্ধ না করে কোনোভাবেই কি সমাধান করা সম্ভব ছিল না? উপাচার্য মহোদয়গণই বা এমন হবেন কেন—তাঁরা কি এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না বা সমাধান করতে পারেন না? তাঁরা কি ধরেই নিয়েছেন যে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বপালন করতে গেলে ২/১ বার অবরুদ্ধ হতেই হবে বা বিভিন্ন আন্দোলনের সম্মুখীন হতেই হবে? এরকম পরিস্থিতির জন্য দায়ী কে বা কারা? তবে যেভাবেই ঘটে থাকুক বা যার ক্ষেত্রেই ঘটুক না কেন বিষয়সমূহ যে মোটেও শোভন নয় সে ব্যাপারে মনে হয় সবাই একমত। অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও মাত্র কিছুদিনের ব্যবধানেই কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে এমনি বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে (যেমন বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি) যেগুলোর কোনো কোনোটির আপাতত সমাধান দিতে গিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। আর সেগুলোর রেশ কাটতে না কাটতেই একই পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটিকে। সবগুলো ঘটনাকেই অপ্রত্যাশিত বলা যাবে না বা একসূত্রে গাঁথা না গেলেও কিছু সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যাবে। তবে যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ বা সরে যাওয়ার ব্যাপারে শিক্ষক বা ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে দুর্নীতি বিষয়ক যৌক্তিক দাবি ওঠে তারা নিজে থেকে সরে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ যেমন নষ্ট হয় না তেমনি সাধারণ মানুষের কাছে তাঁরা হয়ে উঠতে পারেন আরো সম্মানিত ও নন্দিত। আর নিজে থেকে সরে না গেলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বা সরকার থেকে হস্তক্ষেপ করতে হবে যেন কোনোমতেই শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট না হয় বা ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত না হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই এমন অনভিপ্রেত ঘটনা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে হয়তো রক্ষা করা যেতো। তবে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো উপাচার্যকে/ বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন না হতে হয় তার ব্যাপারে দরকার ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যথাযথ পর্যবেক্ষণ। নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে বাস্তবতা চিন্তা করতে হবে (স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনা করলে হবে না)। পাশাপাশি যাঁদেরকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে তাঁরা যেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে কাজ করতে বাধ্য হন সেইরকম কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে না বা সাধারণ শিক্ষকদের উপাচার্য পদত্যাগ বা অনুরূপ আন্দোলনে যেতে হবে না। সেইসঙ্গে শিক্ষার্থীরা হারাবে না তাদের মূল্যবান শিক্ষাজীবন। ময়মনসিংহ