শোক আবহে মেহেদী উত্সব ও তাজিয়া মিছিল

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৩, ২১:১৬
আল্লাহর অনুসরণের সঙ্গে মুহাম্মদ (স.)-আলী-ফাতেমা-হাসান ও হোসাইন (রা.) স্মরণের মাধ্যমে বিশ্বের শিয়া সম্প্রদায় প্রস্তুত হচ্ছেন পবিত্র আশুরা পালনের জন্য। বাংলাদেশের শিয়া মুসলিমগণও সেই ধারাবাহিকতায় পহেলা মহররম থেকে প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠান, তাজিয়া মিছিল, শোকসভা, শোক মজলিস, মর্সিয়া মাতম ও ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে পালন করছেন। শিয়া সম্প্রদায়ের প্রাণকেন্দ্র হোসেনী দালান থেকে ঢাকার সকল ইমামবাড়ায় তা এক যোগে পালিত হচ্ছে। তারই অংশ হিসাবে সোমবার দুপুরে মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ থেকে বিশাল তাজিয়া মিছিল বের হয়। এতে হাজার হাজার শিয়া সুন্নী আলম ঝান্ডা নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। যা মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ থেকে বের হয়ে তাজমহল রোড, নূরজাহান রোড, সলিমুল্লাহ রোড হয়ে পূর্বের অবস্থানে প্রত্যাবর্তন করে। আশুরা পালন কর্তৃপক্ষ জানান, ৬ মহররমের তাজিয়া মিছিল ও সব আমল বিবি জয়নবের পুত্র আউন ও মুহাম্মদের স্মরণে পালন করেছেন। তাছাড়া ৭ মহররম রাত ১০টায় বিশেষ করে ইমাম হাসানের পুত্র কাসেম ও ইমাম হোসাইনের মেয়ে ফাতেমা কুবরার সঙ্গে যে বিয়ে হয়েছিল, ঐ দিনকে স্মরণে মেহেদী অনুষ্ঠান পালন করেছেন। অনুষ্ঠানে হাজার হাজার শিয়া সুন্নী মেহেদী, ফুল-ফল, শিরনি ও মিষ্টি নিয়ে হাজির হয়। আর ৭ মহররমকে কাসেমের দিবসও বলা হয়। গতকাল দুপুরে হোসেনী দালান ইমামবাড়া থেকে একটি বিশাল তাজিয়া মিছিল বের হয়। যা চাঁনখারপুল-গুলিস্তান-নবাবপুর রোড-বংশাল-নাজিমুদ্দীন রোড হয়ে হোসেনী দালানে ফের প্রত্যাবর্তন করে। সূত্র বলছে- আজ মাগরিবের পর ও ৯ মহররম রাত ২টায় হোসেনী দালান থেকে বিরাট শাহি মিছিল বের হবে। এ মিছিলের সম্মুখভাগে দুই কাতার করে ঝান্ডাবাহী ভিস্তি (মশক সরবরাহকারী) থাকবে। এটা হযরত আব্বাসের নামে মান্নত করা হয়েছে। এই ভিস্তিগণ ১২ জন ইমামের নামে ১২ জন সরদারের অধীনে থাকবেন। তাদের নামে আজ শিরনি (কাইচ ছিন্নি) আছে। এই ভিস্তি এবং সরদার সবাই সুন্নী হলেও তারা হোসেনী দালানের তত্ত্বাবধানে থাকেন। তাছাড়া আজ ৮ মহররম বেলা ২টায় জিঞ্জির মাতম বা ছুরি মাতম অনুষ্ঠিত হবে হোসেনী দালানের ডান পাশের মাঠে। হাজার হাজার শিয়া মুসলিম এখানে অংশগ্রহণ করবেন। আমরা এই দিবস হযরত আব্বাসের স্মরণে পালন করে থাকি। আব্বাস একজন বীরযোদ্ধা ছিলেন। তারপরও তাকে যুদ্ধের অনুমতি না দিয়ে শুধু শিশুদের জন্য পানি আনার দায়িত্ব দেয়া হয়। তাকে যুদ্ধের সরঞ্জাম তরবারী বা বর্শা দেয়া হয়নি। আত্মরক্ষার জন্য কেবলমাত্র একটা ভাঙ্গা বর্শা দেয়া হয়েছিল। তার এক হাতে ছিল আলম বা পতাকার ঝান্ডা অন্য হাতে ছিল বিবি সখিনার শুষ্ক মশক। তিনি নদী থেকে পানি তোলেন কিন্তু নিজে পিপাসায় কাতর থাকার পরও পান করেননি। তার যে অশ্ব সেও পানি পান করেনি। উল্লেখ্য যে, প্রতিদিনের এই অনুষ্ঠান সূচি হোসেনী দালান ইমামবাড়া, শিয়া মসজিদ ইমামবাড়া, মিরপুর কারবালা ইমামবাড়া, মগবাজার বেলালবাগ ইমামবাড়া, পল্টন খোজাশিয়া ইমামবাড়া, বড় কাটরা নবাব শায়েস্তা খাঁ ইমামবাড়াসহ ঢাকা শহরের সকল ইমামবাড়ায় একই অনুষ্ঠান সূচি যথাযথ পালিত হচ্ছে। ইরান কালচারাল সেন্টারেও পহেলা মহররম থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা হতে ৯টা পর্যন্ত শোক মজলিস ও মর্সিয়া পাঠ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।