বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশের উন্নয়ন, শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং যোগ্য মজুরি প্রদানসহ শিল্প দুর্ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার অপরিহার্য বলে মনে করে বাংলাদেশ বিষয়ক ব্রিটিশ সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি। তারা মনে করেন, পোশাকখাতের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয়সহ মজুরি কমিশন গঠনের পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি। বাংলাদেশের পোশাকখাত বিষয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সর্বদলীয় কমিটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
সোমবার হাউজ অব কমন্সের কমিটি কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আফটার রানা প্লাজা শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সর্বদলীয় পার্লামেন্টারি গ্রুপের চেয়ারপারসন এ্যন মেইন এমপি এবং গ্রুপের সদস্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী এমপি, নিক ডি বোয়িস এমপি, শাবানা মাহমুদ এমপি, জনাথন রেনোল্ড এমপি এ সময় বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম কর্মীদের পাশাপাশি ব্রিটিশ ব্র্যান্ড প্রাইমার্ক, নেক্সটসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদনে অবকাঠামোগত দুর্বলতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত না হওয়াকে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে অবিহিত করে পরিস্থিতি উন্নয়নে ২৮টি সুপারিশ করা হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দেয়ার জন্য পশ্চিমা সরকারগুলোর প্রতি আহবান জানানো হয়।
গত ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসে ব্যাপক প্রাণহানির পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সর্বদলীয় এ গ্রুপটি বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বিষয়ে অনুসন্ধান চালায়। ছয়জন ব্রিটিশ এমপি বাংলাদেশ সফরে সরেজমিন অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। সেইসাথে তারা বিদেশি কোম্পানি বা ব্র্যান্ড মালিকসহ পোশাকখাতে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেন। বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানিকারক পশ্চিমা ক্রেতাদের প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়িত্বের (কর্পোরেট সোশ্যাল রেস্পনিসবিলিটি) কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোশাক শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, জীবনমান উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকে উত্সাহিত করতে কোম্পানিগুলোর আরও বেশি বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। তারা বাংলাদেশে ৯০ শতাংশ ভবন নীতি (বিল্ডিং কোড) অমান্য করে তৈরি বলে উল্লেখ করে একটি টেকসই এবং কার্যকর ইমারত নির্মাণ নীতিমালা প্রণয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। এজন্য আগুন এবং নির্মাণ নীতিমালা বিষয়ে স্বাক্ষরিত জাতীয় ত্রিপক্ষীয় কর্মপরিকল্পনা (এনটিএবি) বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান এবং নির্বাচন পরবর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া প্রতিবেদনে এই শিল্পখাতে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ, নিরাপত্তা বিধান, প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন এবং এসব আইনের বাস্তবভিত্তিক বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের দাায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, পোশাকখাতের উন্নয়ন ব্যতীত বাংলাদেশের পক্ষে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া সম্ভব নয়।
এক প্রশ্নের জবাবে এ্যন মেইন এমপি বলেন, এই প্রতিবেদনকে নেতিবাচকভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আমরা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা বলছি না। আমরা চাই বাংলাদেশ যাতে ভবিষ্যত্ বিনিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত হোক। এজন্য রানা প্লাজা দুর্ঘটনা থেকে সৃষ্ট উপলব্ধিকে কাজে লাগিয়ে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে।
রুশনারা আলী এমপি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ অন্যতম। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের অংশগ্রহণে একটি ব্যাপকভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টর নিয়ে আরও বেশি আলোচনা ও বিতর্কের প্রয়োজন রয়েছে।
