ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এই বাংলাদেশ। মাত্র ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই দেশে এখন ন্যূনতম ১৭ কোটি মানুষের বাস। সর্বশেষ আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪০ লক্ষ বলা হইলেও প্রকৃত অর্থে অনেক বেশি বলিয়া পরিসংখ্যান বিশেষজ্ঞরা বলিয়া থাকেন। দেশের রাজধানী ঢাকাকে লোকে লোকারণ্য বলিলে অল্পই বলা হইবে। চর্মচক্ষু মেলিয়া দেখিলে মনে হয় যেন মানুষের বিস্ফোরণ ঘটিয়াছে। জানা গিয়াছে, এই ঢাকায় অন্যূন ২ কোটি মানুষ বসবাস করিতেছে। অর্থাত্ আয়তন অনুসারে ঢাকা মেক্সিকো সিটি, বেইজিং, নয়াদিল্লি, টোকিও কিংবা ম্যানিলার মতো শহরগুলিকে ছাড়াইয়া সবচাইতে ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী হইয়া উঠিয়াছে। কর্ম সংস্থানের উদ্দেশ্যে এই শহরে যাহারা বসত গড়িয়া তুলিয়াছেন, তাহাদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হইতে আসিয়াছেন। মুশকিল হইল, এই মানুষ যখন পালা-পার্বণ উপলক্ষে নিজ বাড়িতে যাইতে থাকেন, তখন সড়কে মানুষের ঢল নামিয়া আসে। দেখা দেয় পরিবহনের অপ্রতুলতা। বত্সরে মাত্র দুই-তিনদিনের জন্য যখন কোটির অধিক মানুষ ঢাকা ছাড়িয়া যাইতে চাহে এবং ফিরিয়া আসে, তখন মারাত্মক পরিবহন সংকটের কারণে এমনই এক পরিস্থিতির উদ্ভব হয় যে, কেবল যাত্রী সাধারণই নহে, সরকারি বেসরকারি পরিবহন কর্তৃপক্ষ দিশা হারাইয়া ফেলেন। অধিকন্তু ঢাকা হইতে বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতে যে সড়ক রহিয়াছে তাহাও চলাচলের জন্য মোটেই সুখকর নহে। ইহার ফলে সর্বত্র একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। এই সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাও কঠিন হইয়া পড়ে।
এই রকম পরিস্থিতিতে আর কয়েক দিন পরই মুসলমানদের সবচাইতে বড় ধর্মীয় উত্সব ঈদুল ফিতর। এই উপলক্ষে পরিবহন মালিকরা প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করিয়া অনলাইনে বিভিন্ন গন্তব্যের জন্য টিকিট ছাড়িয়াছিলেন; কিন্তু জানা গিয়াছে, মাত্র দুইদিনেই সেই টিকিট ফুরাইয়া গিয়াছে। বাকি রহিয়াছে সরকারি সংস্থা বিআরটিসির টিকিট বিক্রয়। তাহাও যে নিমিষে ফুরাইয়া যাইবে তারা অনুমেয়। অর্থাত্ যাহারা অনলাইনে টিকিট ক্রয় করিতে পারেন নাই এবং সামনের দিনে যাহারা ক্রয় করিতে পারিবেন না তাহাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকিতে হইবে।
যাহাই হউক, উত্সব উপলক্ষে যত্সামান্য সময়ের জন্য ঘরে ফিরিবার বাসনা লইয়া যাহারা দৌড়-ঝাঁপ করিতেছেন, তাহাদের গমনকে সুগম করিতে হইবে। সড়কে নামিলেই যাত্রী সাধারণকে নানা ধরণের বিপদের ঝুঁকি পোহাইতে হয়। রাস্তায় নামিয়া আসে ছিনতাইকারী, পকেটমার, মলমপার্টিসহ নানা ধরনের প্রতারক। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে যে করিয়াই হউক এইসব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির হাত হইতে যাত্রী সাধারণকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখিতে হইবে। মনে রাখিতে হইবে, প্রতিনিয়ত মানুষ বাড়িতেছে; কিন্তু সেই হারে পাবলিক চলাচলের জন্য সড়ক-মহাসড়ক বাড়িতেছে না, মহাসড়কগুলি প্রশস্ত হইতেছে না। সাধারণের চলাচলের জন্য যানবাহন বাড়িলেও তাহা ধর্তব্যের নহে। এই রকম পরিস্থিতিতে কষ্ট সহিয়া ঘরে ফিরিয়া যাওয়া মানুষকে যেমনি শৃঙ্খলার মধ্যে আনিতে হইবে, তেমনি নিরাপত্তাও প্রদান করিতে হইবে। ইহা ছাড়াও সড়ক মহাসড়কে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সচেতন থাকিলে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যাও কমিবে।
