হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে আমরা শোক নয়, আনন্দ করবো, তিনি তার লেখায় মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন - তাকে নিয়ে আমরা শোক করতে চাই না — বলছিলেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। গতকাল বুধবার হুমায়ূন আহমেদের ৬৫তম জন্মদিন উপলক্ষে পাঁচদিনব্যাপী আয়োজিত বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরী চত্বরে বেলুন উড়িয়ে বইমেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলায় হুমায়ূন আহমেদের দুটি সংকলন ও একটি শিশুতোষ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এগুলো হলো ‘হুমায়ূন আহমেদ রচনাবলী-৭’, ‘হিমু দশ’ এবং ‘কাকারু’। বইমেলার উদ্বোধন করেন প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কথাশিল্পী সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং শিশুসাহিত্যিক ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর।
উদ্বোধনী পর্বের পর পাবলিক লাইব্রেরী চত্বরে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে দেশের শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনের বিশিষ্টজন, ভক্তপাঠক আর অনুরাগীরা প্রিয় লেখককে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। পরে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে প্রদর্শিত হয় হুমায়ূন আহমেদের সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেঁটুপুত্র কমলা’। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মেহের আফরোজ শাওন।
এর আগে গতকাল রাত ১২টা এক মিনিটে কেক কাটা হয় ধানমন্ডির দখিন হাওয়ার বাড়িতে। উপস্থিত ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, দু্ই ছেলে নিষাদ ও নিনিত। আরো উপস্থিত ছিলেন অন্যদিনের প্রকাশক মাযহারুল ইসলাম, অবসরের প্রকাশক আলমগীর হোসেন, অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ, সঙ্গীতশিল্পী টুটুল, আর্কিটেক্ট ফজলুল করিম প্রমুখ। কেক কাটা হয় হুমায়ূন আহমেদের অতি প্রিয় স্থান নুহাশ পল্লীতেও। নুহাশ পল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, হিমু বেশে বেশ কয়েকজন তরুণ রাত ১২টা এক মিনিটে কেক কেটে স্মরণ করেন তাদের প্রিয় লেখককে। নুহাশ পল্লীর পক্ষ থেকেও কেক কাটা হয়। সেইসঙ্গে পুরো নুহাশ পল্লীতে মোমবাতি জ্বালানো হয়। মোমের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে পুরো পল্লী। পরে গতকাল দুপুরে নুহাশ পল্লীতে কোরআন খানি, দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এছাড়া নুহাশ পল্লীর পাশের মাদ্রাসার এতিম ছাত্রদের খাওয়ানোর আয়োজন করা হয়েছিল। এদিকে, জন্মদিন উপলক্ষে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
চ্যানেল আইয়ের হুমায়ূন মেলা
হুমায়ূন আহমেদের আনন্দঘন জন্মদিন পালন করলো চ্যানেল আই ও হুমায়ূন ভক্ত-অনুরাগীরা। হলুদ বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও পরিচালক জহির উদ্দিন মাহমুদ মামুন, মেহের আফরোজ শাওন, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, আনোয়ারা সৈয়দ হক, কবি মো. নূরুল হুদা, অন্যদিন সম্পাদক মাযহারুল ইসলাম, আনন্দ আলো সম্পাদক রেজানুর রহমান প্রমুখ।
এসময় বিভিন্ন অঙ্গনের হুমায়ূন ভক্ত শিল্পীরা তারই রচিত গান সমবেতভাবে গেয়ে শোনান। উদ্বোধনী বক্তব্যে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, আমরা হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে কোনো দুঃখকে মনে রাখতে চাই না। তিনি আমাদের কাছে সব সময়ই আলোকউজ্জ্বল এক ব্যক্তিত্ব।
অনুষ্ঠানে শুরুতে ফকির আলমগীর ও তার দল- হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে রচিত একটি গান পরিবেশন করেন। এরপর সঙ্গীত পরিবেশন করেন চন্দনা মজুমদার, আকরামুল ইসলাম, ফরিদা পারভীন, সেলিম চৌধুরী, পলাশ, সফিউল আলম রাজা, শাহনাজ বেলী, ক্ষুদে গানরাজ প্রান্তি, সেরাকণ্ঠ আশিক প্রমুখ। মেলার স্টলগুলোতে স্থান পেয়েছে হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিসম্বলিত নানান পণ্যের স্টল। মেলায় হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘হিমু সমগ্র’গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়।
