অতিমূল্যায়িত শেয়ারেই বিনিয়োগে ঝোঁক বেশি

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৩, ২২:২৭
শেয়ারবাজারের অতিমূল্যায়িত শেয়ারের দিকে বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলছে। প্রায় তিন বছর শেয়ারবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা থাকার পরও কয়েকটি স্বল্প মূলধনী কোম্পানির শেয়ার দর এখনও অতিমূল্যায়িত। বিনিয়োগকারীদের ঝোঁকও যেন এ কোম্পানিগুলো ঘিরেই। অথচ বাজারে কিছু কোম্পানির দর কমতে কমতে এনএভি’র (শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য) নিচে চলে এসেছে। কিছু কোম্পানির দর অবস্থান করছে ফেসভ্যালুর কাছাকাছি। এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের মনযোগ খুব কম। তথ্যে দেখা গেছে, ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের পিই রেশিও (দাম-আয় অনুপাত) ৩২৯। অর্থাত্ এ কোম্পানিতে বিনিয়োগের পর কোম্পানির আয় অপরিবর্তিত থাকলে লভ্যাংশ দিয়ে বিনিয়োগকৃত টাকা উঠে আসতে সময় লাগবে ৩২৯ বছর। সাধারণত ১৫ থেকে ১৮ পর্যন্ত পিই রেশিওতে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন বিশ্লেষকরা। উচ্চ পিই রেশিও হওয়ায় এ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হওয়া সত্ত্বেও এ বছর বেশ কয়েকদিন কোম্পানিটি ছিল শীর্ষ লেনদেনকৃত কোম্পানির একটি। তালিকাভুক্ত কোম্পানি জেএমআই সিরিঞ্জের পিই রেশিও ১৬৫। এ কোম্পানিটিও বেশ কয়েকদিন ছিল শীর্ষ লেনদেনের তালিকায়। গতকাল বুধবার এ কোম্পানির হল্ট ট্রেড (কোনো বিক্রেতা ছিল না) পর্যন্ত হয়েছে। পাশাপাশি দাম বাড়ার শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায়ও ছিল এ কোম্পানির নাম। বস্ত্র খাতের অপর কোম্পানি রহিমা টেক্সটাইলের পিই রেশিও ৬৮৫। উচ্চ পিই রেশিও সত্ত্বেও এ কোম্পানিটি গতকাল হল্ট ট্রেড হয়েছে। ওসমানিয়া গ্লাস কোম্পানির পিই রেশিও ২৬২। গতকাল হল্ট ট্রেড হয়েছে এ কোম্পানিটিরও। পাশাপাশি দাম বাড়ার শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায়ও ছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, পিই রেশিও যত কম, ওই শেয়ারে বিনিয়োগে ঝুঁকিও তত কম। অথচ অতি উচ্চ পিই রেশিও হওয়া সত্ত্বেও কোম্পানিগুলোর লেনদেন হচ্ছে অনেক বেশি। পাশাপাশি বিক্রেতাই পাওয়া যাচ্ছে না! অর্থাত্ বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানিগুলোতে অনেক বেশি লেনদেন করছেন। ডিএসই’র তথ্যে দেখা গেছে, এ কোম্পানিগুলো প্রায়ই শীর্ষ ১০ লেনদেনকৃত কোম্পানির তালিকায় উঠে আসছে। দাম বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত ডিএসই কর্তৃপক্ষ সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের লেনদেন স্থগিত পর্যন্ত করেছে। এমনকি বিএসইসি কিছু কোম্পানির দর বাড়ার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি দেখেশুনে বিনিয়োগ করারও পরামর্শ দিয়েছে। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১০ এর ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও অনেকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বিবেচনা করছেন না। গুজবের উপর ভিত্তি করেই এসব কোম্পানিতে তারা বিনিয়োগ করছেন বলে জানা গেছে। এ ধরনের কোম্পানিতে বিনিয়োগের কারণ জানতে চাইলে মাসুদুর রহমান বাবু (উচ্চ পিই সম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগকারী) বলেন, কম মূলধন সম্পন্ন কোম্পানিগুলো ম্যানুপুলেট (কারসাজি) করা সহজ হয়। আর বাজারে বড় বড় প্লেয়াররাও এ শেয়ার নিয়েই কারসাজি করে। ফলে এ ধরনের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে লাভের সম্ভাবনা বেশি। এক্ষেত্রে ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দিলে তিনি বলেন, ঝুঁকিহীন কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজারে নেই। আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান ইত্তেফাক’কে বলেন, বাজারে কিছু বিনিয়োগকারী রয়েছেন যারা গুজবের ভিত্তিতে অল্প সময়ের মধ্যে মুনাফা করার উদ্দেশ্যে শেয়ার ক্রয় করেন। এরা কিছু সময় লাভ করলেও বড় ধরনের ক্ষতিরও সম্মুখীন হন। ডিএসই প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ডিএসই ও বিএসইসি’র পক্ষ থেকে প্রতিদিন বিনিয়োগকারীদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে। গুজবের উপর ভিত্তি করে যেন কেউ বিনিয়োগ না করেন। তাছাড়া বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মৌল ভিত্তি দেখে বিনিয়োগ করারও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানিতে বিনিয়োগের ব্যাপারে বিএসইসি’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিনিয়োগকারীরা যেকোনো শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারেন। তবে যদি কোনো কোম্পানির দাম অতিরিক্ত চড়ে যায় সেক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসইসি খতিয়ে দেখতে পারে। যদি কোনো অনিয়ম হয় সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে পারে। বিএসইসি এ ধরনের কিছু কার্যক্রম ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে। আর প্রতিদিনই দেখেশুনে বিনিয়োগের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বিএসইসির পক্ষ থেকে। এছাড়া এ ব্যাপারে বিএসইসি’র কিছু করার নেই। সিভিও পেট্রো কেমিক্যালের মূলধন ১৮ কোটি টাকা। জেএমআই সিরিঞ্জের মূলধন ১১ কোটি টাকা। আর রহিমা টেক্সটাইল ও উসমানীয়া গ্লাসের মূলধন যথাক্রমে ২ কোটি ২০ লাখ ও ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা।