১০-২৫ লাখ টাকায় বিক্রি হয় বোমা প্যাকেজ!

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪২
রাজধানীতে বোমা তৈরি থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো পর্যন্ত পুরো বিষয়টি সম্পাদন করে থাকে বেশ কয়েকটি গ্রুপ। হরতাল বা কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের ডাক পড়ে। তারপর সব গ্রুপ একত্রিত হয়ে বোমা তৈরি, বহন ও বিস্ফোরণের কাজটি করে। তবে এই ‘বোমা প্যাকেজে’র জন্য কোন নির্ধারিত টাকা নেই। যে গ্রুপ যত বেশি সহিংসতা ঘটাতে পারে এবং মিডিয়াতে ফলাও করে এই সহিংসতার খবর প্রচার পেলে সে গ্রুপের ‘মূল্য’ তত বাড়ে। এ হিসাবে মিডিয়াতে ফলাও করে প্রচার হওয়া ‘বোমা প্যাকেজের’ জন্য এখন খরচ করতে হয় ১০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। অথচ এক বছর আগেও ‘বোমা প্যাকেজের’ জন্য বিভিন্ন খরচ করতে হতো পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদে এসব চমকপ্রদ তথ্য জানিয়েছেন ‘বোমা প্যাকেজে’র সঙ্গে সম্পৃক্ত আব্দুর রহমান। পুলিশের ডায়েরিতে তার নাম বোমা রহমান (৩০)। ডিবি পুলিশ গত ৯ নভেম্বর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ- কমিশনার ছানোয়ার হোসেন জানান, বোমা রহমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে নগরীর বিভিন্ন থানায় ৯টি মামলা রয়েছে। পুরনো ঢাকায় রহমানসহ তিন জনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বোমা তৈরি ও বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছিল। পুলিশ দীর্ঘদিন তাদের খুঁজ ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে বোমা রহমান ‘বোমা প্যাকেজে’র সঙ্গে সম্পৃক্ত অপর দুই জনের নাম প্রকাশ করেননি। অবশ্য ছানোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, এই দুই জনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আরো জানান, পুরনো ঢাকার বংশাল এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা রহমান খুব অল্প বয়সেই বোমা বানানোর দক্ষতা অর্জন করে। রহমানের মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে রহমান বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এ কারণে হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে পুরনো ঢাকায় বোমা বিস্ফোরণ বা গাড়িতে আগুন দেয়ার জন্য লোক ভাড়া করার দায়িত্ব ছিল তার উপর। ‘বোমা প্যাকেজে’র টাকাটা কে বা কারা প্রদান করে থাকে- এমন প্রশ্নের জবাবে রহমান জানিয়েছেন, ‘কে টাকার জোগান দিয়ে থাকে তা জানি না। তবে বিভিন্ন মাধ্যম হয়ে টাকাটা আমার হাতে পৌঁছাতো। এরপর বোমা প্যাকেজ গ্রুপ ভাড়া করতাম।’ ডিবির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ছানোয়ার জানান, আগে যারা পেশাগত ভাবে বোমা তৈরি করতো তাদের অধিকাংশকেই ইতিপূর্বে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা বোমা তৈরি করে ছিনতাকারী, সন্ত্রাসী বা ডাকাত গ্রুপের কাছে সরবরাহ করতো; কিন্তু সাম্প্রতিক সময় যারা বোমা তৈরি করছে তারা নতুন নতুন গ্রুপ। তাছাড়া এসব বোমা (হরতাল কর্মসূচিতে বিস্ফোরিত) তৈরি খুব সহজ। এটা একবার দেখলেই যে কেউ বানাতে পারে। এখানে কোন সার্কিট বা ডিভাইসের প্রয়োজন পড়ে না। তবে এ জন্য প্রয়োজন সতর্কতা। তাছাড়া বোমা তৈরি ও বিস্ফোরণের জন্য মোটা অংকের টাকাও পাওয়া যাচ্ছে বলে অনেকেই এ কাজে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। তিনি আরো জানান, বোমা তৈরি ও বিস্ফোরণের ঘটনায় ইতিমধ্যে যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা সবাই প্রায় একই ধরনের তথ্য দিয়েছে। তারা আরো জানিয়েছে, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের আগে তারা মিডিয়া কর্মীদের মোবাইল ফোনে অবহিত করে থাকে। আর মিডিয়া কর্মীরা ক্যামেরা নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার পরপরই বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।