ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন যুগের সূচনা

আপডেট : ২০ মে ২০১৯, ২২:২২

ক্যান্সার বা কর্কটরোগ মূলত অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত রোগসমূহের সমষ্টি। এখনো পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার রোগ সহজে ধরা পড়ে না। ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভালো কোনো চিকিত্সা দেওয়াও সম্ভব হয় না। বাস্তবিক অর্থে এখনো পর্যন্ত ক্যান্সারের চিকিত্সায় পুরোপুরি কার্যকর কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। তবে এবার ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন যুগের সূচনার পথে তারা। ঐ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তারা যার মাধ্যমে ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ আবিষ্কার করতে সক্ষম হবেন।

ক্যান্সারের আধুনিক চিকিত্সা ব্যবস্থায় কেমোথেরাপি একটি বহুল ব্যবহূত চিকিত্সা পদ্ধতি। কেমোথেরাপি এমন এক ধরনের চিকিত্সা যার মাধ্যমে ক্যান্সারের কোষগুলোকে ধ্বংস করা হয় এবং সেগুলোর বিস্তার থামানো হয়। তবে সব ধরনের ক্যান্সারের জন্য এক ধরনের চিকিত্সা প্রযোজ্য হয় না; কিন্তু বিজ্ঞানীরা কেমোথেরাপির বদলে এখন এমন ওষুধ আবিষ্কারের কথা ভাবছেন যেটি ক্যান্সারের প্রধান কারণ অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে। এই ওষুধ আবিষ্কার হলে ক্যান্সারে আক্রান্ত কোষকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলা সম্ভব হবে অথবা আক্রান্ত কোষ নতুন করে কোনো কোষকে আক্রান্ত করতে পারবে না। এর ফলে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর আরো বেশি দিন বাঁচার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে এই প্রকল্পে ৩০০ জনের মতো বিজ্ঞানী এক সঙ্গে কাজ করবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সব ধরনের ক্যান্সার মোকাবেলার পথ খুঁজতে চান বিজ্ঞানীরা। এই বিজ্ঞানী দল তাদের গবেষণার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেও কাজে লাগাবে। ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক পল ওয়ার্কম্যান আশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যেভাবে কাজ করার কথা ভাবা হচ্ছে তাতে আশা করা যায় একদিন হয়তো ক্যান্সারকে আমরা ভালোভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবো। এটি করতে পারলে ক্যান্সারকে পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব হবে। আর পুরোপুরি ক্যান্সারকে সারিয়ে তোলা না গেলেও ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের বেশি দিন বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে। ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীরা সাধারণত খুব সহজেই অন্য রোগে আক্রান্ত হয়। এই ওষুধ আবিষ্কার করা সম্ভব হলে আক্রান্ত রোগীরা সহজে অন্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকেও মুক্তি পাবেন।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিজ্ঞানীরা এইচআইভির মতো মরণব্যাধির বিরুদ্ধে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এবার আমাদের লড়াই ক্যান্সারের বিরুদ্ধে। হয়তো একদিন আমরা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়েও জয়ী হবো। ক্যান্সারে আক্রান্ত কোষের বিরুদ্ধে বিশেষ ঐ ওষুধ কীভাবে কাজ করে তা আরো ভালোভাবে বোঝার জন্য আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নেব। ক্যান্সারে আক্রান্ত কোষের বিরুদ্ধে ঐ ওষুধকে এমনভাবে কার্যকরী করে তোলা হবে যাবে আক্রান্ত কোষকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলা সম্ভব হয় অথবা নতুন করে যাতে অন্য কোনো কোষকে আক্রান্ত করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করবে। বর্তমানে ক্যান্সার চিকিত্সায় ব্যবহূত ওষুধগুলোকে নিয়ে সমন্বিতভাবে গবেষণার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে নির্দিষ্ট ওষুধ খুঁজে বের করবে। প্রয়োজন হলে নতুন ওষুধও খুঁজে বের করবেন তারা। -ডেইলি মেইল