পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা দেশের সর্ববৃহত্ বৌদ্ধ মন্দির রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারে গতকাল বৃহস্পতিবার দু’দিনব্যাপী বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উত্সব দানোত্তম কঠিন চীবর শুরু হয়েছে।
রাজবন বিহার পাশে ৪০ তম কঠিন চীবর দান উত্সবের প্রথম দিনে চরকায় সুতা কেটে বেইন ঘর উদ্বোধন করেন চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। পরে চরকা-চরকির সুতা কাটার উদ্বোধন করেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় ও কদম বালা তংচংগ্যা। এর আগে বেইন ঘরে আগত পুণ্যার্থীদের পঞ্চশীল প্রদান করেন রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারের প্রধান শ্রীমত্ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজবন বিহার উপাসক-উপাসিকা পরিষদের সহ-সভাপতি গৌতম দেওয়ান, মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিরুপা দেওয়ান, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মিনতি চাকমা, ডা. নিখিল চন্দ্র বড়ুয়াসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবগ।
এর আগে বেলা আড়াইটায় সূত্র পাঠ করে বেইন ঘর উদ্বোধন করেন মহাপরিনির্বাণপ্রাপ্ত মহাসাধক শ্রীমত্ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের শিষ্যমন্ডলী। এসময় রাজবন বিহারের আবাসিক ভিক্ষুপ্রধান শ্রীমত্ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির, শ্রীমত্ ইন্দ্রগুপ্ত মহাস্থবির, শ্রীমত্ জ্ঞানপ্রিয় মহাস্থবিরসহ রাজবন বিহারের আবাসিক ভিক্ষুসংঘ। পরে বিকাল তিনটায় ফিতা কেটে বেইন ঘরের চরকায় সুতা কাটা উদ্বোধন করেন রাজবন বিহারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়।
আজ শুক্রবার ২৪ ঘন্টায় তৈরিকৃত এ চীবর ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানিকভাবে ভিক্ষু সংঘের কাছে দানের মধ্যেদিয়ে ২ দিনব্যাপী উত্সবের সমাপ্তি ঘটবে। এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাঙ্গামাটি শহর উত্সবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, এই অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে একদিকে আড়াই হাজার বছর পূর্বে ভগবান গৌতম বুদ্ধ প্রবর্তিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালিত হচ্ছে। অন্যদিকে জুমের উত্পাদিত তুলা বয়ন শিল্পের মাধ্যমে পার্বত্যাঞ্চলের কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করা হচ্ছে। এদিকে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে কঠিন চীবর দানোত্সবকে ঘিরে মুখর পাহাড়ি জনপদ রাঙ্গামাটি।
