যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে ভ্রমণের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৩, ২২:০৯
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে সঠিক তথ্য দেয়ার পরও ভ্রমণের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে। যৌক্তিকতা প্রমাণে আবেদনকারী ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাবেন না। আর ভুল তথ্য-উপাত্ত দিলে ভবিষ্যতে তাদের ভিসা পাওয়া আরো কঠিন হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের কনসাল জেনারেল জেমি ফুস এ কথা জানান। আমেরিকান সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে তার সঙ্গে দূতাবাসের তথ্য ও গণমাধ্যম কর্মকর্তা কেলি ম্যাকার্থি উপস্থিত ছিলেন। জেমি ফুস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন কিছু নয়। যুক্তরাষ্ট্র সফরে আগ্রহীকে অবশ্যই বৈধ ও যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে হবে। ভিসা পেতে দালাল ও এজেন্টদের তত্পরতা সম্পর্কে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে সহযোগিতার কথা বলে তারা বিশাল অংকের অর্থ নেয়। কিন্তু তারা কাউকে কোনো ভিসা দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। ভিসা দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এসব দালাল ও এজেন্টরা ভিসা আবেদনকারীকে সম্ভাব্য প্রশ্নগুলোর উত্তর শিখিয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্রও তৈরি করে দেয়। তবে ভিসা সংশ্লি¬ষ্ট কর্মকর্তারা এসব চিহ্নিত করতে পারেন। তিনি বলেন, ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীর সততা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সততা ও সত্য কথা বললেই যে ভিসা পাওয়া যাবে তা নয়। সঠিক তথ্য উপস্থাপনের পরও সাক্ষাত্কার গ্রহণকারী পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হলে ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে। অসত্য তথ্য উপস্থাপন করলে ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়া আরো কঠিন হয়ে পড়বে। জেমি ফুস বলেন, আবেদনকারীর সম্ভাব্য সফরের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হয়। মুখোমুখি সাক্ষাত্কার গ্রহণের মাধ্যমে ভিসা সম্পর্কিত কর্মকর্তা আবেদনকারীর জীবনমান, নিজ দেশের সঙ্গে যোগসূত্র ও যুক্তরাষ্ট্র সফরের যৌক্তিকতা সম্পর্কে ধারণা পান। তিনি বলেন, ২০১১-২০১২ সালের (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) তুলনায় ২০১২-২০১৩ সালে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা’র আবেদন ও ভিসা পাওয়ার হার দ্বিগুণ হয়েছে। গত বছর (অক্টোবর, ২০১২ থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৩) বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ২৫ হাজারেরও বেশি ‘ভিজিটর ভিসা’ এবং দুই হাজার দুইশো’র’ বেশি ‘স্টুডেন্ট ভিসা’ দিয়েছে। শিক্ষার্থী ভিসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আবেদনকারীকে অবশ্যই দেশটিতে প্রথম বছর শিক্ষা খরচ চালানোর সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীর শিক্ষা কার্যক্রম বিষয়ক বাকি বছরগুলোর খরচ চালানোর যৌক্তিক পরিকল্পনা থাকতে হবে। আবেদনকারীকে অবশ্যই ইংরেজিতে দক্ষ ও প্রকৃত শিক্ষার্থী হতে হবে।