একদিকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের তোড়জোড়, অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে নির্বাচন বর্জন ও সহিংস তত্পরতা অব্যাহত রাখার আয়োজন। কোন দিকের পাল্লা ভারি? বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে আওয়ামী লীগ কি একটি ক্রেডিবল ইলেকশন করতে পারবে? অন্যদিকে আন্দোলনের নামে বিএনপি জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে ক্রমাগত সন্ত্রাসী তত্পরতা চালাচ্ছে। এই তত্পরতা দ্বারা কি সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মানতে বাধ্য করতে অথবা সরকারের পতন ঘটাতে পারবে?
বিএনপি’র এক বন্ধু স্থানীয় নেতাকে জিজ্ঞাসা করেছি, আপনারা কি হরতালের নামে এই সন্ত্রাস ছড়িয়ে সরকারকে দাবি মানতে অথবা তাদের পতন ঘটাতে পারবেন? নেতা অকপটে স্বীকার করলেন, সে ক্ষমতা বিএনপি’র নেই। বলেছি, তাহলে দিনের পর দিন জনজীবনে এই উপদ্রব সৃষ্টি করে আপনাদের লাভ কি? নেতা বললেন, এই উপদ্রব সৃষ্টির ক্ষমতাও বিএনপি’র একার নেই। তাই জামায়াতের সঙ্গে জোট করতে হয়েছে। জামায়াতেরও আবার গণআন্দোলন করার ক্ষমতা ও জনসমর্থন নেই। তারা হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও বোমাবাজিতে পারদর্শী। আন্দোলনের নামে তারা তাই করছে। এবং তাদের এই তাণ্ডব ও বোমাবাজির উদ্দেশ্যও আলাদা। বিএনপি’র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির আন্দোলনের আড়ালে তারা চায় ’৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করা।
নেতাকে বলেছি, আপনারা জেনে-শুনেও জামায়াতকে আপনাদের আন্দোলন সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে দিনের পর দিন দেশে বর্বরতা চালাতে দিচ্ছেন? নেতা বললেন, তার দল ভাবছে, এভাবে দেশে ভাঙচুর চালিয়ে সরকারের পতন ঘটানো না গেলেও একটি তৃতীয় শক্তির অভ্যুত্থানের পথ খোলাসা করে দেওয়া যাবে। যারা এসে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাবে। আর যদি তা না হয় তাহলে এই সন্ত্রাস অব্যাহত রেখে অন্যান্য ছোট-বড় দলগুলোকে ভয় দেখানো, তারা যাতে নির্বাচনে অংশ না নেয় এবং আওয়ামী লীগও নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে না পারে।
নেতাকে তাদের দলের বর্তমান স্ট্রাটেজি সম্পর্কে আমার সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছি এবং বলেছি, তার দলের এই দু’টি কৌশলই ত্রুটিপূর্ণ বলে আমার মনে হয়েছে। প্রথম কথা গাড়িঘোড়া পোড়ানো, নিরীহ পথচারী ও বাসের আরোহীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার বীভত্স চেষ্টা এবং সাধারণ নাগরিক জীবনে উপদ্রব ও ভীতি ছড়ানো ছাড়া বিএনপি জামায়াত এখন পর্যন্ত দেশে বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টি করতে পারেনি। পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে এবং নিয়ন্ত্রণে বলেই প্রধানমন্ত্রী বিদেশে নিশ্চিত মনে ঘুরে বেড়াতে পারছেন। সুতরাং তৃতীয় শক্তির আবির্ভাবের অজুহাত কোথায়?
বিএনপি’র দ্বিতীয় উদ্দেশ্য, সরকারের নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া। তাও সফল হবে কি? ছোট দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টি (জেপি) ইতিমধ্যেই নির্বাচনে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। জাতীয় পার্টির এরশাদ অংশের নেতা জেনারেল এরশাদ এখন মুখে যাই বলুন, নির্বাচনে যাওয়ার ইচ্ছা না থাকলে বিকল্প ধারার ডা. বি. চৌধুরী, জাসদের (রব) আ,স.ম রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনায় বসতেন না। এরশাদ সাহেবের বহুরূপী কথাবার্তায় এই জোট হয়তো শেষ পর্যন্ত গঠিত হবে না। কিন্তু দেশে নির্বাচনী জোয়ার দেখা দিলে এই চার নেতাই যে নির্বাচনে যেতে অধিক উত্সাহী হবেন তাতে আমার কোনো সন্দেহ নেই। চাই কি এরশাদ সাহেব সুর ঘোরাতেও পারেন।
আমার একটি ধারণা, সরকার যদি নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল থাকেন এবং বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে না আসে, তাহলে সবচাইতে মজার খেলা দেখাবে জামায়াত। বিএনপির আঁচলের আড়ালে থেকে দেশময় ভাংচুর, সন্ত্রাস চালিয়ে যদি তারা দেখে ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ফাঁসি তারা রদ করতে পারছে না, তাহলে আগামী সংসদে স্বনামে অথবা বেনামে ঢুকে তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় শেষ চেষ্টা চালাবে।
ইতিমধ্যে জামায়াত বেআইনী ঘোষিত দলও হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থায় ইউরোপে নিষিদ্ধ ঘোষিত নািস পার্টির মতো নতুন নামে বা নতুন পরিচয়ে সংসদে ঢোকার চেষ্টা করা ছাড়া তাদের সামনে দ্বিতীয় পথ খোলা থাকবে না। পশ্চিমবঙ্গে যখন অবিভক্ত কম্যুনিষ্ট পার্টি ‘ইয়ে আজাদী ঝুটা হায়’ শ্লোগান তুলে সন্ত্রাসী তত্পরতায় নেমেছিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল, তার আগেই জ্যোতি বসু রাজ্য পরিষদে প্রথমে একমাত্র কম্যুনিষ্ট সদস্য হিসেবে ঢুকেছিলেন।
বর্তমান বাংলাদেশে জামায়াত যদি দেখে বিএনপি নির্বাচনে যাচ্ছে এবং তারা নিজেদের দলীয় পরিচয় ও দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারছে না, তাহলে তারা যতোটা সম্ভব বেশি আসনে বিএনপির মনোনয়ন ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী দেবে। সেই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও তারা প্রার্থী দাঁড় করাবে। সেই সঙ্গে সকল আসনে বিএনপি প্রার্থীদের ভোট দিতে জামায়াত সমর্থক ভোটারদের নির্দেশ দেবে। তাদের এই কৌশলের কথা তারা আগেই প্রকাশ করে দিয়েছে এবং তা ঢাকার কাগজে প্রকাশিত হয়েছে।
কিন্তু বিএনপি যদি নির্বাচনে না যায়? আমার ধারণা, এখানেই জামায়াতের মতো সন্ত্রাসী ও নীতিহীন দল তাদের দুমুখো নীতির চরম খেলা দেখাবে। মুখে তারা বিএনপির নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত সমর্থন জানাবে; নির্বাচন বানচাল করার বর্বর সন্ত্রাসী তত্পরতাও চালাবে কিন্তু একইসঙ্গে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাদের নিশ্চিত আসনগুলোতে প্রার্থী দেবে। তাতে যদি কোনো কোনো কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে তাদের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, তাতে তারা পিছপা হবেন না। বিএনপিকে কিল খেয়ে কিল হজম করতে হবে।
বিএনপি’র নিজের অবস্থাও হবে এক্ষেত্রে অত্যন্ত সঙ্কটজনক। আওয়ামী লীগ যদি সন্ত্রাসের কাছে নতি স্বীকার না করে মহাজোট নিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল থাকতে পারে, দেশে নির্বাচনী জোয়ার বহাতে পারে, মহাজোটের শরিক দলগুলো ছাড়াও আরও ছোট ছোট দল নির্বাচনে অংশ নেয়, তাহলে বিএনপির পক্ষে ঘর সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। বিএনপি’র নেতা-পর্যায়ে ‘দোদীল-বান্দার’ সংখ্যা বেশি। বিভিন্ন দল ও মতের লোকজন ক্ষমতার লোভে দল ছেড়ে বিএনপিতে এসে জড়ো হয়েছেন। বিএনপিতে তাদের অবস্থান মূলত ক্ষমতার জন্য, কোনো নির্দিষ্ট নীতি বা আদর্শের জন্য নয়। সুতরাং বিএনপি নির্বাচনে যাবে না এবং এখনই ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না এমন সম্ভাবনা দেখা দিলে বিএনপি’র অনেক শিরোমণি নেতার শিরঃপীড়া দেখা দিবে।
অতীতেও আমরা দেখেছি, বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা বিএনপি ক্ষমতায় না থাকলে দল ছেড়েছেন। জাতীয় পার্টিতে গিয়ে জুটেছেন। জাতীয় পার্টি ক্ষমতা হারালে তারা আবার বিএনপিতে এসে জুটেছেন। এর একটা বড় উদাহরণ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। বর্তমানেও যদি দেখা যায়, বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, ক্ষমতায় যাচ্ছে না, তাহলে তাদের একের বেশি শীর্ষ নেতা দল ছাড়বেন না, নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য দল বদল করবেন না এমন গ্যারান্টি কে দিতে পারেন? দলের নিশ্চিত ভাঙন-আশংকার মুখে আপোষহীন নেত্রী তখন কি করেন, সেটাই দেখার থাকবে।
বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে মহাজোট ও আঠারো দলীয় জোট ছাড়াও একটি অঘোষিত জোট বা শিবিরের আবির্ভাব-সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। আমি এর নাম দিয়েছি ইউনূস-শিবির। এই শিবিরের নেতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আশায় আশায় দিন গুনছেন, বিএনপি এবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় যাবে এবং তিনি গ্রামীণ ব্যাংক ফিরে পাবেন। এই আশায় বিএনপিকে প্রকাশ্য সমর্থন দিতে মাঠে নেমেছেন এবং বিএনপিও ঘোষণা দিয়েছে তারা ক্ষমতায় গেলে গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে আওয়ামী সরকারের সকল ব্যবস্থা বাতিল করে দেবেন।
এই অবস্থায় বিএনপি যদি নির্বাচনে না যায়, তাহলে তো আওয়ামী লীগেরই ক্ষমতায় ফিরে আসার সম্ভাবনা বেশি এবং তাতে গ্রামীণ ব্যাংক ড. ইউনূসের নাগালের বাইরে থেকে যাবে। এটা তিনি হতে দিতে চাইবেন আমার ক্ষুদ্রবুদ্ধি তা বলে না। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটানোর জন্য তিনি প্রয়োজনে তার শিবিরকে সক্রিয় করবেন। তার পাশে ড. কামাল হোসেন আছেন। নোবেল জয়ীকে নেতা হিসেবে বরণ করে তৃতীয় শিবির গঠনে উত্সুক নবীন প্রবীণ আরও অনেকে আছেন। যেমন মাহমুদুর রহমান মান্না, জেনারেল (অব) ইব্রাহিম এবং আরও কেউ কেউ।
ড. ইউনূস চাইলে ডা. বি চৌধুরী, কাদের সিদ্দিকী প্রমুখও তাদের দল নিয়ে জেনারেল এরশাদের পরিবর্তে তার আশীর্বাদপুষ্ট নতুন জোট গঠন করে হয়তো ফেলবেন। সঙ্গে একটি সুশীল সমাজ আছে, দুটি অনুগত মিডিয়া আছে, ইউনূস সেন্টার আছে। শক্তিশালী নির্বাচনী প্রচারণা এরা গড়ে তুলতে পারবেন। বিএনপি নির্বাচনে না এলে ড. ইউনূস আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটানোর জন্য এই বিকল্প পন্থার কথাও ভাবতে পারেন। তিনি এখন মুখে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বিএনপিকে খুশি রাখতে চাইলেও বেগম জিয়া যদি নির্বাচনে না আসেন, তাহলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক নামক সোনার হরিণটি আবার দখলে আনার জন্য বিকল্প পন্থার কথা ভাববেন না তা মনে হয় না।
এক্ষেত্রে ইউনূস-শিবির অন্য কৌশলও গ্রহণ করতে পারেন। ড. ইউনূস হয়তো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি’র সঙ্গে একাত্মতা বজায় রাখতে চাইবেন। কিন্তু তার সমর্থক ও অনুগত ছোট ছোট রাজনৈতিক দল ও নেতারা, গণফোরামসহ স্বতন্ত্রভাবে অথবা জোট বেঁধে নির্বাচনে অংশ নিতে এগিয়ে আসতে পারেন। এদের মনের গোপন আশা, বাজারেতো গুজব চলছেই আওয়ামী লীগ এবারে নির্বাচনে জয়ী হবে না এবং ইউনূস-শিবিরের দুটি মিডিয়া তো অনবরত তালি বাজিয়ে সকলকে জানাচ্ছে, জনমত সমীক্ষায় আওয়ামী লীগের সমর্থন কমে গেছে; তাতে নির্বাচনে অংশ নিলে এই ছোট ছোট দল বা তাদের জোট নির্বাচনে বিএনপির অনুপস্থিতিতে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে পারবে। এই আশায় তাদের নির্বাচনে যোগ দেয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
জেনারেল এরশাদের কথা আগেই বলেছি। তিনি এখন ‘সকলের অংশগ্রহণ (অর্থাত্ বিএনপি) ছাড়া নির্বাচনে যাব না; আমি বরং জেলে যেতে প্রস্তুত বলে যতোই হম্বিতম্বি করুন, তিনি তার জাতীয় পার্টিকে নিয়ে নিশ্চিতভাবেই নির্বাচনে যাবেন। তিনি যদি দেখেন বিএনপি’রও একটি ভগ্নাংশসহ ছোট বড় বহু দল নির্বাচনে যোগ দিয়েছে, তাহলে হয়তো সুর ঘুরিয়ে বলবেন, নির্বাচনে সকলের অংশগ্রহণ সম্পর্কে তার শর্তটি পূর্ণ হয়েছে। তিনি মহাজোটেই থাকবেন এবং নির্বাচনে অংশ নেবেন। আর যদি দেখেন বিএনপি’তে ভাঙন ধরেনি, তারা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন বর্জন করছে, তাহলে তিনি মহাজোট ত্যাগ করে কিছু ছোট ইসলামী দল নিয়ে জোট বেঁধে নির্বাচনে যাবেন এবং তখন তার যুক্তি হবে দেশকে আওয়ামী লীগের কুশাসন থেকে মুক্ত করার জন্যই তিনি নির্বাচনে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগকে ফাঁকা মাঠ ছেড়ে দেয়া যায় না।
এরশাদ সাহেব কি করবেন তা তিনিই জানেন। তবে তার বহু বিচিত্র রূপের মধ্যে একটা রূপ স্পষ্ট; তিনি সুবিধামতো যেকোনো কথা বলতে পারেন, যেকোনো কথা পাল্টাতে পারেন। তিনি সুবুদ্ধির অধিকারী হলে সকালে এক রকম, বিকালে আরেক রকম কথা না বলে নিজের দলের বিএনপি-পন্থিদের চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করতেন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জে.পি’র সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে ফেলে মুক্তভাবে মহাজোটে শক্তিশালী অবস্থান নিতেন, অথবা মহাজোটের বাইরে থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়া শুধু নয়, সকল আসনে প্রার্থী দিতেন। এখনো তার সামনে সময় ও সুযোগ আছে। তিনি ব্রিটেনের তৃতীয় প্রধান দল লিবারেল ডেমোক্রাট পার্টির মতো বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনো ভূমিকা গ্রহণ করতে পারেন।
সে যাই হোক, আমার ধারণা, বিএনপি আবার হরতাল (সন্ত্রাস ও নিরীহ মানুষের মৃত্যু) ডাকার প্রস্তুতি নিলেও দেশের মানুষকে আরও ভীতিগ্রস্ত করতে পারবে; আন্দোলনে নামাতে পারবে না। আর সন্ত্রাস দ্বারা কোনো রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করা যায় না। হরতাল ডাকলে দেখা যায়, ঢাকায় বিএনপি’র শীর্ষ নেতারাই ভয়ে রাস্তায় বের হয় না, জনতাকে তারা কিভাবে রাস্তায় নামাবেন? অন্যদিকে চোরাগোপ্তা হামলা, অগ্নিদগ্ধ করে বালক-বৃদ্ধ হত্যা ইত্যাদি দ্বারা জামায়াত এখন সারা দেশে পরিচিত হয়েছে মার্চেন্ট অব ডেথ হিসেবে। অর্থাত্ জামায়াত শুধু ধর্ম ব্যবসায়ী নয়, মৃত্যু ব্যবসায়ীও।
এই মৃত্যু ব্যবসা দ্বারা বাংলাদেশে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান বানচাল করা যাবে না। এটি আমার শুধু ধারণা নয়, বিশ্বাসও যে মহাজোট দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলে যথাসময়ে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তা একদলীয় নির্বাচন হবে না, হবে বহুদলীয় নির্বাচনই।
লন্ডন ১৬ নভেম্বর, শনিবার, ২০১৩
