ক্রিমিয়ায় নতুন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে রাশিয়া

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৩৩

ক্রিমিয়ায় আরো বেশিসংখ্যক ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অত্যাধুনিক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে রাশিয়া। রুশ নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক তিনটি ইউক্রেনীয় জাহাজ ও এগুলোর নাবিকদের আটকের ঘটনায় দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে বুধবার মস্কো এমন কথা জানিয়েছে। এদিকে ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া ব্যাপক হারে সেনা মোতায়েন করেছে এমন অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো।

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক এলাকার একজন মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে রুশ বার্তা সংস্থাগুলো বলেছে, শীঘ্রই এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি ব্যাটালিয়ন ক্রিমিয়ায় পৌঁছাবে এবং এ বছরের শেষ নাগাদ তা কর্মক্ষম হবে। ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি সম্ভবত অনেকদিন ধরে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে ঘোষণার সময়টি এই ধারণা দেয়, রাশিয়া যেটাকে নিজের ভূমি ও জলসীমা মনে করে তা রক্ষায় এটি ইউক্রেন ও পশ্চিমা শক্তিকে পাঠানো একটি বার্তা। ক্রিমিয়ায় এরই মধ্যে তিন ব্যাটালিয়ন বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন রয়েছে। এগুলোর পাল্লা চারশ কিলোমিটার পর্যন্ত, যা রাশিয়াকে কৃষ্ণসাগরের উপরে আকাশের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিয়েছে। নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হলে তা রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমানা বৃদ্ধি করবে।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো বলেছেন, তার দেশের সীমান্তে রাশিয়া দ্রুতগতিতে সেনা মোতায়েন বাড়িয়ে চলেছে। এর ফলে ইউক্রেন এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। মঙ্গলবার টেলিভিশনে প্রচারিত এক সাক্ষাত্কারে তিনি এমন আশঙ্কার কথা জানান। পোরোশেঙ্কো বলেন, আমাদের সীমান্তে রুশ ট্যাংকের সংখ্যা তিনগুণ করা হয়েছে। সীমান্তে রাশিয়ার মোতায়েন করা সেনা ইউনিটের সংখ্যাও নাটকীয়ভাবে বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, রাশিয়ার পক্ষ থেকে সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অর্থই হচ্ছে ইউক্রেন এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকির মাঝে রয়েছে। তবে তিনি সীমান্তে রুশ সেনা বাড়ানোর কথা বললেও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ক্রিমিয়া রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর থেকেই সেখানে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে রাশিয়া।

রাশিয়ার হাতে আটক ইউক্রেনের নাবিকদের বিষয়ে পোরোশেঙ্কো বলেন, তাদের মুক্তির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, নাবিকদের বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু মস্কোর পক্ষ থেকে এখনও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।