গফরগাঁওয়ে বিএনপি-আওয়ামী লীগ-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১০

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:০৯
জেলার গফরগাঁওয়ে গত শুক্রবার রাতে বিএনপি কর্মীদের সাথে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ সদস্যদের সংঘর্ষে পৌর শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এক ঘন্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে ৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ১টি মটরসাইকেলে আগুনে লাগিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৪০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ২০ রাউন্ড গুলি করে। এ ঘটনায় পুলিশের ৩ সদস্যসহ অন্তত ১০জন আহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা সূত্রে জানা যায়, জেলা রেলষ্টেশনে গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে যুবদল কর্মী ইমরান হোসেন বাট্টুকে (২২) আওয়ামী লীগ কর্মীরা রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ ঘটনার জের ধরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে যায়। খবর পেয়ে গফরগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সাথে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, গোলাগুলি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পৌরশহরের শিবগঞ্জ রেলক্রসিং, গফরগাঁও-ভালুকা সড়কের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, পাটমহল মোড় এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে যায়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বিএনপির কর্মীরা শিবগঞ্জ রেলক্রসিং এলাকায় অজ্ঞাত এক মটরসাইকেল আরোহীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে মটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। অন্যদিকে সংঘর্ষ চলাকালে জেএম মাদ্রাসা মার্কেটের ২টি দোকানসহ শিবগঞ্জ রেলক্রসিং এলাকায় প্রায় ৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শাটার রামদা দিয়ে কুপিয়ে ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষে পুলিশ কনস্টেবল রোবেল হোসাইন, বিল্লাল হোসেন, মো. শাহীনসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিত্সা নিয়েছে। গফরগাঁও থানার ওসি আছাবুর রহমান বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বিএনপির সশস্ত্র কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের ৩ কনস্টেবল আহত হয়। পুলিশ ৪০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।