মায়ের দুধ শিশুর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ খাবার

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:২৪
মায়ের দুধ শিশুর জন্য শিশুর জন্য মায়ের দুধ সর্বাপেক্ষা উত্কৃষ্ট খাদ্য। যার সমতুল্য কোনো খাবার নেই। মায়ের দুধকে শিশুর পুষ্টির ভাণ্ডার বলা হয়। খাদ্যের সব উপাদান মায়ের দুধে পরিমাণ মতো বিদ্যমান। জন্মের পর হতে নিয়মিতভাবে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে শিশুরা সত্যিকারভাবেই বলিষ্ঠ, রোগমুক্ত ও মেধাবী হিসেবে গড়ে ওঠে। তাই শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারে সবাইকে যত্নবান হওয়া খুবই প্রয়োজন। মাতৃদুগ্ধ পানে মায়েদের সচেতন করে তোলার জন্য প্রতি বছর আগস্টের প্রথম সপ্তাহব্যাপী মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করা হয়। মায়ের দুধ যেমন পুষ্টিকর তেমনি বিশুদ্ধ, নিরাপদ, আদর্শ, সর্বশ্রেষ্ঠ খাবার। একটি শিশুর দৈহিক-মানসিক সুষ্ঠু, সুন্দর বিকাশের জন্য যেসব খাদ্য উপাদান প্রয়োজন তার সব উপাদানই সঠিকমাত্রায়, সঠিক তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ অবস্থায় মজুদ থাকে। তাই জন্মের পর পরই শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। মায়ের বুকের প্রথম হলদে, আঠালো ও স্বচ্ছ যে দুধ বের হয় তাকে শাল দুধ বলে বা কোলস্ট্রাম বলা হয়। এ দুধে শিশুর জন্য সব খাদ্য উপাদান বিদ্যমান। যা শিশুকে সকল প্রকার রোগ-জীবাণু থেকে বাঁচিয়ে রাখে এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। বাইরের বাতাসের সংস্পর্শে এই দুধ আসে না বলে তা জীবাণুমুক্ত ও সম্পূর্ণ নিরাপদ। শিশুকে পূর্ণ ছয় মাস পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। তারপর মায়ের দুধের পাশপাশি ঘরের তৈরি অন্যান্য খাবার খাওয়াতে হবে। কোনোক্রমেই শিশুকে এ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। দুধ পান ও দুধ দানের মাধ্যমে মা ও শিশুর মধ্যে অপার স্নেহ, মায়া, মমতা ও গভীর ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। এতে মায়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, শিশুর জন্মের প্রথম ঘণ্টায় মায়ের দুধ পান করালে ৫২ হাজার শিশুর প্রাণ রক্ষা পেতে পারে। দেশে প্রতি বছর শিশু জন্মের ২৮ দিনের মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার নবজাতক মারা যায়। জন্মের পর বুকের দুধ না খাওয়ার কারণে সারা বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি শিশু মারা যায়। সুতরাং সমাজের প্রতিটি নারীই তার সন্তানকে দুধ পান করাতে হবে এবং অন্য নারীকে এ ব্যাপারে উত্সাহ প্রদান করে জাগিয়ে তুলতে হবে।