এ গি য়ে যা ও য়া না রী

‘সংগ্রাম করেই আজকের অবস্থানে এসেছি’

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:২৭
শুরুতে আমাদের সমাজের নারীদের জন্য নতুন কোনো পথে চলাটা অনেক বেশি কঠিন। তবে যখন কাজের স্বীকৃতি মেলে তখন শুরুতে যেসব মানুষ আপনার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল তারাই আপনার পাশে এসে দাঁড়াবে— এভাবেই নিজের কথাগুলো বলছিলেন তনজু রহমান মায়া। তিনি রং হ্যান্ডি ক্র্যাফটসের স্বত্ব্বাধিকারী। অনেক সংগ্রামের পর যশোরে গড়ে তুলেছেন নিজের স্বপ্নের ফ্যাশন হাইসটি। সংগ্রাম করেছেন জীবনের সবকিছুকে বাজি রেখে। নেশা ছিল- স্বীকৃতি পেতেই হবে। পেলেনও। এখন তার শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা। মায়ার শুরুটা বেশ কঠিন এবং চমকপ্রদ। নব্বইয়ের দশকের কথা। নিতান্ত শখের বশেই হাতের কাজ করতেন। কোনো আত্মীয় কিংবা পরিচিতকে কিছু উপহার দিতে হলে নিজের হাতের কাজ করা জিনিস দিতেন। লক্ষ্য করলেন তার হাতের কাজের প্রংশসা করছেন সবাই। মূলত এখান থেকেই মনের মধ্যে বড়ো কিছু করার স্বপ্ন দানা বাঁধে। সাহস করে ৬০টি পাঞ্জাবি কিনে তাতে নিজের মতো করে হাতের কাজ করেন। এরপর ভীরুবুকে নিজের ভাইকে সেগুলো দেন। তার ভাই সেই পাঞ্জাবিগুলো নিয়ে যশোর সদরের একটি শোরুমে রাখেন। দেখা গেল ক্রেতারা পছন্দ করছেন এবং খুব দ্রুত পাঞ্জাবিগুলো বিক্রি হয়ে গেল। সাহসটা আরো বাড়লো। এবার কাজটাকে পেশা হিসেবে নেয়ার চিন্তা করলেন। কিন্তু পাশে পেলেন না কাউকে। ব্যাংক থেকে লোন পাওয়ার প্রশ্নই আসে না! ১৯৯৬ সালে এই অবস্থায় কোনো মতে ৪-৫ জনকে নিয়ে অল্প কিছু কাপড় নিয়ে শুরু করলেন ব্যবসা। কাপড় কেনা, সেটি কাটা তারপর পোশাক বানানোর পর তাতে নকশা করা এই সবকিছুই নিজে করেছেন। এই কাজের জন্য বহুদূরের নরসিংদীতেও যেতে হয়েছে নিয়মিত। হাজারটা বাধা আসলেও সেগুলোকে উপেক্ষা করে এভাবেই হাঁটি হাঁটি পা পা করে যাত্রা শুরু। এই সময়টাতে নারী হয়ে বাজারে ব্যবসা করাকে কেউ ভালোভাবে তো নেয়ইনি বরং শুনতে হয়েছে নানান কটু কথা। তবে মায়া সেসবে কান দেননি। সুফলও পেয়েছেন হাতে-নাতে। তিনি বলেন, ‘সংগ্রাম করেই আজকের অবস্থানে এসেছি।’ ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকলো। ক্রেতাদের চাহিদা মেটনোর জন্য ২০০৭ সালে যশোর সদরেই একটি ২৫০০ স্কয়ার ফিটের বড়ো শোরুম নিলেন। ২০১০ সালে পেলেন এসএমই ফাউন্ডেশন সেরা নারী উদ্যোক্তার পুরস্কার। আর গত সপ্তাহে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে পেলেন সেরার পুরস্কার। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মুক্তা দিয়ে সাজানো মায়ার এই স্বপ্ন আজ যেমন তার সংসারে অর্থনৈতিক মুক্তি এনেছে তেমনি তাকে দেখে উত্সাহিত হয়েছেন অনেক নারী-পুরুষ। তবে স্বীকৃতির বাইরেও এই উদ্যোক্তার সব থেকে বড়ো তৃপ্তিটা অন্য জায়গায়— স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তো করতে পেরেছেন এক জীবনে!