কার্ড ডিভিশন প্রধান

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৮
এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কার্ড বিভাগের প্রধান, ঢাকা ব্যাংক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটি (বিআরসি) কর্তৃক আয়োজিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী ব্যাংকে সরাসরি সিনিয়র অফিসার হিসেবে ১৯৯৮ সালের অক্টোবরে যোগদান করেন। এরই মধ্যে ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে ডিএআইবিবি লাভ করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। সোনালী ব্যাংকে কিছুদিন কাজ করার পরে তাদের আইটি বিভাগে কাজ করার জন্য মনোনীত হন, যেখানে স্বনামধন্য আইটি বিশেষজ্ঞ ড. কায়কোবাদের অধীনে প্রোগ্রামিং অ্যালগোরিদমের উপর ৩ মাসব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ লাভ করেন। এ ছাড়া ব্যাংকিং ও আইটি বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণে সাফল্যের সাথে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পান। পরবর্তীতে বেসরকারি ব্যাংকে যোগদান করে বিভিন্ন ক্যাপাসিটিতে কাজ করেন। দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় যোগদানের সুযোগ পান। বলছিলাম প্রজন্মের মেধাবীজন ঢাকা ব্যাংকের কার্ড ডিভিশন প্রধান এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান সম্পর্কে। বাবার সরকারি চাকরির সুবাধে শৈশবের সময়টা তার কেটেছে এই জেলা থেকে ওই জেলায় ঘুরে ঘুরে। শৈশবের বেশির ভাগ সময় কেটেছে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনাতে। তিনি জানালেন, তার শৈশবের সেই অভিজ্ঞতাগুলো বর্তমানে কাজে লাগছে। দুই বোন দুই ভাইয়ের মাঝে মোস্তাফিজুর রহমানের অবস্থান সবার ছোট। বাবা-মা, স্ত্রী ওয়ালিমা এবং দুই পুত্র আরহাম ও আজওয়াফকে নিয়ে তার পারিবারিক আবহ। নিজের কাজের ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য বোধের বিষয়টি নিয়ে বলতে গিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার কাজের মধ্যে ইলেক্ট্রনিক মানি ব্যবসা প্রসারে ও সম্মানিত গ্রাহকের সন্তুষ্টি বিধানে পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রোডাক্ট ও ব্যবসায়িক উন্নয়ন, গ্রাহকের সাথে দীর্ঘ মেয়াদি সম্পর্কোন্নয়ন, আমি ও আমার টিম ব্যবস্থাপনার নীতি-নির্দেশনার আলোকে কাজ করছি। আর আমি আমার কাজ নিয়ে অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ। ঢাকা ব্যাংক দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক হিসেবে তার কর্মীদের জন্য আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করেছে। এখানে রয়েছে অত্যন্ত দৃঢ় কর্পোরেট ও একটি কম্প্লায়েনস কালচার যা একজন কমীর ক্যারিয়ার অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য।’ সবশেষে জানালেন তার ভবিষ্যত্ স্বপ্ন ব্যাংকিং ক্যারিয়ারকে ঘিরেই। নিজের কাজ এবং মেধার সমন্বয়ে ব্যাংকিং খাতকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান ডাকনাম :চুন্নু জন্মতারখি ও স্থান :৬ অক্টোবর ১৯৭৫ মায়ের নাম :মমতাজ বেগম বাবার নাম :মো. মোতাহার আলী হাওলাদার প্রথম স্কুল :পলোগ্রাউন্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রিয় মানুষ :বাবা প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :বই পড়ে অথবা পরিবারের সাথে সাফল্যরে সংজ্ঞা :স্বপ্ন থাকতে হবে, সেই সাথে ইতিবাচক চিন্তা করার মানসিকতা। ০০০০ মো. মাহফুজুর রহমান এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, কার্ড ডিভিশন প্রধান, প্রিমিয়ার ব্যাংক ব্যাংকিং পেশায় সর্বদাই একটু চাপ থাকবেই; কিন্তু সেই চাপকে সর্বদা যিনি প্রত্যয় এবং অর্জন করার মানসিকতা নিয়ে উত্সাহ সহকারে জয় করে সম্মুখ পানে এগিয়ে চলেছেন তিনি হচ্ছেন মো. মাহফুজুর রহমান। ব্যাংকিং খাতের নানা পেশাগত দায়িত্ব পালন করে তিনি বর্তমানে প্রিমিয়ার ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কার্ড ডিভিশনে সফলতার সাথে কর্মরত আছেন। মো. মাহফুজুর রহমান তার ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রভিশনারি অফিসার হিসেবে। তারপর থেকেই নিজেকে একজন সফল ব্যাংকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যুগোপযোগী জ্ঞানার্জন এবং যথাযথ পরিশ্রম করতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাংকের নানা বিভাগে কাজ করতে থাকেন। ফরেন এক্সচেঞ্জ, লোন, রেমিটেন্স, সাধারণ ব্যাংকিংসহ ন্যাশনাল ব্যাংকের নানা শাখায় বিভিন্ন স্তরে কাজ করতে করতে নিজের কর্মদক্ষতা, মেধার বিকাশ এবং প্রকাশ ঘটাতে থাকেন। পরবর্তীতে ন্যাশনাল ব্যাংকে ক্রেডিট কার্ডের প্রচলন শুরুর যাত্রায় ওতপ্রোতভাবে জড়িত জড়িত ছিলেন। এরপর শুরু হলো ইন্টারনেট ব্যাংকিং। ডেসা, ডেসকো এবং নানা ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের সুবিধা নিতে থাকে। আর এই পেমেন্ট সিস্টেম পুরোটাই ক্রেডিড কার্ড ডিভিশনের আন্ডারে চলে আসে। নানা ধরনের প্ল্যান নিয়ে কাজ শুরু হয়। আর এসব কার্যক্রমের সাথে জড়িয়ে তিনি নিজেকে প্রমাণ করার আরও সুযোগ পান। প্রিমিয়ার ব্যাংকের বর্তমান এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, কার্ড ডিভিশন এসব ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসের আওতায় আসে। মো. মাহফুজুর রহমান এ পর্যায় অনেক পরিশ্রম করেন। অবশ্য কাজটাকে তিনি ভালোবাসেন বলেই অক্লান্তভাবে করতে পেরেছেন। তিনি খুব সুন্দরভাবে এই কাজটি করতে পেরেছিলেন তার বিচক্ষণতা এবং জ্ঞানের কারণে। তিনি তার কাজ সম্পর্কে বলতে গিয়ে সমসাময়িক ব্যাংকিং পেশা নিয়েও কিছু কথা বলেন—বর্তমানে অনেক ব্যাংক রয়েছে। আর এসব ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণও। মেধার চর্চায় আসছে নতুন মাত্রা। আর মো. মাহফুজুর রহমান এই প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিয়ে অনেক আশাবাদী। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতটিতে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাথে তরুণ প্রজন্মই পারে এই পেশাটিকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে। এই পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার রয়েছে সুবর্ণ সুযোগ। তিনি মনে করেন এই প্রজন্ম ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় লিডার। তারা নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রথম যে কাজটি তাদের করতে হবে আর সেটা হলো, জ্ঞান আহরণ। এ ছাড়া কাজ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে, আর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো সততা ও দৃঢ় সংকল্প। তিনি ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে বলেন, তিনি গরিব মেধাবীদের জন্য কাজের সুযোগ করে দিতে চান। মো. মাহফুজুর রহমান ডাকনাম :রিন্টু জন্মতারিখ :৩ জানুয়ারি মায়ের নাম :হোসনে আরা বেগম বাবার নাম :খলিলুর রহমান প্রথম স্কুল :মতিঝিল গভ. বয়েজ হাইস্কুল প্রিয় মানুষ :আব্রাহাম লিংকন, উইন্সটন চার্চিল প্রিয় উক্তি :Most good thinking has its origin in fear—Alain De Bottoan প্রিয় পোশাক :টি-শার্ট, জিন্স, পাঞ্জাবি-পায়জামা অবসর কাটে যেভাবে :বই পড়ে, স্যোসাল নেটওয়ার্কিং করে সাফল্যের সংজ্ঞা :Make yourself qualified and go ahead with determination and enthusiasm to become succeed. 000 এম খোরশেদ আনোয়ার হেড অব কার্ডস বিজনেস, ইস্টার্ন ব্যাংক লি. মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর এম খোরশেদ আনোয়ারের কর্মজীবনের শুরু। তিনি বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে মার্কেটিংয়ে মেজর করেন ইন্ডিয়া থেকে। এরপর বাংলাদেশে এসে র্যাংগস গ্রুপে যোগ দেন। সেখানে তিনি সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার সফলতার পেছনে রয়েছে অক্লান্ত পরিশ্রমের ইতিহাস। নিজের কাজ নিয়ে বেশ সুখি তিনি। বাংলাদেশের মার্কেটে তিনিই কার্ড ডিভিশন চালু করেন। তিনি জানালেন, উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের কার্ড সিস্টেমকে বলা হয় প্লাস্টিক মানি। তিনি ও তার টিম মিলে এই কাজটি বাংলাদেশি মার্কেটে নিয়ে আসেন সফলতার সাথে। বর্তমানে এটি একটি সফল ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ব্যাংকিংয়ের প্রতি কেন এত আগ্রহ? জবাবে তিনি বলেন, ‘ছেলেবেলা থেকেই ব্যাংকের কাজের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। আর ব্যাংকের সুন্দর পরিবেশও আমাকে খুব টানত। তা ছাড়া ব্যাংকে কাজ করার সুবাদে অনেক পেশার মানুষের সাথে পরিচয়ের সুযোগ পাওয়া যায়।’ তিনি মনে করেন, সততা ও সৃজনশীলতা থাকলে ব্যাংকিংয়ে সফলতা পাওয়া যাবেই। ব্যক্তিগত তথ্যে জানালেন, তার জন্ম ঢাকায় আর শৈশব কেটেছে শাহজাহানপুরে। তার বাবা ছিলেন সরকারি কর্মচারী, টিএসবি-এর চিফ অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে অবসর নিয়েছেন। এম খোরশেদ আনোয়ার ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনার পাট শেষ করেন। এরপর ১৯৯৫ সালে শুরু করেন ক্যারিয়ারের পথে যাত্রা। তিনি ওভারসিস এবং ইউএই-এর সাথে কাজ করেছেন ১৯৯৯-২০০১ পর্যন্ত। তারা তিন বোন ও এক ভাই। তিনি সবার বড়। স্ত্রী মারিয়াম আনোয়ার সুমিকে নিয়ে তার সাজানো সংসার। পরিবারের কথা শেষ হওয়ার পরপরই এম খোরশেদ আনোয়ার ব্যাংকিং পেশা নিয়ে কথা বললেন। তিনি নতুনদের ব্যাংকিং পেশায় স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম অনেক ভালো করছে ব্যাংকিংয়ে। তারা যত তাদের মেধা নিয়ে এগিয়ে আসবে আমাদের ব্যাংকিং সেক্টর তত বেশি সমৃদ্ধ হবে। তাদের চিন্তা-চেতনা অনেক উদ্ভাবনীমূলক, কাজের ধরনও সৃজনশীল।’ এই ব্যাংকার নতুনদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘কাজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ যেমন দরকার, সেই সাথে ধৈর্য ধরে কোনো কাজ শেখা উচিত। স্বপ্ন তো দেখতেই হবে। তবে সেটা যেন অলীক না হয়। কেবল পদোন্নতির কথা ভাবলেই চলবে না।’ এম খোরশেদ আনোয়ার ডাকনাম :রানা জন্মতারিখ ও স্থান :১৭ মার্চ, ঢাকা মায়ের নাম :রাজিয়া আলম বাবার নাম :মো. খোরশেদ আলম প্রথম স্কুল :মতিঝিল গভর্নমেন্ট বয়েস হাই স্কুল প্রিয় মানুষ :মা প্রিয় পোশাক :জিন্স ও টি শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :সিনেমা দেখে, ড্রাইভিং করে