লক্ষ্যে পৌঁছানো মানেই হচ্ছে সফলতা। কিন্তু লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই দূরদর্শী বিচার-বিবেচনা। এ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের অনেকের মাঝেই এই গুণটি দেখা যায়। পড়াশোনা বিষয় নির্বাচনে সতর্কতা সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করায় তাদের। এই প্রজন্মের এমন একজন শিক্ষার্থী নারায়ণগঞ্জের ছেলে জুবায়ের রায়হান। এইচএসসি শেষ করে জুবায়ের বেশ চিন্তিত ছিলেন কোথায় পড়বেন, কী বিষয় নিয়ে পড়বেন। অবশ্য সায়েন্স ব্যাকগ্রউন্ড থাকায় তার ইচ্ছা ছিল এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একটি হাইটেক বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করার। অবশ্য তিনি আরও চাইছিলেন, যে বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করবেন সেটি সম্পন্ন করে বিশ্বের যেকোনো দেশে যেন চাকরি করার সুযোগ থাকে। অন্যদিকে যেহেতু সরাসরি বিদেশে ভর্তি হওয়া অনেক ভোগান্তি ও ব্যয়ের বিষয় তাই বাংলাদেশেই তিনি এমন একটি বিষয় নিয়ে পড়বেন যেন ক্রেডিট ট্রান্সফার করে বিদেশে যাওয়া যায়। এমন পর্যায়ে তার চোখে পড়ে উত্তরার এগার নম্বর সেক্টরের দুই নম্বর রোডের চৌদ্দ নম্বর প্লটে অবস্থিত ক্যাটেকের উড়োজাহাজ প্রকৌশল শিক্ষার একটি বিজ্ঞাপন, যাদের সাথে তিনি ০১৯৩৭১৮২৪৭০ নম্বরে কথা বলেন। বলতে গেলে এটি তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বিষয়টি নিয়ে লেখাপড়া করতে ২০০৮ সালে জুবায়ের সেখানে ভর্তি হন। এখানে থিউরিক্যাল শিক্ষার পাশাপাশি তিনি পর্যাপ্ত প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ পান। এরপর এখান থেকে শিক্ষা শেষ করার পর বিশ্বজুড়ে তার ভাগ্যের দুয়ার খুলে যায়। বাংলাদেশ থেকে জার্মানির RWHTH Aacchen-এ রিসার্স স্টাফ হিসেবে কর্মরত হওয়ার আবেদন করলে সেটি অনুমোদিত হলে দ্রুত ভিসা পেয়ে জুবায়ের সেখানে চলে যান। সেখানে কর্মরত থেকে তিনি DAAD থেকে মাসে ৬৫০ ইউরো স্টাইপেন হিসেবে পাচ্ছেন এবং এই খাতে দ্রুত অভিজ্ঞ হয়ে উঠছেন। জার্মানির এমন একটি খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ত হওয়ার পর তার কনফিডেন্স আরও বেড়ে যায়।
জুবায়ের রায়হান জানান এই বিষটি নিয়ে লেখাপড়া করার পর তার জীবনধারা বদলে গেছে। মাত্র দুই-তিন বছরেই তিনি হতে চলেছেন একজন হাইটেক ইঞ্জিনিয়ার। আর এ ধরনের প্রকৌশলীদের বেতন হয়ে থাকে আকাশছোঁয়া। সাথে থাকে আন্তর্জাতিক ধারায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। জুবায়ের বলেন, ‘এত অল্প সময়ে জার্মানির মতো একটি দেশে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারাটা আমার জন্য দারুণ সৌভাগ্যের ছিল। অবশ্য ক্যাটেকে ভর্তি হওয়ার পর সময়োপযোগী শিক্ষার পাশাপাশি জার্মানির মতো উন্নত এমন একটি দেশের রেপুটেড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা করেছে। চ্যালেঞ্জ নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যারা ক্যারিয়ার শুরু করতে চান তাদের জন্য উড়োজাহাজ প্রকৌশল বিষয়টি খুবই উপযোগী।’
