অর্থনীতির আকার বাড়লেও আঞ্চলিক বৈষম্য বিদ্যমান

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৪৪
গত এক দশকে দেশের অর্থনীতির আকার অনেক বেড়েছে। তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আঞ্চলিক বৈষম্য এখনো বিদ্যমান। বিভাগীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। তুলনামূলক সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে। এগিয়ে রয়েছে যথাক্রমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগ। তবে ব্যবসা ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৮৬ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ঢাকা শক্তিশালী ঊর্ধ্বগামী প্রবণতার সঙ্গে স্থায়ীভাবে অর্থনৈতিক ইউনিটের (অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একক) সর্বোচ্চ সংখ্যায় পৌঁছেছে। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থনৈতিক শুমারি ২০১৩’র প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সময়ের ব্যবধানে বৃদ্ধি পাচ্ছে। খানাভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও দ্রুত বিস্তার করেছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে উচ্চমাত্রার প্রবৃদ্ধি গ্রামীণ অর্থনীতিকে বিকশিত করেছে। তৃতীয় অর্থনৈতিক শুমারির প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওস্থ পরিসংখ্যান ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ. কে খন্দকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. এস এ সামাদ। প্রাথমিক ফলাফল তুলে ধরেন অর্থনৈতিক শুমারি ২০১৩ এর প্রকল্প পরিচালক দিলদার হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে, তবে মাঝে মাঝে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা এর ফলাফল নষ্ট করে দেন। আমরা আমাদের সম্ভাবনাগুলো সবসময়ে উল্লেখ করে থাকি, এর সাথে সাথে সাফল্যগুলোও তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, দেশে একটি উন্নয়ন প্রক্রিয়া চলছে, শিল্পখাতে উত্পাদন বেড়েছে, অর্থনীতির আকারও বেড়েছে। কিন্তু সে হারে ম্যানুফেকচারিং বা শিল্প উত্পাদনের হার বাড়েনি। অর্থনৈতিক আকারে সেবা খাতের অবদান অনেক বেশি। এ বিষয়টি চিন্তা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে স্বল্প সময়ের মধ্যে অর্থনৈতিক শুমারির মত ব্যাপক কর্মকাণ্ডের ফলাফল উপস্থাপনে বিবিএস এর প্রশংসা করেন তিনি। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বাংলাদেশ সেবা ও শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেছেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। প্রতিবেদনে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের পরিমাণের তথ্য একটু বেশি বলে মন্তব্য করেন ড. মসিউর রহমান। তিনি বলেন, তৃতীয় অর্থনৈতিক শুমারি দেশের অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক গতিধারা নিরূপণে সঠিক দিক-নির্দেশনা প্রদানে সক্ষম হবে।