প্রকৃতির রূপ-লাবণ্য উপভোগ করতে সারা বছরই প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসেন সিলেটে। কারণ এটি দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত পর্যটন এলাকা। কিন্তু দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে পর্যটনের ভরা মৌসুমেও ভিড় নেই জেলার পর্যটন এলাকাগুলোতে। হোটেল-মোটেলগুলোও প্রায় অতিথিশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে হোটেল ব্যবসায় ধস নামার উপক্রম হয়েছে। সম্ভাব্য লোকসানের আশংকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন হোটেল-মোটেল মালিকরা।
জেলার অভিজাত হোটেল মেট্রো ইন্টারন্যাশনাল, সুপ্রিম, স্টার প্যাসিফিক ও রোজ ভিউ কর্তৃপক্ষ ইত্তেফাককে জানান, হরতালের কারণে তেমন অতিথি আসছে না। আবারও হরতাল হতে পারে জেনে অনেকে হোটেলের বুকিংও বাতিল করে দিচ্ছেন। তারা জানান, সিলেটের ভালো হোটেলগুলোতে গেস্ট না উঠলে দৈনিক ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা লোকসান হতে পারে। অথচ একদিকে আয় বন্ধ, অন্যদিকে দৈনন্দিন খরচ ঠিকই হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দেশে অব্যাহত হরতাল বিশেষ করে গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানোর ঘটনায় সকলের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। সিলেটে সপরিবারে ঘুরতে এসেছেন ভারতীয় নাগরিক পাপ্পু রহমান। তিনি আক্ষেপ করে বললেন, ‘সিলেটের দর্শনীয় স্থানগুলো দেখার পর ভেবেছিলাম ঢাকা ও কক্সবাজারে ঘুরবো কিন্তু হরতালের কারণে সব মাটি। ক’দিন শুধু বসে বসে দিন কাটালাম। এখন ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, চলে যেতে হবে।’ জলপাইগুড়ির এই তরুণ ব্যবসায়ী আরো বলেন, জিন্দাবাজার গিয়েছিলাম কেনাকাটার জন্য। ককটেলের ভয় সব সময় তাড়া করেছে। পাপ্পু প্রশ্ন করে বলেন, ‘হরতালের আগের দিন গাড়ি ভাংচুর হয় কেন বুঝলাম না।’
এদিকে প্রবাসী বহুল সিলেটের অবকাঠামোগত পরিবর্তন ঘটছে দ্রুত। নয়নকাড়া প্রাকৃতিক দৃশ্যের সাথে দিনে দিনে যোগ হচ্ছে আধুনিক স্থাপনা। ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার হচ্ছে। প্রবাসী বিনিয়োগে অনেক হোটেল-মোটেল গড়ে উঠছে এখানে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা-বাণিজ্যে ভাটা পড়ছে। ‘আর ক’দিন লস গুনবো’ বলে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন দুবাই প্রবাসী হোটেল ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
জেলার পর্যটন এলাকাগুলোতে গড়ে উঠা ছোট ছোট দোকান মালিক, যানবাহনের মালিকরা বললেন, ‘লোকজন আসে না, আমাদের যত কষ্ট।’ পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, স্থিতিশীল পরিবেশ, নিরাপত্তা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দর্শনীয় স্থানের আধুনিকায়ন করা হলে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো থেকে আরো বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করা সম্ভব।
