স্কিন ক্লেনজিং

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৩, ১৭:৫৫
সারাদিনের কর্মব্যস্ততার মাঝে নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিতে অনেকে ভুলে যাই। আর এত ব্যস্ততার পর ত্বক পরিষ্কার করার ব্যাপারটি অনেকের কাছেই বাহুল্য বলে মনে হতেই পারে। কিন্তু ব্যস্ততার মাঝেই ত্বকের যত্ন, মেকআপ নেওয়া যেমন জরুরি, ঠিক ততটাই জরুরি হলো ঘুমানোর আগে আপনার ত্বকের নিয়মিত ক্লেনজিং করা। তা নাহলে সারাদিনের ধুলো-ময়লা জমে ত্বকের মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। ত্বকের যত্নে কড়চার এবারের আয়োজনে লিখেছেন সাইফুল ইসলাম জুয়েল ও ছবি তুলেছেন তাহের মানিক স্বাভাবিক, তৈলাক্ত বা শুষ্ক যে প্রকৃতিরই ত্বক হোক না কেন ত্বকের যত্নে ক্লেনজিং একান্ত জরুরি। সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লেনজিং না করলেও চলবে, কিন্তু রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ত্বক পরিষ্কার করা অবশ্যই দরকারি। তা না হলে সারারাত ত্বকে ময়লা আর ধুলোবলি ও মেকআপ জমে থাকবে। সারাদিন ধরে ত্বকের ওপর জমে থাকা ধুলোময়লা পরিষ্কার করলে, তবেই ঘুমানোর সময় ত্বকের পক্ষে ‘ব্রিদ’ করা সম্ভব। সাধারণত আমরা সাবান দিয়েই মুখ ধুয়ে থাকি। এতে বড় একটা রিফ্রেশিং অ্যাফেক্ট হয়। কিন্তু সাবানের অ্যালকালাইনের প্রভাবে ত্বক আরও রুক্ষ হয়ে যায়। কারণ, সাবান ত্বকের ন্যাচারাল ওয়েল ও ময়েশ্চার দূর করে দেয়। ত্বকের স্বাভাবিক অ্যালকালাইন ব্যালেন্সও নষ্ট করে দেয়। সাবান ব্যবহারে ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেনসেটিভ ত্বকে পারফিউম রয়েছে এ রকম কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করবেন না।  শুষ্ক ত্বকে দীর্ঘদিন সাবান ব্যবহার করার ফলে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে গিয়ে প্রি-ম্যাচিওর অ্যাজিংয়ের সমস্যা হতে পারে।  সেনসেটিভ ও ডিহাইড্রেটেড ত্বকে লাল প্যাচ দেখা যেতে পারে।  তৈলাক্ত ত্বকে দিনে দুবারের বেশি সাবান দেওয়া ঠিক নয়। ভালো করে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেবেন। ঘনঘন সাবান ব্যবহার করলে ত্বকে অ্যালকালাইনের মাত্রা বেড়ে যায়। যার ফলে ত্বকে খুব সহজেই ইনফেকশন হতে পারে।  ত্বক পরিষ্কার রাখার সময় কয়েকটা বিষয় খেয়াল রাখুন। ত্বক পরিষ্কারের সময় খুব গরম পানি ব্যবহার করবেন না বা অনেকক্ষণ ধরে স্নান করবেন না। এতে ত্বকের ওয়েলের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। ত্বক ধোয়ার সময় ঈষদষ্ণু পানি ব্যবহার করুন। সারাদিন কাজের পর রাতে শুতে যাওয়ার আগে মুখ পরিষ্কার করতে ভুলবেন না। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্লেনজার বেছে নিন। নরম স্পা, সুতির কাপড় বা তুলোতে মেকআপ রিমুভিং ক্রিম লাগিয়ে চোখের মেকআপ রিমুভ করুন। খেয়াল রাখবেন যাতে চোখের চারপাশের নরম টিস্যুগুলোতে আঘাত না লাগে। ত্বক পরিষ্কার করার পর বা গোসল করার পর তোয়ালে দিয়ে হালকা করে মুছুন। এতে ত্বকে ময়েশ্চার বজায় থাকবে। তারপর ময়েশ্চারাইজার লাগান। স্বাভাবিক থেকে শুষ্ক ত্বক রিহাইড্রেন্ট ক্লেনজিং জেল বা ক্রিম ব্যবহার করুন। এতে ত্বক নরম ও মসৃণ থাকবে। ক্লেনজার লাগানোর পর ভিজে তুলা দিয়ে মুখ মুছে নেবেন। এতে ত্বকের ভিজে ভাব বজায় থাকবে। ত্বক নরম ও মসৃণ থাকবে। স্বাভাবিক, তৈলাক্ত ও মিশ্র প্রকৃতির ত্বক ক্লেনজার মিল্ক ব্যবহার করুন। সাবানবিহীন ক্লেনজার বা ফেসওয়াশ ব্যবহারেও অসুবিধা নেই। ক্রিমের মতো ফেসওয়াশ ত্বকে লাগিয়ে নিন। স্কিন টাইপ অনুযায়ী বাজারে যে ফেসওয়াশ পাওয়া যায়, সেগুলোও কিনতে পারেন। সেনসেটিভ ত্বক সেনসেটিভ ত্বকে দাগছোপ বা ব্রণের সমস্যা থাকলে মেডিকেটেড ক্লেনজার বা সাবান ব্যবহার করুন। ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব তো দূর হবেই, ফ্রেশও লাগবে। ঘরোয়া উপায়ে তৈরি ক্লিনজার আধ কাপ দুধের সঙ্গে ৫ ফোঁটা অলিভ ওয়েল বা তিলের তেল, সানফ্লাওয়ার ওয়েল মেশান। মিশ্রণটি বোতলে ভরে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন। তুলায় এই মিশ্রণ লাগিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। তারপর ভিজে তুলা দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। বাকি মিশ্রণটা ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। তবে চার-পাঁচ দিন পর ব্যবহার করবেন না। এক চা-চামচ লেবুর রসের সঙ্গে ঠাণ্ডা দুধ মেশান। মুখে ১৫ মিনিট লাগিয়ে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মেকআপ রিমুভ করতে  চোখের মেকআপ রিমুভ করা খুব দরকার। কারণ, অন্যান্য অংশের তুলনায় চোখের কাছের ত্বক বেশি সেনসেটিভ। ক্লেনজিং জেল বা ক্রিম চোখের চারপাশে হালকা হাতে লাগান। কিছুক্ষণ পর ভিজে তুলা দিয়ে মুছে দিন। জোরে ঘষবেন না। তারপর চোখ বন্ধ করুন। মাসকারা পরিষ্কার হয়ে যাবে। মুখ পরিষ্কার করার জন্য ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্লেনজার বেছে নিন।  সমপরিমাণ লেবুর রস ও শসার রস মিশিয়ে মুখে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখতে পারেন। শসা অস্ট্রিন জেন্টের কাজ করে, ত্বক পরিষ্কার রাখে। মডেল তারিন