পছন্দের দুই মেরু

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৩, ১৭:৫৬
সারাদিন অফিস শেষে রাতের খাওয়া শেষে যেই না একটু আয়েশ করে বসলেন টেলিভিশনের সামনে, তখনই আরেকজন এসে একরকম ছিনিয়ে নিলেন রিমোটটা, তিনি তার পছন্দের অনুষ্ঠান দেখবেন। এক দিন পছন্দের নাটক না দেখলে কী হয়, পরে তো এটি আবার দেখাবেই। কিংবা খেলার স্কোর কি ইন্টারনেট থেকে জেনে নেওয়া যায় না? এমন খুঁটিনাটি অনেক পছন্দের পার্থক্য সংসারে লেগেই থাকে। এমন সমস্যায় নিজেদের বুঝাপড়াটা হচ্ছে মূল ব্যাপার। এ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার মৌয়ের বিয়ে হয়েছে দুই বছর হলো। এই দুই বছরে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে কি না, তার মনে পড়ে না। সংসারে স্বামী তৌফিক ছাড়াও আছে শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর-ননদ। একসঙ্গে থাকেন বলে দাম্পত্যজীবনে কি কোনো সমস্যা হয়? এই প্রশ্নের উত্তরে মৌ বললেন, ‘আমাদের দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া বেশ ভালো। বিয়ের আগে বেশ কয়েক বছর একটা সম্পর্ক থাকায় স্বামী-স্ত্রীর পাশাপাশি আমরা একে অন্যের বন্ধুও। তবে ভালোবাসার সম্পর্কের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কের পার্থক্য রয়েছে। এর পরও দাম্পত্যজীবনে সুখী হতে পারস্পরিক বোঝাপড়াটাই আসল।’ উপরের ঘটনাটির মতো এমনটা হয়তো সকলের দাম্পত্যে হয় না। যেমন, স্বামীর সকালের নাশতায় রুটি-ভাজি না হলে চলছেই না, কিন্তু স্ত্রী শুরু করেছেন দুধ-কর্নফ্লেকস দিয়ে নাশতার চল। দিনের পর দিন খেতে হবে অপছন্দের খাবার। নাশতার টেবিলে একজন মুখ হাঁড়ি করে খাবার নাড়াচাড়া করছেন, এ দৃশ্যই বা কত দিন সহ্য করা সম্ভব? একসঙ্গে সিনেমা দেখতে যাওয়া হবে, কিন্তু কোনটা? ডিজনির নতুন অ্যানিমেশন সিনেমা, নাকি নতুন জেমস বন্ড? আড়াই ঘণ্টা কি ঝাড়া বসে থাকা সম্ভব সিনেমা হলে শুধু অন্যজনের পছন্দের মূল্য দিতে? ঘুমিয়ে পড়ার সুযোগও তো নেই। দুই পরিবার, দুই সংস্কৃতি, দুই রকমের বেড়ে ওঠা—এমন দুজন মানুষ যখন বিয়ের বন্ধনে জড়ান, তখন তাদের পরস্পরের এই পার্থক্যকেই সম্মান করতেই হবে। বিয়ের আগে থেকেই এর জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ভালো। তবে অবশ্যই মনে রাখুন, এটি দুজনের বেলাতেই সত্য। একজন শুধু সমঝোতা, ত্যাগ করেই যাবেন, অন্যজন শুধু উপভোগ করবেন—এমন সম্পর্ক ইতিবাচক হতে পারে না। একজনের একতরফা চেষ্টায় হয়তো সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধান হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এভাবে দিনের পর দিন চললে দুজনের মাঝে তৈরি হবে বড় ফাঁক। সম্পর্কে কোনো একজনের প্রাধান্য থাকাটা ঠিক নয়, বরং দুজনের মধ্যে থাকা চাই সহযোগিতা ও শ্রদ্ধা। অবশ্যই কখনও কখনও প্রাধান্য দিতে হবে অন্যের পছন্দ, কিন্তু তাই বলে নিজেকে একদম বদলে ফেলাও ভালো নয়। দুজনের পছন্দ দুই রকম মানে কিন্তু এই নয় যে, কারও রুচি খুব ভালো, অপরজন একবারেই নিম্ন রুচির। ‘স্বামী বা স্ত্রীর কোনো কিছু ভালো না লাগলেও খুব সমালোচনা করা ঠিক নয়। নেতিবাচক কোনো কথা বলার চেয়ে বরং চুপ করে থাকাও ভালো। অথবা একটু ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নিজের পছন্দ জানাতে পারেন। যেমন—একজন হয়তো বাড়ির পর্দা কিনেছেন, কিন্তু সেটা অন্যজনের পছন্দ হচ্ছে না। সরাসরি এ কথা না বলে বরং বলতে পারেন, দেখতে যেমনই হোক, বেশ ভালো দামে পেয়েছে এটা। এক জায়গায় হয়তো মিল হচ্ছে না স্বামী-স্ত্রীর, কিন্তু অন্য নানা গুণ হয়তো আছে তার। পরস্পরের কমতিগুলোর দিকে নজর না দিয়ে বরং ইতিবাচক ব্যাপারগুলোকে উপভোগ করতে শিখুন না। দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তি নির্ভর করে ভালোবাসার গভীরতার ওপর। তাই ভালোবাসার সঙ্গে সঙ্গে মূল্য দিতে শিখুন সঙ্গীর পছন্দকে, গুরুত্ব দিন তার ভালোলাগার বিষয়গুলোকে। আস্থা ও বিশ্বাস রাখুন তার প্রতি।