খাবারের স্বাদটা কোরিয়ান

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৩, ১৭:৫৭
গুং দ্য ক্যাসল! পুরোদস্তুর কোরিয়ান খাবার, সেটা নাম থেকেই আঁচ করা যায়, খাবারের নামগুলোও কম খটমটে নয়। ২০১৩ সালের এপ্রিলে কোরিয়ান নাগরিক কিম সিয়ং হি’র উদ্যোগে আমাদের দেশে শুরু হয় এই খাদ্যের পসার। কোরিয়ানরা তো আসেই, আসেন দেশীয়রাও। গুলশান ২০ নম্বরের এই অভিজাত রেস্তোরাঁ ঘুরে এসেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র, ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু রেস্টুরেন্টে ঢুকতেই অন্য এক আবহ, রাজসিক এমন দরজা খুব একটা দেখা যায় না দেশে। সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই কিছুটা নীরবতা, একদিকে একটি ঝরনার দেখা মেলে। অন্য একটা রুমে চোখ পড়ল, এ দেখি বাচ্চাদের খেলার রাজ্য! অনেক মজার মজার খেলনা রয়েছে এখানে। যেহেতু রেস্তোরাঁ, সব বাদ দিয়ে আমরা সেদিকটাতেই নজর দিই। দোতলা পুরোটাই সাধারণ হলরুমের মতো। আলোকসজ্জা থেকে শুরু করে টেবিল-চেয়ার, আবহ কোরিয়ান। তিনতলাতে রয়েছে আলাদা আলাদা রুম। চার থেকে বিশ জনের উপযোগী রুম পাবেন আপনারা, ছোটখাটো মিটিংয়ের কাজ অনেক কর্পোরেট এখানেই সেরে নেন। খুশির বিষয় এর জন্য আপনাকে বাড়তি পয়সা গুনতে হবে না একদমই। এসব জানাচ্ছিলেন জিএম লুত্ফর রহমান জুয়েল, তিনি আরও বলেন, ‘চারতলার টেবিল টপ বার-বি-কিউ অনেক পছন্দ ভোক্তাদের। আসল স্বাদের বার-বি-কিউ নিজেই করে নিতে এর তুলনা নেই। রয়েছে কারাওকে রুমও! যতক্ষণ খুশি প্রিয় গানগুলোতে মিলিয়ে নিন নিজেকে। রেস্টুরেন্টের খাবারের দিকটাতে আসি। প্রথমেই বলেছি, এখানকার পুরোটাই কোরিয়ান। আর সার্বিক খাবারের বিষয়টা তদারকি করেন উদ্যোক্তা নিজেই। কোরিয়াতে শেখা রেসিপিগুলো সবই আস্তে আস্তে নিয়ে এসেছেন আমাদের দেশে তিনি। জানতে চেয়েছিলাম, খাবারের উপকরণ আসে কোথা থেকে? কাঁচামাল দেশীয় হলেও স্বাদের জন্য যে মসলা বা অনুষঙ্গ ব্যবহার করা হয়, সেটা পুরোটাই কোরিয়া থেকে আনা হয়। এখানে কোন ধরনের অতিথি বেশি আসেন? জুয়েল জানান, মূলত কোরিয়ান এবং অভিজাত সমাজের মানুষেরাই আসে। তবে মধ্যবিত্তরাও কম যান না। কারণ অন্যান্য কোরিয়ান রেস্তোরাঁর তুলনায় তাদের দামটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। এক হাজার টাকার মধ্যেই এক সেট লাঞ্চ আইটেম পাবেন, অনেক বুফেতেই তো এমনটা রয়েছে। ডিনারে কিছুটা বেশি লাগলেও কোরিয়ান স্বাদের কাছে তা নস্যি। আর নামগুলো সবই কোরিয়ান, মেন্যুতে ছবিও দেওয়া রয়েছে। আর তাদের আন্তরিক ওয়েটাররা আপনাকে সবই বুঝিয়ে দেবে কেমনটা আছে কোন খাবারে। দুশ্চিন্তার কারণ নেই, সবগুলো খাবারই হালাল তাদের। এ ক ন জ রে কোথায় :বাসা-১২/বি, রোড-৫০, গুলশান ২, ঢাকা। কবে যাবেন :সবদিনই খোলা থাকে, লাঞ্চের জব্য ১২টা থেকে ৩টা, ডিনারের জন্য ৬টা থেকে ১১টা। ব্যবস্থাপকের ভাষ্য :লুত্ফর রহমান জুয়েল বলেন, ‘এখানে আন্তরিকতা, খাবারের মান-স্বাদ সবই অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে আলাদা, অন্যরকম। শতভাগ কোরিয়ান স্বাদের নিশ্চয়তা , সেই সাথে পরিবেশের কারণেই সবাই আসেন এখানে। বিনোদন হিসেবে বাড়তি পাওনাগুলো তো আছেই।’