এরশাদের থুথু তত্ত্ব নিয়ে ফেসবুকে ঝড়

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৫৮
হঠাত্ ভোল পাল্টে সদলবলে নির্বাচনকালীন সরকারে অংশ নেয়ায় সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদকে নিয়ে নানারকম ব্যাঙ্গ-বিদ্রূপ ও সমালোচনার ঝড় বইয়ে যাচ্ছে ভার্চুয়াল জগতে। বিশেষত: ফেসবুকের দেয়ালজুড়ে এখন চলছে এরশাদের থুথু তত্ত্ব নিয়ে সরস আলোচনা, হাস্যকৌতুক। নতুন করে উঠে আসছে তার পুরনো খেতাব ‘ বিশ্ববেহায়া’ এবং আরও অনেক নিত্য-নতুন অভিধা। অনেকে আবার এরশাদকে নিয়ে তৈরি করছেন নানারকম গল্প। এরশাদের দু’দিন আগের বক্তব্য অনুযায়ী তার মুখে থুথু মারার জন্যও আহবান জানাচ্ছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ। গতকাল রবিবার বিকালে ফেসবুকের পাতায় ফয়েজ বিন আকরামের স্ট্যাটাসে পাওয়া গল্পটি ছিল এমন, ‘: স্যার, অনেকদিন পর আপনাকে একটা সুখবর দিতে আইলাম। : কি সুখবর? বিয়ে করতে যাচ্ছ নাকি? : না স্যার, বিয়ে টিয়ে নয়... : তাহলে নিশ্চয় এডমিন থেকে ইনক্রিমেন্ট লেটার পেয়েছো? : না স্যার, তাও না। সুখবর টা হলো এখন থেকে আমি আর অফিসের ফ্লোরে থুথু ফেলবো না। : গুড, ভেরি গুড। তুমি মালিকপক্ষের লোক না হলে শুধু এই একটি অভিযোগেই তোমার চাকরি চলে যেতো অনেক আগেই। এতদিনে তাহলে তুমি বুঝেছো যে, কর্পোরেট অফিসে যত্রতত্র থুথু ফেলা কত বড় অপরাধ এবং নোংরা কাজ। : জ্বি স্যার। : তা এতগুলো শোকজ লেটারেও যেখানে তোমার কোন পরিবর্তন হলো না, সেখানে আজ হঠাত্ করে তোমার এমন বোধোদয় হলো কি করে। : স্যার, বোধোদয় বলতে আসলে ঠিক সেরকম কিছু নয়। তবে এটার জন্য হোসাইন মো: এরশাদকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হবে। : হোয়াট? তোমার থুথু ফেলা না ফেলার মধ্যে হোসাইন মো: এরশাদ আসলো কি করে। : জ্বি স্যার। শোনেন নাই দুই দিন আগে এরশাদ কইছিলো এই মুহূর্তে ইলেকশানে গেলে জনগণ তার মুখে থুথু ফেলবে। আজকে আবার কইলো সে ইলেকশানে যাবে। ইভেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেও যোগ দিবে। তার মানে সে স্বীকার করে নিলো এখন তার মুখে থুথু মারা উচিত। : কেউ তার মুখে থুথু মারতে চাইলে মারবে। তার সাথে তোমার সম্পর্ক কি? : আমারতো স্যার ছোট বেলা থেকেই যত্রতত্র থুথু ফেলার অভ্যাস। সে অভ্যাস তো আর মুহূর্তেই বন্ধ করতে পারি না। তাই এখন থেকে ভাবলাম, যেখানে সেখানে থুথু না ফেলে এরশাদের মুখেই থুথু ফেলবো। : হা হা , তুমি এরশাদকে পাইবা কই তার মুখে থুথু মারার জন্য? : কোন সমস্যা নেই স্যার, বিকল্প ব্যবস্থা আমি করে রেখেছি। পল্টন মোড়ের ডিজিটাল প্রিন্টের দোকান থেকে এরশাদের একটা ছবি প্রিন্ট করে এনেছি, এইযে দেখেন। এখন থেকে এটার উপরেই আমি থুথু ফেলবো। আর সুযোগের অপেক্ষায় আছি, সামনে ভোট চাইতে আসলে যদি মুখোমুখি পেয়ে যাই......। ঈমানে কইতাছি স্যার, এক মাসের থুথু একসাথে মারবো....। ’ খসরুজ্জামান খসরুর লেখা একটি স্ট্যাটাস ফেসবুকে শেয়ার করেছেন মহিউদ্দিন মাসুম। এতে বলা হয়েছে ‘ জাতীয় বাটপার এরশাদ, তাকে ঘৃণা করুন, তার মুখে থুথু দিন ’। লিটন মাহমুদ তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ আজ থেকে এরশাদকে জাতীয় বেঈমান ঘোষণা করা হলো, সারাবিশ্বকে জানিয়ে দিন ’। আখতারুজ্জামান আজাদের লেখা ‘ এরশাদ এবং একজন পতিতার গল্প ’ নামের একটি ছোট গল্প ফেসবুকে পোস্ট করেছেন আফজাল বারী । কবি ও রম্য লেখক সাজ্জাদ কাদির তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ এরশাদের স্বাদ নিচ্ছে সবাই ’। কামরুল ইসলাম তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ জাতীয় বেঈমানটার জন্য জুতা ও থুথু সব রেডি করেন। যেখানেই পাওয়া যাবে, মারতে হবে।’ রুনি শাহ তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, দেশবাসীর হয়তো জানা হয়ে গেছে, দেশের সবচেয়ে বড় বেঈমানটির নাম এরশাদ। এখন শুধু সময়ের ব্যাপার তার গায়ে থুথু দেবার। সে নিজেই বলেছে, সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। যদি যায়, তাহলে মানুষ তাকে বেঈমান বলবে এবং থুথু দেবে। এখন মহাজোটের নেতারা তাকে চুমু দেবে, আর অন্যরা তাকে থুথু দেবে। তারেক সালমান তার একটি স্ট্যাটাসের শিরোনাম দিয়েছেন, ‘ ঋণ শোধ করলেন এরশাদ ’। এতে তিনি বলেছেন, ‘৮৬ সাল থেকে দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর যাবত আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনার কাছে ঋণে আবদ্ধ ছিলেন হুমু এরশাদ। যখন তিনি (হুমু) ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন, তখন তিনি ছিলেন দেশের রাজা। আর শেখ হাসিনা ছিলেন প্রজাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় একজন। একজন রাজা হয়ে প্রজার কাছে ঋণী থাকা আসলেই কোনোভাবেই সমীচীন নয়। বর্তমানে সেই পুরনো ঋণ শোধ করার একটি সুবর্ণ সময় এসেছে হুমুর কাছে। তিনি সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে আজ থেকে ঋণমুক্ত হলেন। এটা দোষের কিছু নয়। কারণ আমাদের ধর্মেও আছে তোমরা ঋণমুক্ত থাকার চেষ্টা কর। ঋণী হয়ে যেন মৃত্যুবরণ করো না। মনে রাখতে হবে——হুমুর বয়স এখন প্রায় ৯০ এর কাছাকাছি। মৃত্যুর কথা এখন প্রতিনিয়ত মনে হয়। সঙ্গে যদি থাকে ঋণের বোঝা,,,। তাহলে কি শান্তি পাওয়া যায় ??? তারেক সালমান তার একটি স্ট্যাটাসের শিরোনাম দিয়েছেন ‘আসুন আমরা গণ থুথু নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করি’। এতে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের দেশের সংস্কৃতি হচ্ছে মুরুব্বিদের সম্মান করা ও তাদের আদেশ নিষেধ মেনে চলা। আমাদের সাবেক রাজা হুমু এরশাদ আমাদের মুরুব্বি শ্রেণির প্রাণী। তার মনোবাসনা পূরণ করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য। কয়েকদিন আগে আমাদের মুরুব্বি হুমু জাতির উদ্দেশে বয়ান দিয়েছেন, বিরোধী দল ছাড়া আমরা নির্বাচনে যাব না। বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না জাতীয় পার্টি। বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচনে গেলে দেশের জনগণ আমাদের বেঈমান বলবে। জনগণ আমাকে থুথু দেবে। এখন আমাদের হুমুতো বিরোধী দল/বিএনপিকে ছাড়াই সরকারে গেলেন। নির্বাচনেও যাচ্ছেন। তাই হুমু মুরুব্বির বয়ান অনুযায়ী এখন আমাদের সামনে একটি পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে ওনার কথা বাস্তবায়ন করা। সেজন্য আমি জনগণকে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি- দয়া করে আপনারা আপনাদের ওপর অর্পিত পবিত্র দায়িত্ব পালন করুন। এক জায়গায় জমায়েত হয়ে আসুন আমরা হুমুর প্রতি গণ থুথু নিক্ষেপ করি। ’ জয়নাল আবেদীন রুবো তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ বিশ্ববেহায়া কমিটির অন্যতম সংগঠক ও ভারপ্রাপ্ত আমীর মোহাম্মদ এরশাদ হোসেন ওরফে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বিগত কিছু দিন ধরে রাজনীতির কর্দমাক্ত মাঠে রাজনীতির বল খেলতে গিয়ে বর্তমান টালমাটাল ও ভীতিকর পরিস্থিতিতে দেশের অভাগা মানুষদের কিঞ্চিত্ বিনোদন দেয়ার লক্ষ্যে হরেক রকম স্টাইলে আছাড় খাচ্ছেন। আজকে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ফাইনাল আছাড় খাওয়ার পর্ব। ফারুক পারভেজ তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ গালির বিবর্তন : মীরজাফর, গাধা, ছাগল, গরু, রাজাকার, ছাগু, ছুপা ছাগু, আওয়ামী লীগ, এরশাদ এবং সর্বশেষ ‘ তুই মানুষ নাকি এরশাদ??