আজ বুধবার গোয়ালমারী-জামালকান্দি যুদ্ধদিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ছিল ঈদ-উল ফিতর। মসজিদ থেকে মুয়াজ্জিনের ফজরের আযানের ধ্বনির সাথে সাথে পাকসেনাদের মর্টারের আওয়াজে এলাকা প্রকম্পিত হয়ে উঠে। গোয়ালমারী-সোনাকান্দা ও মন্থনে ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প। ঈদের দিনে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে ক্যাম্পে আক্রমণ চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘায়েল করা যাবে ভেবে সেদিন পাকহানাদাররা রাজাকারদের পরামর্শে গোয়ালমারি-জামালকান্দি এলাকায় প্রচণ্ড আক্রমণ চালায়। ঈদকে সামনে রেখে ৪/৫ দিন পূর্বেই ক্যাম্প গুটিয়ে পার্শ্ববর্তী সোনাকান্দা, উজিয়ারা, মন্থন, জামালকান্দি, ঝাউতলী, কামাইরাকান্দি প্রভৃতি গ্রামগুলোতে মুক্তিযোদ্ধারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। এ যুদ্ধে শহীদ হন, রুহুল আমিন, মোস্তাক আহমদ, ইয়াসীন পাগলিনী, আব্দুর রহমানসহ অনেকে।
পাকহানাদাররা উত্তরদিকে দাউদকান্দি সদরে পালিয়ে গেলেও পরদিন সকালে স্থানীয় গ্রামগুলোর ডোবানালায় নিহত পাক-হানাদারদের মৃতদেহ ভেসে উঠে। এ যুদ্ধে ৪০ জন পাক-হানাদার নিহত হয়।
এ যুদ্ধ এবং শহীদদেরকে স্মরণ করে রাখতে গোয়ালমারী বাজারে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে কিছু কাজ করার পর অর্থাভাবে তা থেমে যায়।
