নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিরোধী দলীয় জোটের বিরামহীন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এক ভাষণে সংবিধানের আওতায় নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের একটি রূপরেখা দেন এবং একইসঙ্গে বিরোধী দলের কাছে ঐ প্রস্তাব পেশ করেন। কিন্তু বিরোধী দলীয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সদস্যদের মধ্য থেকে পাঁচজন পাঁচজন করে মোট দশজন সদস্য নিয়ে এবং একজন নিরপেক্ষ নির্দলীয় ব্যক্তিকে প্রধান করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব করেন। যদিও তাঁর এই প্রস্তাব সংবিধান বহির্ভূত এবং কার্যকর করা নিয়েও যথেষ্ট বিতর্ক আছে। যা হোক, এই প্রস্তাব পালটা প্রস্তাবের বিষয়ে আমাদের কয়েকটি মৌলিক বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। নতুবা সমস্যা থেকেই যাবে। যেমন নির্বাচনকালীন যে সরকারই হোক সেটা অবশ্যই সংবিধানের মধ্য থেকে হতে হবে এবং প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নির্বাচনের জন্য প্রযোজ্য হতে হবে। একইসঙ্গে গণতন্ত্রের জন্যও সহায়ক হতে হবে। কারণ তা না হলে শুধু বাংলাদেশের আইনে নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও তা সংবিধান বহির্ভূত সরকার হিসেবে গণ্য হবে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সদস্যগণ এবং এর প্রধান অনির্বাচিত নির্দলীয় হলে সেটিও সংবিধান বহির্ভূত এবং বেআইনি হবে। তাছাড়া এই ব্যক্তিগণ যে দল নিরপেক্ষ হবেন এবং কোনো দলের হয়ে কিংবা নিজের স্বার্থে কাজ করবেন না এমন গ্যারান্টিও দেওয়া যাবে না। যেহেতু এইসব ব্যক্তি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নন এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধও নন। তাই ব্যক্তিগত চিন্তা-চেতনার পরিবর্তে সংবিধানসম্মত সকল গণতান্ত্রিক দেশে প্রচলিত এবং সকল সময়ের উপযুক্ত একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে নির্বাচন করতে হবে।
চট্টগ্রাম
