দেশবাসী আরেকটি ওয়ান-ইলেভেন চায় না

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ২১:০৪
দেশের প্রধান দু’দল/জোটের রাজনৈতিক অবস্থান দেশবাসীকে প্রতিনিয়তই ভাবাচ্ছে। নানা মত-নানা জন-নানা ফর্মূলা— এইসবের ভেতর দিয়ে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে সংকট। একেকটি দিন যাচ্ছে মানে হলো সংকট সমাধানের জন্য একটি করে দিন কমছে। বাড়ছে উদ্বেগ আর উত্কণ্ঠা। একদিকে তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকার ছাড়া বিরোধী দলের নির্বাচন বয়কটের হুমকি, অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচন— যেন রেললাইন বহে সমান্তরাল! তাহলে কি আমরা আরেকটি ১/১১-র দিকে জেনে-বুঝেই এগোচ্ছি? ন্যাড়া বেলতলায় নাকি একবারই যায়। আমাদের রাজনীতিবিদরা কী করছেন? প্রতিদিনই পত্র-পত্রিকা, সভা-সমাবেশ, টকশোতে আলাপ-আলোচনা চলছে। সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম থেকে শুরু করে বিদেশি বন্ধু আর শুভাকাঙ্ক্ষীরাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংকট সমাধানের আন্তরিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের উদ্বেগ আর উত্কণ্ঠার কথা সরকার ও বিরোধী দলকে প্রতিনিয়তই অবগত করছেন। তবে দিনশেষে সবাই উপসংহার টানেন এই বলে— রাজনৈতিক সমস্যা রাজনীতিবিদদেরই সমাধান করতে হবে বা নিজেদের সমস্যা নিজেদেরই সমাধান করতে হবে ইত্যাদি। দুই জোটের নেত্রীর যে অনড় অবস্থান তাতে দুইজনকে একত্রে এনে সংকট সমাধানের সাহসটুকু দেখাতে পারবেন কে? এই প্রশ্নের উত্তর—আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি। কারণ মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর কে হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি—এই নিয়ে যখন জল্পনা-কল্পনা চলছিল তখন প্রধান বিরোধীদলসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতারাই প্রায় সমস্বরে বলেছেন আবদুল হামিদ ছাড়া অন্য কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হলে সংকট আরো বাড়বে। বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমনটি প্রত্যাশা করা কঠিন হলেও বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতির বেলায় আমরা পেয়েছি। কিছুদিন আগে মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাঁর জন্মস্থান কিশোরগঞ্জ সফর করার সময়ও বলেছেন যে তিনি কোনো দলের রাষ্ট্রপতি নন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। অতি সমপ্রতি বিএনপির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গও বলছেন যে, স্পিকার বা প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে রাষ্ট্রপতির ওপর তাঁদের আস্থা অনেক বেশি এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি কোনো উদ্যোগ নিলে তাতে তাঁরা সাড়া দেবেন। আমাদেরও বিশ্বাস— তিনি দল-মতের ঊর্ধ্বে আছেন এবং থাকবেন। তাঁর মতো বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ব্যক্তির পক্ষেই দেশের এমন সংকটময় মুহূর্ত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তিনি কোনো উদ্যোগ নিলে সেটি নিঃসন্দেহে প্রশংসিত হবে। বিরোধী দলীয় নেত্রীর কাছে অনুরোধ রাখতে চাই— জোটের নেত্রী হিসেবে সংযমী মনোভাব নিয়ে সংকট সমাধানে আন্তরিক হোন। সেইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করতে চাই— দয়া করে অবস্থান পরিবর্তন করে সংকট সমাধানে আন্তরিক হোন। আমরা শান্তিপূর্ণ দেশবাসী আরেকটি ওয়ান ইলেভেন চাই না। আমাদেরকে মুক্তি আর উন্নতির পথে যেতে সহায়তা করুন। এবং প্রমাণ করুন যে সত্যিই রাজনৈতিক সমস্যা রাজনীতিবিদরাই সমাধান করতে পারেন। ময়মনসিংহ