জনগণের বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হতে হবে

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:২২
একটি বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে আবারো সংলাপের তাগিদ দিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা। তিনি বলেন, এমন নির্বাচন হতে হবে যা হবে জনগণের চোখে বিশ্বাসযোগ্য। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত নভেম্বর মাসের মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে অ্যামচেম ড্যান মজীনাকে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানায়। অ্যামচেম সভাপতি আফতাব উল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অ্যামচেমের নির্বাহী পরিচালক এ গফুর। অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা ছাড়াও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা যোগ দেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা সম্প্রতি ঢাকা সফর করে যাওয়া মার্কিন সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালের বক্তব্যের সূত্র ধরে বলেন, নিশা দেশাই সুস্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেছেন। তা হল কোন অবস্থাতেই সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়। গণতন্ত্রে সহিংসতার স্থান নেই। সব দলকে শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পথ খুঁজে বের করতে প্রধান দলগুলোকে সংলাপে বসতে হবে। সংকট নিরসনে বাংলাদেশের বাইরে কারো ভূমিকা রাখার প্রয়োজন নেই। নেতৃবৃন্দকেই টেবিলে বসে ভাল নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। ড্যান মজীনা বাংলাদেশে দুই বছর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক এখন যে পর্যায়ে আছে তা অতীতে কখনোই ছিল না। এই সময়ে দুই দেশের অংশীদারিত্ব গভীর, সম্প্রসারিত ও শক্তিশালী হয়েছে। এর ফলে উপকৃত হচ্ছে দুই দেশের জনগণ, বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র উপযুক্ত ভূমিকা রাখছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, স্বাধীনতার সময়ে কিছু বিখ্যাত লোক বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসাবে মন্তব্য করেছিল। বাস্তবে বাংলাদেশ ‘উপচেপড়া ঝুড়ি’তে পরিণত হচ্ছে। অ্যামচেম সভাপতি আফতাব-উল ইসলাম সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আজ বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের প্রধান সমস্যা বিদ্যুত্, গ্যাস সংকট বা অন্য কিছু নয়। বড় ভয় আর আতঙ্ক হল রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সহিংসতা, রাজনীতিবিদদের এটা বুঝতে হবে। যারা ক্ষমতায় আছেন কিংবা যারা ক্ষমতা যাবেন তাদের এটা বুঝতে হবে দেশের উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির স্বার্থেই।