কর্মসংস্থানে ব্যর্থতাই টেকসই দারিদ্র্য দূরীকরণের অন্তরায়

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৩০
স্বল্প উন্নত দেশগুলোতে (এলডিসি) গত দশ বছরে ভাল প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে সে প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে খুব বেশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়নি। বিশেষ করে যুবক শ্রেণীকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রতি বছর যে পরিমাণ মানুষ কর্মক্ষম হচ্ছে সে পরিমাণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাচ্ছে না। এজন্য দীর্ঘমেয়াদে এবং টেকসইভাবে দারিদ্র্যও দূর করা যাচ্ছে না। জাতিসংঘের উন্নয়ন ও বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থার (আঙ্কটাড) প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্বের ৪৯টি এলডিসি দেশের তথ্য নিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংস্থাটি। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) তাদের নিজস্ব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. ফাহমিদা আক্তার খাতুন সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এসময় সিপিডির পরিচালক ড. আনিসাতুল ফাতেমা ইউসুফ ও সহকারী গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম উপস্থিত ছিলেন। প্রতি বছর যেকোন একটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আঙ্কটাড। এবছর অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, এদেশে মানুষের মাথাপিছু আয়, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, মানবসম্পদ, দারিদ্র্যতা প্রভৃতি অর্থনৈতিক সূচকের দিক থেকে অন্যান্য এলডিসি’র চেয়ে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে রয়েছে। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যেসব শর্ত পূরণ প্রয়োজন তার প্রায় সবগুলোই ইতিমধ্যে বাংলাদেশ পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে যে হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে সে অনুযায়ী হলে এলডিসি থেকে বের হয়ে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে ২০২৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর প্রবৃদ্ধি খুব ভাল হলেও ২০২১ সালের আগে তা কখনোই সম্ভব নয়। ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে উত্পাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে তাগিদ দেয়া হয়েছে। এজন্য মূলধন পুঞ্জীভূত, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে। মূলধন পুঞ্জীভূত করার জন্য নিয়মিত দাতাদের পাশাপাশি অনিয়মিত এবং যেসব উঠতি অর্থনীতির দেশগুলোর দিকেও যেতে হবে। তাদের কাছ থেকে বিনিয়োগ আসলে দেশে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি উভয়ই বাড়বে। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে কৃষি থেকে ক্রমান্বয়ে শিল্প ও সেবার দিকে যেতে হবে। সেসব খাতে যেসব কর্মসংস্থান হয় এমন খাতকে প্রাধান্য দেয়ার কথা বলা হয়েছে। দেশের অস্থিতিশীল রাজনীতি অর্থনীতির উপর কি ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে- এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে অর্থনীতির যে ভাল ধারায় রয়েছে তা ভেঙে পড়বে। এতে দেশ বিনিয়োগ হারাবে, কর্মসংস্থান কমে যাবে। ফলে দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে ?না। প্রতি পাঁচ বছর পর পর যদি রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে পড়ে যায় তাহলে একদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে অন্যদিকে মানব সম্পদ দক্ষতার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। এলডিসিগুলো কিভাবে একটি টেকসই ও উন্নয়নশীল অর্থনীতি পেতে পারে প্রতিবেদনে তার কিছু সুপারিশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সুপারিশগুলোর মধ্যে অন্যতম হল, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে সুন্দরভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য বাজেট ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ের পাশাপাশি পারস্পরিক আঞ্চলিক সহযোগিতা, কর্মসংস্থান তৈরির জন্য সরকার ভৌত অবকাঠামো ও মানবসম্পদ তৈরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরি এবং উদ্যোক্তাদের নীতিসহায়তাসহ সবধরনের সহায়তা প্রদান। প্রসঙ্গত, ৪৯টি এলডিসি দেশের মধ্যে ৩৩টি আফ্রিকা মহাদেশে, ১০টি এশিয়া মহাদেশে, ৫টি প্যাসিফিক অঞ্চলে এবং একটি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অবস্থিত।