পার্বত্য চুক্তির ৪৮টি ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৩১
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সাথে সম্পাদিত ৭২টি চুক্তির মধ্যে ৪৮টি ধারা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা সংসদকে এ কথা জানিয়েছেন। গতকাল দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের জন্য প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। মো. শফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ এর আগের সরকারে থাকার সময় ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে ৭২টি ধারার চুক্তি সম্পাদিত হয়। এর মধ্যে চুক্তির ৪৮টি ধারা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি ধারা আংশিক বাস্তবায়ন এবং নয়টি ধারা বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ : নূরুল ইসলাম বিএসসি’র প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে সকল কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরকার এ পর্যন্ত তিন দফা সারের মূল্য কমিয়েছে। বিদ্যুত্ উত্পাদন : গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার সারাদেশে ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুত্ সুবিধা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছে। এর আওতায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুত্ উত্পাদন এবং পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্কের সংস্কার, পুনর্বাসন ও সমপ্রসারণে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে। অপরদিকে বিদ্যুত্ সিস্টেম লস ১৮.২% থেকে হ্রাস পেয়ে ১৪.৩৬% এ দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুত্ সুবিধা প্রাপ্ত জনসংখ্যা ৪৭% থেকে ৬২% এ দাঁড়িয়েছে। জিডিপি ও মাথাপিছু আয় বেড়েছে : নাছিমুল আলম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। গত সাড়ে চার বছরে জিডিপি ও মাথাপিছু জাতীয় বেড়েছে। কমেছে দারিদ্যের হার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সুযোগ-সুবিধা : সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২২৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে দুই হাজার ৯৭১ ব্যক্তি/পরিবারের জন্য বাসস্থান নির্মাণের সংস্থান রয়েছে। আর প্রকল্প আগামী বছরের জুন মাসে বাস্তবায়ন হবে। ইতিমধ্যে ৮০টি বাসস্থান নির্মাণ কাজ প্রায় সমাপ্ত হয়েছে এবং ৩০০টি বাসস্থান নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।