দরিদ্র মানুষেরা কীভাবে আরোগ্য হবে?

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৩, ২২:০৭
ভেজাল কিংবা সময় উত্তীর্ণ হওয়া বাতিলযোগ্য ওষুধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরেই ওষুধ বিক্রেতারা আন্দোলনের হুমকি দিলো। ওরা ভেজাল ওষুধ বিক্রি করবে নির্বিচারে— সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বাধা দিতে পারবে না। হায়রে আমার বাংলাদেশ। কতিপয় ওষুধ বিক্রেতা ব্যবসায়ী প্রকৃত ওষুধ ব্যবসায়ীদের ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিয়েছে। আবার কিনা ওরা আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে! বিশ্বে ভেজাল ওষুধ বিক্রির দাবি বাংলাদেশ ছাড়া আর কোথাও ওঠে বলে আমাদের জানা নেই। কিছুদিন আগে কলকাতাগামী একটি পরিবহনে যত যাত্রী ছিল তাদের মধ্যে আমি ছাড়া অন্য সবাই ছিল রুগী এবং তাদের নিকট আত্মীয়-স্বজন। দেশে সুচিকিত্সা পায় না, মেলে না ভালো ওষুধ— এ দুটি কারণে রুগীরা ছুটছে ভারতের বিভিন্ন স্থানে। অথচ আমাদের দেশে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকের অভাব নেই। কেউই যেন এদের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না। এও দেখেছি দেশীয় ওষুধের প্রতি আস্থা নেই, এজন্যও অনেকে ভারতে যান ওষুধ আনতে। এটা কি ভালো কথা। নিশ্চয়ই না। শৈশবে একটা ছবি দেখেছিলাম-ডাক্তার নামের সেই ছবিতে মস্ত বড় জমিদারের ছেলে পংকজ কুমার মল্লিক চিকিত্সক হয়ে অর্থ বৈভব জমিদারিত্ব ভুলে গিয়ে দূর পল্লীতে গিয়ে দরিদ্র রুগীদের সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করলেন। পল্লীতেই তিনি হাসপাতাল স্থাপন করে ওষুধ তৈরিতেও মনোযোগী হলেন। নিত্যনতুন ওষুধ বানান, রুগীদের চিকিত্সা দেন। দরিদ্রদের কাছ থেকে নেননি কোনো অর্থকড়ি। এমনটি কি আর আশা করা যায়? এও শুনি সরকারি চিকিত্সকদেরকে মফস্বলে পোস্টিং দেওয়া হলে তারা সেখানে যেতে চান না। তাহলে পল্লীর দরিদ্র মানুষেরা চিকিত্সা কী করে পাবে? লিয়াকত হোসেন খোকন ঢাকা