জজ, ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়েরে সরকারের পূর্বানুমতির বিধান সম্বলিত দুদক (সংশোধনী) বিল, ২০১৩ এ রাষ্ট্রপতি সম্মতি প্রদান করায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও রিপোর্টার্স এগেইন্সট করাপশন (র্যাক)। মঙ্গলবার গভীর রাতে তড়িঘড়ি করে বিলটিতে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর সংগ্রহ করার ঘটনায় এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটি গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত ১৭ নভেম্বর সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ-পূর্বক দুদক (সংশোধনী) বিল পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠাতে রাষ্ট্রপতির কাছে এক চিঠিতে আমরা আবেদন করেছিলাম। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে আমাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছি। সংশোধনীটি যে সংবিধান পরিপন্থি, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সাথে সাংঘর্ষিক ও জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন এ বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আমরা রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলাম। এরপরও বিলটিতে এক প্রকার ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রাষ্ট্রপতির সম্মতি গ্রহণ করা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান হওয়া সত্ত্বেও সংশোধনী অনুযায়ী বিশেষ একটি শ্রেণিকে কার্যত বৈষম্যমূলকভাবে বিশেষ সুবিধা দেয়ার ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি যখন একমত হন, তখন জনগণ গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হয়। এছাড়া নতুন সংশোধনীতে দুদকের সচিব নিয়োগের এখতিয়ার সরকারের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। অথচ ইতিপূর্বে এই ক্ষমতা দুদকের হাতে ছিল। এই পরিবর্তনও দুদকের স্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে খর্ব করবে।
