‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে হবে’

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:২৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ভবিষ্যত্ প্রজন্ম যেন এটা নিয়ে গর্ববোধ করতে পারে সেজন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে হবে। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন হয়েছে তা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই হয়েছে। আওয়ামী লীগ সশস্ত্র বাহিনীকে কখনো নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেনি। বরং সশস্ত্র বাহিনীকে একটি দক্ষ, শক্তিশালী এবং আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা দরকার তা দৃঢ়তার সাথে করেছে। গতকাল সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের স্বজনদের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে এই অনুষ্ঠানে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্বজনদের হাতে সম্মানী চেক ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভাস্বর সশস্ত্র বাহিনী আমাদের জাতীয় অহংকার। সশস্ত্র বাহিনী তাদের নানাবিধ জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পেরেছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলাসহ উদ্ধার তত্পরতা ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনে সশস্ত্র বাহিনী দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনে অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে তারা বিশ্ববাসীর কাছে শুধু দেশের ভাবমূর্তিকেই উজ্জ্বল করেনি বরং জাতিসংঘের ভাবমূর্তিকেও উজ্জ্বলতর করেছে। প্রধানমন্ত্রী পিলখানার ঘটনায় শাহাদাত্ বরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মরণ করে বলেন, ইতিমধ্যে এই জঘন্য ঘটনায় জড়িতদের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এত বড় ফৌজদারী অপরাধের বিচার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের দ্বিতীয় নজির নেই। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সার্বিক উন্নতিকল্পে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা ভিশন-২০২১ অনুযায়ী সেনাবাহিনীর অপারেশনাল ক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের জন্য প্রথমবারের মত অত্যাধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জামাদি, ৪র্থ প্রজন্মের ট্যাংক এমবিটি-২০০০, আর্মার্ড রিকভারি ভেহিকেল, গোলন্দাজ বহরের জন্য প্রথমবারের মত সেলফ প্রপেল্ড গান কামানসহ বিভিন্ন ধরনের রাডার, পদাতিক বাহিনীর জন্য এপিসি ও অন্যান্য আধুনিক সরঞ্জাম, আর্মি এভিয়েশনের জন্য আধুনিক হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন সমরাস্ত্র ক্রয় করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়নেও বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। নৌবাহিনীর নতুন ঘাঁটি বিএনএস শেরে বাংলা উদ্বোধন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার গঠনের পর থেকে ২টি অফসোর প্যাট্রোল ভেসেল, ২টি লার্জ প্যাট্রোল ক্রাফট ক্রয়, খুলনা শিপইয়ার্ডের সাথে ৫টি প্যাট্রোল ক্রাফট নির্মাণ চুক্তি, নৌজাহাজের যুদ্ধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৬টি জাহাজে আধুনিক সি-৭০৪ মিসাইল সংযোজন, গণচীন থেকে ফ্রিগেট ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর, দুইটি করভেট ক্রয়, যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড থেকে একটি সেক্রেটারি ক্লাস জাহাজ ক্রয়, একটি অয়েল ট্যাংকার লঞ্চিং করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক স্বাগত বক্তব্য রাখেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম এবং তিন বাহিনীর প্রধানসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া, নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল এম ফরিদ হাবিব ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন। প্রধানমন্ত্রী পরে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের নবনির্মিত ভবন এবং ঢাকা সেনানিবাসে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর গেটের পূর্বদিকে স্বাধীনতা টাওয়ার উদ্বোধন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে এসে পৌঁছালে তিন বাহিনী প্রধানগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানগণ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, কূটনীতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট নাগরিক এবং তাদের পরিবারবর্গ যোগ দেন।