ছোট বিমানবন্দরের ফাঁদে!

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৯
বড় আকারের কোনো গাড়ি নিয়ে সরু গলিতে ঢুকে পড়লে যে কতটা বিপদে পড়তে হয় সেটা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। এমনকি নানা সময়ে এ ধরনের দু’চারটা ঘটনা প্রায় সবারই চোখে পড়ে। কিন্তু আকৃতিগত এই বিশালতার কারণে কখনো কোনো হাওয়াই জাহাজ বা বিমানকে কি বিপদে পড়তে শুনেছেন? আগে না শুনলেও সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্গো বা পণ্যবাহী উড়োজাহাজগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃত বোয়িং এর ড্রিমলিফটার সিরিজের একটি বিমান সম্প্রতি ভুল করে তুলনামূলক ছোট আকৃতির একটি বিমানবন্দরে নামার কারণেই সৃষ্টি হয়েছে অভাবনীয় এই সমস্যার। সাধারণত রানওয়ে ছোট হলে বা উড্ডয়ন-অবতরণের জন্য পর্যাপ্ত স্থান না থাকলে বড় আকৃতির বিমানগুলো কখনোই তুলনামূলক ছোট বিমানবন্দরগুলোতে অবতরণ করে না। তবে গেল সপ্তাহে বোয়িং ৭৪৭ এর এই ড্রিমলিফটার কার্গোটি অনেকটা ভুলবশতই নেমে পড়ে কানসাস অঙ্গরাজ্যের উইচিটা ডিসট্রিক্টের সেজউইকে অবস্থিত কলোনেল জেমস জাবারা এয়ারপোর্টে। অথচ পূর্ব-নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এটির অবতরণ করার কথা ছিল কানসাসের একই ডিসট্রিক্টের অন্য আরেকটি বিমান অবতরণের স্থান ম্যাককনেল এয়ার ফোর্স বেজ। কাছাকাছি স্থান ও কাছাকাছি নামের কারণে এই ভুলটি হতে পারে বলে অনেকে ধারণা করলেও এখন এই ভুল নিয়ে ভালোরকমের বিপাকেই আছে বোয়িং কর্তৃপক্ষ। কেননা মূলত অন্যান্য বিমান তৈরির ভারী যন্ত্রাংশ বহনকারী এই কার্গো বিমানটির উড্ডয়ন বা টেক-অফের জন্যই প্রয়োজন পড়ে ন্যূনতম ৯১১৯ ফুট দীর্ঘ রানওয়ের। অথচ ড্রিমলিফটার বিমানটি ভুলবশত যে এয়ারপোর্টে অবতরণ করেছে সেই জেমস জাবারাতে রানওয়ে রয়েছে সাকূল্যে মাত্র ৬১০০ ফুটের মতো। এ অবস্থায় প্রথম দিকে প্লেনটিকে রানওয়ে থেকে আরও খানিকটা দূরে সরিয়ে নিতে বোয়িং একটি বিশেষ টাগ যুক্ত করলেও সেটি ব্যর্থ হয়। কাজেই শেষ পর্যন্ত এই বিশালাকৃতির কার্গোটি কী করে পুনরায় আকাশে উড়বে সেটি এখন এক অসম্ভব চিন্তা হয়েই দেখা দিয়েছে বোয়িং কর্তৃপক্ষের কাছে।