তোমার জন্য মানানসই অনুষঙ্গ

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৩, ২০:০০
গোল মুখের সাথে কেমন সানগ্লাস মানায়, লম্বা কামিজের সাথে কেমন ব্যাগ নেওয়া উচিত—এ নিয়ে অনেকেরই চিন্তার অন্ত নেই। দেহের গড়ন এবং পোশাকের সাথে মানিয়ে জুতা, ব্যাগ, টাই, বেল্ট, ঘড়ি এসব অনুষঙ্গ মানুষের ব্যক্তিত্ব ও রুচির প্রকাশ ঘটায়। এ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনটি লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন তাহের মানিক সেজেগুজে ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়ার আগে আয়নায় দেখে নেওয়া দরকার নিজের সাথে আদৌ ওই ব্যাগটা মানাচ্ছে কি না। একবার পরখ করে নিলে বোঝা যায়, ব্যাগটা পোশাকের রং বা ধরনের সাথে মানাচ্ছে কি না বা যেখানে যাচ্ছেন সেখানে এই ব্যাগটাই আবার অন্য কারও কাছে থাকার সম্ভাবনা আছে কি না। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে তাই এমন চিন্তা মাথায় রাখা ভালো। যেমন ধরুন, বিয়েতে পরবে বলে আনন্দি যে জামাটা কিনেছে, বাসায় গিয়ে দেখে খালাতো বোন শর্মীও প্রায় একই রকম জামা এনেছে। বেচারি আনন্দির মনটাই খারাপ হয়ে যায়। খুব ভেবেছিল সবার চেয়ে আলাদা হবে ওর লুক। যখন যে পোশাকের চল, তখন সবার পরনে মোটামুটি একই ধাঁচের পোশাকই দেখা যায়। ভিন্নতা চোখে পড়ে কম। খুব সহজ সমাধানটা তখন বাতলে দেন আনন্দির বড় বোন। তিনি ওই পোশাক এবং আনন্দির গড়ন অনুযায়ী ভিন্ন ঘরানার কিছু অনুষঙ্গ বাছাই করে দেন। আর তাতেই বাজিমাত! অনুষ্ঠানের দিন দেখা গেল বিয়ে বাড়ির ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরা শুধু আনন্দির দিকেই ছুটছে। উপযুক্ত অনুষঙ্গ এভাবেই আপনার ব্যক্তিত্বে আলাদা একটি মাত্রা যোগ করে। যেমন ধরুন ব্যাগ। আছে কত ধরনের ব্যাগ। ক্যাম্পাসে যেতে সাধারণ ব্যাগের পাশাপাশি মেয়েরা আজকাল ডাবল সোল্ডার ব্যাকপ্যাকটা বেশ ব্যবহার করছে। এতে করে নতুন স্টাইল যেমন হয়, সাথে অনেক জিনিস নেওয়া যায় বলে কাজেও লাগে। আরও আছে ছোট বড় বেল্টওয়ালা এক কাঁধের ব্যাগ, ক্লচ, রিস্টলেট, পাউচ ইত্যাদি। ব্যাগের মধ্যে রাখা ছোট আয়না, মেকআপ বক্স, লিপস্টিক, পকেট নোটবুক—এসব কিন্তু অনুষঙ্গই। কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সময় সাজার জন্য সময় করতে না পারলে গলায় স্টাইলিশ লকেট বা পেন্ডেন্ট আর হাতে চুরি-ব্রেসলেট-রিস্টব্যান্ড-মালা পরে নিলেই মেকআপের অভাব খুব একটা থাকে না। বাজারে বিভিন্ন ধরনের গয়না পাওয়া যায়। এসব অনুষঙ্গের কাঁচামালে ভিন্নতা ও বৈচিত্র্য এসেছে। নতুনত্ব থাকে ডিজাইনেও। এ ছাড়া স্কার্ফ-দোপাট্টা-উত্তরীয়-ওড়না-গামছা শুধু কাঁধের উপর নয়, হাতে বা মাথায় স্টাইল করে পরতে পারেন। চুলে পরার মজার সব অনুষঙ্গ এখন বাজারে। টিনএজারদের মধ্যে এসবের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। ক্লিপ, কাটা, রিবনের ভিড়ে কালারফুল হেয়ার ২-১ জন নজর কাড়ে বৈকি। নাকের ফুল, নাকের রিং এসবের পাশাপাশি নথের ব্যবহার নতুন ট্রেন্ড। নেইল পলিশ দেওয়াটা এখন শুধু আর সাজগোজ নয়, নেইল আর্ট, তাতে পুতি-ঝুমকা লাগানোকে এখন অনুষঙ্গ হিসেবেই দেখা হয়। সেই সাথে আঙ্গুলে বিভিন্ন ধরনের আংটি। উপলক্ষ বুঝে বড় ও ছোট সাইজটা বেছে নিবেন। আজকাল ছেলেরাও অনেক ধরনের অনুষঙ্গ ব্যবহার করে। এসব অনুষঙ্গ যেমন একজনের স্টাইল প্রকাশ করে, তেমনি রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, চশমা, সানগ্লাস, চাবির রিং, ঘড়ি, লকেট, ব্রেসলেট, ওয়ালেট, ক্যাপ, স্কার্ফ, লাইটার, সিগারেট কেস ইত্যাদি অনুষঙ্গ চলার পথে ছেলেদের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। ছেলেদের ফ্যাশনে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ চশমা এবং সানগ্লাস। পোশাক এবং চেহারার সাথে মানানসই চশমা ছেলেদের ব্যক্তিত্ব এবং রুচি দুটোই প্রকাশ করে। গোলগাল চেহারার ছেলেরা পাতলা ফ্রেমের আয়তকার গ্লাস ব্যবহার করতে পারেন। যাদের চেহারা একটু লম্বাটে তারা গোল বা ডিম্বাকার গ্লাস ব্যবহার করলে ভালো লাগবে। গ্লাসের রং অবশ্যই পোশাকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে । চশমার ব্র্যান্ডের মধ্যে রে ব্যান, পলিশ, পোরশে, গুচি, কাটিয়ার ইত্যাদি ব্র্যান্ডের চশমা পাওয়া যাবে পল্টন, মৌচাক, বসুন্ধরা সিটি ও গুলশানের চশমার দোকানগুলোতে । বেশ অনেকটা সময় ধরেই ছেলেদের চিরাচরিত ফ্যাশন অনুষঙ্গ হয়ে আছে ঘড়ি। ক্যাজুয়াল পোশাকে বা সব সময় চলার ক্ষেত্রে মোটা ডায়ালের প্লাস্টিক বেল্টের বা চেইনের ঘড়ি ব্যবহার করা যায়। ছেলেদের চলাফেরায় মানিব্যাগ এবং ওয়ালেটের রয়েছে বেশ কদর। টাকা-পয়সা, এটিএম কার্ড, ভিজিটিং কার্ড, আইডি কার্ড প্রভৃতি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বহন করতে মানিব্যাগ সেরা সমাধান। খুব অত্যাবশ্যকীয় না হলেও এই ধরনের অনুষঙ্গগুলো আমাদের ফ্যাশন ভাবনায় খুব ভালোভাবে জড়িয়ে আছে। বরং প্রয়োজনীয়তা আছে বলেই অনুষঙ্গগুলো আমাদের ব্যবহার করতে হয়। সেই সাথে এসব অনুষঙ্গ আমাদের রুচি এবং ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। প্রয়োজনটা সবচেয়ে আগে। কিন্তু এরই মধ্যে যদি সাধ ও সাধ্যের একটা সমন্বয় করে ফেলা যায়, মন্দ হয় না। এখানেই পরিচয় আপনার স্বকীয়তার। সবার মধ্যে আপনার স্টাইলিস্ট ব্রেসলেটটা যদি হয় আলাদা ও নজর কাড়া, তাহলে প্রশংসাও আসবে না চাইতেই। অনুষ্ঠান, উপলক্ষ সারা বছর জুড়ে কিছু না কিছু হতেই থাকে। তাই একবার অনুষঙ্গ কেনা হলে সেটা যেমন বৃথা যায় না, তেমনি একটু মাথা খাটিয়ে কিনতে পারলে একই অনুষঙ্গ অনেক কিছুর সাথে ব্যবহার করা যায়। মডেল মৌ ও অনন্যা