স্থাপত্যে আর চারুকলায় পড়ছে তারা। পাঠ্যের বাইরে বেরিয়ে কিছু করার চিন্তা তাদের। এভাবেই শুরু জংশনের। শুরুতেই তাদেরকে নাড়া দেয় ঢাকা শহরের মলিন হয়ে থাকা স্কুলগুলো। যার শিক্ষার্থীরা পুরো শৈশবটাই কাটিয়ে দেয় বদ্ধঘরে, তারা কেমন করে আলোকিত পৃথিবীর স্বপ্ন দেখবে? এ ভাবনা থেকেই বার্জার ব্রিথ ইজির পৃষ্ঠপোষকতায় ‘ন্যাচার ইন স্কুল’-এর যাত্রা শুরু। এই আয়োজন নিয়ে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার স্কুলে কেটে যায় আমাদের আনন্দময় শৈশবের অনেকগুলো বছর। উচ্ছ্বল সেই দিনগুলোতে কোনো কিছুই যেন বাঁধ মানে না আমাদের, প্রতিদিনই নতুন নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটে উদ্যম সব শিশুদের মাঝ থেকে। সবার সেই সময়গুলো স্বপ্নের মতো রঙিন হয় না, ইঠ কাঠের শহরে বদ্ধ ঘরেও কেটে যায় কারও কারও স্কুলজীবন। আমাদের সীমাবদ্ধতাও যে আমাদের আটকে রাখতে পারে না, তারই অনন্য প্রয়াস ন্যাচার ইন স্কুল। স্কুলটা যেমনই হোক, দেশবরেণ্য স্থপতি আর শিল্পীদের পরামর্শে তাতে আসবে নতুন রূপ। আর বদলে দেওয়ার রঙের খেলায় সামিল হবে স্কুলের শিক্ষার্থীরাই। উত্সব হবে, ঘটা করে দেখব আমরা, চাইলেই কত সুন্দর হতে পারে আমাদের স্কুলগুলো। রং হবে, আঁকা হবে নতুন নতুন ফুল আর পাতা। ধুলো জমা মাঠটাতে থাকবে খেলার উপকরণও। যে সিঁড়িটাতে কেউ তাকাতো না, হয়তো সেটাই ঝলমল করে উঠবে। উদ্দেশ্য একটাই, আগামী প্রজন্মের এগিয়ে চলাকে রঙিন করে তোলা, তাদের কচি স্বপ্নগুলোকে রঙে রাঙিয়ে ধুলোবালির পৃথিবীতে হাজির করা। আহসানুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ, অলি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভর উদ্যোগে এ আয়োজনে একত্রিত হয় সমমনা অনেকেই। সবার লক্ষ্য শিশুদের সাথে নিয়ে বদলে দেবে ক্যাম্পাস। ১৫ নভেম্বর স্থপতি হাসিবুল কবির শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃক্ষ রোপনের মধ্য দিয়ে এই অভিযান সূচিত হয়। লাগানো হয়ে বিশের অধিক প্রজাতির গাছ। পরদিন ১৬ নভেম্বর বিকালে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী অংশ নেয় মূল আয়োজনে, তারা রঙে রাঙিয়ে নেয় পুরো ক্যাম্পাস। ক্যানভাসে এঁকে দেয় তাদের সব স্বপ্ন, সেই স্বপ্নের কথা লিখে উড়িয়ে দেয় বেলুনের সাথে। স্থপতি শামসুল ওয়ারেস, ভাস্কর মৃণাল হক এ সময় শিশুদের সাথে ছিলেন। বিকালে সবার সাথে নিজের স্থাপত্যের দিনগুলোর কথা ভাগ করে নেন স্থপতি ও অভিনেত্রী অপি করিম। এ আয়োজনের উদ্দেশ্য শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো, সেই সাথে তাদেরকে আরও বেশি নিজেদেরকে নিয়ে ভাবতে অনুপ্রাণিত করা। সুন্দর শৈশব একজন শিশুকে নতুন স্বপ্নের পথে ধাবিত করে, সেই লক্ষ্যেই তাদের এগিয়ে যাওয়া। জংশনের প্রধান সমন্বয়কারী আসিফ সালমান জানান, জংশন মূলত বাংলাদেশের একদল তরুণদের নিয়ে গড়ে ওঠা সংগঠন। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, যেটা নিজ থেকে হয়নি বা হচ্ছে না, সেটাকে সমমনা বন্ধুদের নিয়ে সামনে এগিয়ে নেওয়া। কিছু করতে পারার আনন্দেই তারা এক হচ্ছে, নিজেদের ইচ্ছেগুলোকে বাস্তব রূপ দিচ্ছে। এ কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যে তারা নিজেদের ওয়েবসাইট চালু করেছে। আর এসবকিছু যে তাদের অভিজ্ঞতার ঝুলিকে সমৃদ্ধ করছে তা বলাই বাহুল্য। ন্যাচার ইন স্কুলের টাইটেল স্পন্সর ছিল ‘বার্জার ব্রিথ ইজি’। এ আয়োজনে মিডিয়া সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে দৈনিক ইত্তেফাক, ঢাকা এফএম, লেটেস্ট বিডি নিউজ ডট কম। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী এই আয়োজনে সেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দিয়ে সার্থক করে তোলে শিশুদের স্বপ্নের স্কুল তৈরির এই প্রয়াস। ধীরে ধীরে সব স্কুলেই এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছে রয়েছে বার্জার ও জংশনের।
