একজন মেধাবীর গল্প

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৩, ২০:০১
অনেক প্রতিভাবান রয়েছেন যারা অল্প বয়সেই আপন আলোয় পৃথিবী আলোকিত করেন। তাদের প্রতিভার দ্যুতি আমাদের চমকিত করে। এ রকম ঘটনায় আমরা আশাবাদী হই, কারণ এরাই আগামীদিনের নেতৃত্ব দেবে। পালোমা নোয়োলা তেমনই একজন, সম্প্রতি যিনি পৃথিবীজুড়ে সাড়া জাগিয়েছেন গণিতে লক্ষ্যটা দেখিয়ে। তার কথা লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম গল্পের শুরুটা হয় মেক্সিকো শহরে। সেখানকার স্কুলগুলো বেশ নামকরা। মাঝেমধ্যেই শোনা যায় তাদের সাফল্যের গল্প। কিন্তু এবারের ঘটনাটা কিছুটা ব্যতিক্রম। কারণ স্কুলের একটি প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েও থেমে যাননি ছোট্ট মেয়েটি। তাকে নিয়ে আরও আগ্রহের সৃষ্টি হয় যখন স্কুলের বাইরে গিয়ে অন্যান্য স্কুলের সাথে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে ছিলেন ছোট্ট পালোমা। গণিতে তার পারফর্মেন্স দেখে আশপাশের সবাই মুগ্ধ হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, সব কিছু ছাপিয়ে যায় যখন তাকে নিয়ে লেখা হয় ‘ওয়ার্ল্ড’ ম্যাগাজিনে। মাত্র সপ্তাহ দুয়েকের ব্যবধানে জনপ্রিয় হয়ে যান এই ছোট্ট পালোমা। এটা হওয়ার আরও একটা কারণ হলো ম্যাগাজিনের কাভারের শিরোনামটা। সেখানে লেখা ছিল, ‘দ্য নেক্সট স্টিভ জবস’। আর এতেই এ কিশোরীকে নিয়ে হৈচৈ পড়ে যায়। মুহূর্তেই সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন নোয়োলা। ব্যাপারটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, স্টিভ জবস চলে যাওয়ার পর তার অনুপস্থিতিটা অনুভব করছে প্রযুক্তি বিশ্ব। মনে মনে যে জবসের মতো আরেকজনকে খুঁজছেন সবাই, সেটা বোধ হয় বলাই যায়। আর সেখানে ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের কাভারে দেওয়া শিরোনামটা সবাইকে নাড়া দিয়ে গেছে। সবারই মনে এক প্রশ্ন, মাত্র ১২ বছরের ছোট্ট পালোমা নোয়োলা কি হতে যাচ্ছেন নেক্সট স্টিভ জবস! শুরুটা যেভাবে হয় গত বছর মেক্সিকোর জাতীয় পর্যায়ের এক গণিত পরীক্ষায় নোয়োলা সর্বোচ্চ ৯২১ নম্বর পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। ওয়ার্ড ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে অবশ্য নোয়োলার চেয়ে তার শিক্ষক ৩২ বছরের সার্জো হুয়ারেজ কোরেয়ার শিক্ষাদান পদ্ধতির উপর বেশি আলোকপাত করা হয়েছে। কেননা এর ফলে কোরেয়ার শিক্ষার্থীরা স্প্যানিশ আর গণিতে বেশ ভালো নম্বর পাচ্ছে। যেমন নোয়োলা যে পরীক্ষায় ৯২১ নম্বর পেয়েছে, সেটাতেই ৯০০-র ওপর নম্বর পেয়েছিল নোয়োলারই নয়জন সহপাঠী। এ ব্যাপারে কোরেয়া বলেছেন, তিনি যে পদ্ধতিতে শিক্ষা দেন তার অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছেন ব্রিটেনের নিউক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুগত মিত্রের ‘মিনিমালি ইনভেসিভ এডুকেশন’ ধারণা থেকে। এই শিক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা সমস্যা সমাধানে নিজেদের কিউরিওসিটি বা আগ্রহ এবং স্বশিক্ষা কাজে লাগায়। আর ১২ বছরের নোয়োলা সম্পর্কে কোরেয়ার মন্তব্য, ‘সে যদি স্টিভ জবসের মতো সুযোগ পেত তাহলে সে তার বিষয়ে একজন জিনিয়াস হতো।’ এ কথার মাধ্যমে কোরেয়া আসলে নোয়োলা যে পরিবেশে লেখাপড়া করছে, সেটা তুলে ধরেছেন। মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে মাতামোরোস শহরে নোয়োলার স্কুল অবস্থিত। স্কুলে নেই পানির ব্যবস্থা, নেই কোনো টেলিফোন সংযোগ। এমনকি সার্বক্ষণিক বিদ্যুতও নেই নোয়োলার স্কুলে। অবশ্য মেক্সিকোর বেশিরভাগ স্কুলেরই এই অবস্থা। আর তাই এমন পরিবেশ পড়াশোনা করে হাইলাইটেড হওয়াতে নোয়োলা বিশ্বের সবার সামনে একটা উপমা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।