আমরা সবাই নিজস্ব পরিসীমায় বিভিন্ন মাপের এক একজন মানুষ। প্রত্যেকেই চাই নিজস্ব পরিসীমায় স্ব-স্ব মূল্যবোধকে প্রস্ফুটিত করতে। এ লক্ষ্যে কখনো আবার শোডাউন করতে দ্বিধাবোধ করি না। চাপাবাজি, গলাবাজি করে তিলকে তাল করতেও দ্বিধাবোধ করি না। কখনোই ভাবি না, আমার ব্যক্তি চরিত্রে ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। যে ত্রুটিগুলো আমার পরিবারিক বা প্রাতিষ্ঠানিক বলয়ে আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছে। হ্যাঁ আমার অনেক গুণও আছে বটে । পাশাপাশি আমার অজানা সুপ্ত ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো সামাজিক মূল্যবোধকে ভূলুণ্ঠিত করে আমার অনেক গুণ ও প্রশংসাকে ম্লান করে দিতে পারে। এজন্য সমাজে হতে হয় হেয় প্রতিপন্ন । একান্ত আপন পরিবারিক সদস্যবৃন্দ কেউ আমার দোষ-ত্রুটিগুলোকে তুলে ধরলে আমি বিক্ষোভে ফেটে পড়ি । সৃষ্টি হয় বৈরিতা । অনেক সময় সম্পর্কেরও অবনতি ঘটে।
মোদ্দা কথা, আমাকে সব সময় মনে রাখতে হবে যে মানুষ মাত্রেই ভুল-ত্রুটি থাকবে এবং আমরা কেউই ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নই। এ কথার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে আত্মসমালোচনার দ্বার উন্মোচন করতে হবে। তৈরি করতে হবে আত্মসমালোচনার প্লাটফরম। নিজেকে নিয়ে ভাবতে হবে। নিজের সমালোচনা নিজেকেই করতে হবে। বের করতে হবে ত্রুটিগুলোকে। সঙ্গে সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংশোধনের অনুশীলন করতে হবে। তাহলেই আমরা আত্মশুদ্ধির দোরগোড়ায় পৌঁছতে সক্ষম হবো।
আমরা অনেক সময় নিজের ভুল-ত্রুটি বুঝতে পারি না। এজন্য আত্মসমালোচনার প্লাটফরমে একে অন্যের ত্রুটিগুলোকে তুলে ধরার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। প্রাণ খুলে একে অন্যকে যেন শুধরে দিতে পারি। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন উদার মন ও সহযোগিতার মনোভাব। আরো প্রয়োজন বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন মন। এর সমন্বয় হলেই আমাদের আত্মশুদ্ধির পথ সুগম হবে। ফলে একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি পাবে । সুপ্ত ত্রুটিগুলো মুছে ফেলে সমাজকে কিছু দিতে পারবো।
বরিশাল
