কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত ইটনা উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি উন্মুক্ত জলাশয়ে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে নির্বিচারে মাছ ধরছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। নদীর ঠিক মাঝ বরাবর বাঁশ ও জালের তৈরি এই বাঁধে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মাছের প্রজননও ব্যাহত হচ্ছে। বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে জলযান চালকদের। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আশপাশের জলমহাল ইজারা নেয়া জেলেরাও।
মিঠামইন উপজেলার ঢাকি ইউনিয়নের আতপাশা ভয়রা মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হরেন্দ্র চন্দ্র দাস, সদস্য রবীন্দ্র চন্দ্র দাস ও অহির উদ্দিনসহ সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, তারা ২০০৯ সালে একশ’ ৮১ একর আয়তনের বউবাটলাই ও জয়নগর ডুইয়ারপাড় জলমহালটি সরকারের কাছ থেকে ছয় বছরের জন্য ইজারা নেন। কিন্তু পার্শ্ববর্তী ইটনা উপজেলার কাকটেঙ্গুর ও ছিলনি-নূরপুর গ্রামের আব্দুল হান্নানসহ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জলমহালটির প্রবেশমুখে উন্মুক্ত কাতিয়ারকোনা খালে গত বছর অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করেন। তারা খালের স্রোত আটকে ভীমজাল এবং কারেন্টজাল দিয়ে নির্বিচারে (পোনা ও মা-মাছসহ) মাছ ধরতে থাকেন। তাদের এই তত্পরতায় এলাকার মত্স্য সম্পদ হুমকির মুখে পড়েছে, পাশাপাশি সংলগ্ন জলমহাল বউবাটলাই, জয়নগর ডুইয়ারপাড়, আতপাশা ও জয়সিদ্ধির ইজারাদাররাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কাতিয়ারকোনা খালের সঙ্গে এসব জলমহালের সরাসরি সংযোগ রয়েছে।
বিষয়টি ইটনা উপজেলা প্রশাসনকে জানালে গত বছর এই অবৈধ বাঁধটি পুলিশ ভেঙ্গে দেয়। গত ছয় নভেম্বর আবারো অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করে তারা মত্স্য নিধন শুরু করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সমিতির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করা হয়। গত ১৪ নভেম্বর ইটনা থানার এসআই নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ পাঠিয়ে বাঁধটি আবার ভেঙ্গে দেয়া হয়। তবে পুলিশ বাঁধের বাঁশগুলো জব্দ না করায় প্রভাবশালীরা পরদিনই নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ ধরতে থাকে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুল হান্নানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও এলাকাটি উন্মুক্ত জলাশয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং প্রশাসন কর্তৃক বাঁধ ভেঙ্গে দেয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে নতুন করে বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি এড়িয়ে যান। এ ব্যাপারে ইটনা থানার ওসি আব্দুস সালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বাঁধটি ভেঙ্গে দিয়েছে। নতুন করে বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
