জামায়াত নেতা অপহরণ ও লাশ উদ্ধারকে কেন্দ করে টানা কয়েকদিনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির পর গতকাল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলক শান্ত। উপজেলা সদর, বিভিন্ন গ্রাম-মহল্লা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের স্পর্শকাতর স্থানে র্যাব, পুলিশের টহল জোরদার করার কারণে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। উপজেলার সব হাটবাজার, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতা চেয়ে গতকাল দিনভর পৌরসদরসহ বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। নৈরাজ্যকারীদের গ্রেফতার করতে বৃহস্পতিবার রাতভর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলেছে। বিভিন্ন অভিযোগে এয়াকুব নগর, কালু শাহ মাজার, আমিরাবাদ, নিজতালুক, কুমিরাসহ কয়েকটি এলাকা থেকে ১৩ জনকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, আমিনুল হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে হরতালের আল্টিমেটামসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দেয়ায় জনমনে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে যে কোনো ধরনের নৈরাজ্য ও নাশকতা মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৮ দলের দফায় দফায় হরতাল, বিক্ষোভ মিছিল, অবরোধের কারণে গত কিছুদিন ধরে সীতাকুণ্ডে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত একমাসে মহাসড়কে দুর্বৃত্তরা শত শত যানবাহন ভাংচুর করা ছাড়াও অর্ধশতাধিক গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সর্বশেষ গত রবিবার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নিখোঁজ হওয়া এবং তার লাশ উদ্ধারকে কেন্দ াক, কাভার্ড ভ্যান, লরিসহ অন্তত ৩০টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনার জের ধরে কয়েকবার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্বৃত্তদের তাণ্ডব মাঝরাতেও চলতে থাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিস্থিতি সামাল দিকে হিমশিম খেতে হয়। দুর্বৃত্তরা সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার জের ধরে সমগ্র উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও প্রতিরাতে বিভিন্ন গ্রামের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। এ কারণে রাত গভীর হলেই গ্রামবাসী অজানা আশঙ্কায় আঁতকে ওঠে। গ্রেফতার আতঙ্ক এবং দুর্বৃত্তদের হামলার আশঙ্কায় প্রয়োজন না হলে সন্ধ্যার পর কেউ ঘর থেকে বাইরে যাচ্ছেন না।
এদিকে আমিনুল নিহত হওয়ার ঘটনায় গতকাল দোয়া দিবস পালন করে জামায়াত। আজ শনিবারও বিক্ষোভ দিবস পালনের কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। জামায়াত নেতারা আজ শনিবারের মধ্যে আমিনুলের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন।
