দেশের স্কুলগুলোতে লাইব্রেরিয়ানের একটি পদ আছ কিন্তু লাইব্রেরি নেই। লাইব্রেরিয়ান কেরানির কাজ করেন। তাহলে বিষয়টি দাঁড়াল কী? বলা চলে হিংটিংছট। এই অবস্থার অবসান ঘটানো জরুরি। পড়াশোনার পাশাপাশি লাইব্রেরি ব্যবহারের অভ্যাস স্কুল থেকেই গড়ে ওঠা প্রয়োজন। অথচ এই অতিপ্রয়োজনীয় কাজটিই যুগের পর যুগ উপেক্ষিত হচ্ছে আমাদের দেশে। এর ফলে দুর্বল ভিত নিয়ে তৈরি হচ্ছে শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে বিজ্ঞান বিষয়ে যারা পাঠ নিচ্ছে তারা। কারণ স্কুল পর্যায় থেকে পাঠাগারমুখী, সায়েন্সল্যাবমুখী করে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে পারলে তাদের ভিত শক্তপোক্ত হয়। শুধু পাঠ্যবই নির্ভর শিক্ষার্থী নয়, প্রয়োজন প্রায়োগিক জ্ঞানের অধিকারী শিক্ষার্থী। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যই যদিও তাই কিন্তু সেই উদ্দেশ্যের অনুসরণ যেন এদেশের স্কুলগুলো ভুলে গেছে। স্কুল থেকে কাবস্কাউট উঠে গেছে প্রায়। বাত্সরিক ক্রীড়া বা সাংস্কৃতিক উত্সবের কথাও প্রায় শোনাই যায় না। কেবলই কোচিং আর প্রাইভেট পড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের জীবন। ব্যবহারিক এবং প্রায়োগিক জ্ঞান বঞ্চিত যে প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে সেই প্রজন্ম আত্মস্বার্থ সর্বস্ব হয়ে পড়ে উঠছে। এটা কোনো মতেই কাম্য হতে পারে না। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রন্থাগার, সায়েন্স ল্যাব, কাব স্কাউটিং, বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন প্রভৃতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মানবিক শিক্ষার্থী তৈরির জন্য অনুরোধ করছি স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের প্রতি।
জেরিন তাসনিম মুমু, মগবাজার, ঢাকা।
