সমস্যার আবর্তে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:০৭
নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এখনো কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জনদুর্ভোগ লাঘব, জনপ্রত্যাশা পূরণ, উন্নয়নকাজ, রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন প্রকল্প, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ও পয়:নিষ্কাশন এবং রাজস্ব আয়সহ কোনো খাতেই সফলতার চিহ্ন রাখতে পারেনি গুরুত্বপূর্ণ এই সেবাদান সংস্থা। প্রয়োজনীয় অর্থ না ?থাকায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নিজেদের জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অফিস ভবনও ঠিক করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। গুলশানের মেয়র ভবন আর বনানী কমিউনিটি সেন্টারে ভাগ করে চলে কর্মকর্তাদের কাজ। রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকা হিসাবে পরিচিত বারিধারা, গুলশান, বনানী ও উত্তরার মতো অভিজাত এলাকা নিয়ে গঠিত এই সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি কাওরানবাজারের মতো বাণিজ্যিক এলাকা, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, মিরপুর ও বাড্ডার মতো বিশাল এলাকাও ডিএনসিসির আওতাভুক্ত। বর্জ ব্যবস্থাপনাই একটি সিটি করপোরেশনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হওয়া সত্ত্বেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ ডিএনসিসি। রাজধানীর অভিজাত এলাকার রাস্তার পাশেও ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। রাস্তার পাশের খোলা স্থানে থাকা ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাব?াসী ও পথচারী। অথচ নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর কথা বলেই ২০১১ সালের ২৯ ডিসেম্বর ডিসিসিকে দুই ভাগ করে সরকার। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, সিটি কর্পোরেশন সংশোধন বিল-২০১১ সংসদে পাস হয়। পহেলা ডিসেম্বর ২০১১ থেকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত ডিসিসির যাত্রা শুরু হয়। শুরু থেকেই হোল্ডিং কর আদায়ে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ডিএনসিসি। অথচ শুরুতে বলা হয়েছিলো, ডিএনসিসি তুলনামূলক ধনীদের এলাকা। তাই এর আয় এবং উন্নতিও হবে বেশি। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন ডিএনসিসির দায়িত্বে থাকা বর্তমান আমলা প্রশাসক ও তার অধীনস্ত কর্মকর্তারা। অভিযোগ রয়েছে, হোল্ডিং কর আদায়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে কোটি কোটি টাকা পাওনা আদায়ে ব্যর্থ কর্তৃপক্ষ। অথচ অর্থের অভাবে ব্যাহত হয়ে চলেছে নাগরিক সেবাদান। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরে হোল্ডিং কর আদায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৮৮ কোটি টাকা। অথচ গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আদায় হয়েছে মাত্র ১২৭ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও কম। ড্রেনেজ ব্যবস্থা তদারকিতে কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে গত বর্ষার বৃষ্টিপাতে অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েছে ডিএনসিসিবাসী। এমনকি গুলশান, বানানী, ডিওএইচএস, বারিধারার মতো এলাকার রাস্তাঘাটেও মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা এখন নগরীর এ অংশের নিয়মিত ঘটনা। একজন নির্বাচিত মেয়রের অভাবকেই এসবের জন্য দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। জলাবদ্ধতার কারণে ডিএনসিসির গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এছাড়া সড়কগুলোতে বেশিরভাগ ম্যানহোলের ঢাকনা না থাকায় দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে যানবাহনকে। গুলশানের বিভিন্ন রাস্তা, বনানীর কবরস্থান সড়ক, গুলশান লেকের পাশের রাস্তাতেও একটু বৃষ্টিতেই পানি ওঠে। পাশাপাশি রাস্তাগুলোতে রয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। নগর গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিই সিটি করপোরেশন চালাবে এটাই স্বাভাবিক। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া চললে তাকে কোনোভাবেই ভালো বলা যায় না। একটি নগরের পরিকল্পিত উন্নয়ন ও চলমান কাজ গতিশীল রাখতে গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত মেয়রের প্রয়োজন আছে। এখন সিটি করপোরেশন যেভাবে চলছে তাতে সমাধান হতে পারে না। নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সারওয়ার জাহান ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, আমাদের শহরে যেসব জনদুর্ভোগ হচ্ছে, সেটা মেনে নেয়ার মতো নয়। প্রতিটি সেক্টরে বিশৃঙ্খল অবস্থা। সিটি গভর্নমেন্ট ছাড়া বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া সমস্যার সমাধান সহজ নয়। আর আমলাদের প্রশাসক হিসাবে কাজ করাটা কোনো সুষ্ঠু সমাধান নয়। তাই অবিলম্বে নির্বাচন হওয়া উচিত। প্রশাসকের বক্তব্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আকতার হোসেন ভূঁইয়া ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, আমি কিছুদিন হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। স্বল্প সময়ে নানা প্রতিকূলতা এবং সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সার্বিক দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি। সমস্যা আছে, তা সমাধানেরও চেষ্টা করা হচ্ছে।