চলমান প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রতিটি প্রশ্নই ফাঁস হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার আগের দিন হাতে লেখা প্রশ্নপত্র ফটোকপি করে বিক্রি হচ্ছে, যা ৯৫ থেকে শতভাগ মিলে যাচ্ছে মূল প্রশ্নের সাথে। এ কারণে অভিভাবকরাও ছুটছেন প্রশ্নের খোঁজে। বেশিরভাগ অভিভাবকই উদ্বিগ্ন। তারা যেকোন মূল্যে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
গত ২০ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে গণিত বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আগের দিন মঙ্গলবার রাজধানী মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে হাতে লেখা গণিতের প্রশ্ন বিক্রি হয়েছে বলে একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন। আরিফুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক জানান, উদ্বিগ্ন এই কারণে যে, আমি নিশ্চিত ফাঁস হওয়া প্রশ্ন হাতে পেয়েই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে। আর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ফাঁস হওয়া প্রশ্ন হাতে পেয়েই পরীক্ষা দিচ্ছে। তিনি অন্য এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর বাংলা পরীক্ষার আগের দিন যা বলেছিলেন তা সবগুলোই বাংলা প্রশ্নে ছিল। আমি নিশ্চিত তিনি ফাঁস হওয়া প্রশ্ন হাতে পেয়েছিলেন।
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রথম দিন সকালে দিনাজপুরে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের হাতে লেখা কপিসহ মাসুদ একাডেমি নামে একটি কোচিং সেন্টারের মালিককে আটক করে পুলিশ। মূল প্রশ্নপত্রের সাথে তার কাছে উদ্ধার করা হাতে লেখা প্রশ্নপত্রে ৮০ ভাগ মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
একইদিন সাতক্ষীরায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ৪ জনকে আটক করে পুলিশ। শহরের একটি ফটোকপি মেশিনের দোকান থেকে অংক পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তরপত্রসহ উক্ত ৪ জনকে আটক করা হয়। পরীক্ষার পর দুপুরে প্রশ্নপত্রের সাথে জব্দকৃত উত্তরপত্রের যাচাই-বাছাই শেষে হুবহু মিল পেয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দেয়া হয়।
এর আগে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসেরও প্রমাণ পেয়েছেন অভিভাবকরা। বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দিয়েও কোন লাভ হয়নি। এখন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলেছেন, তাদের কাছেও ফাঁস হওয়া প্রশ্ন এসেছে। দেখা গেছে, অনেকাংশই মিলে গেছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আশরাফুল ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষাসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, এইচএসসি, এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা এখন স্বাভাবিক বিষয়। জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিশুরা ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দেবে এটা আমাদের বিচলিত করে। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, রাজধানীর নীলক্ষেত, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল সংলগ্ন বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে ইংরেজি প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে। রাজধানীর কয়েকটি কোচিং সেন্টার ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পড়ুয়াদের পরীক্ষা নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। গত ২০ নভেম্বর গণিত পরীক্ষার মধ্য দিয়ে দেশের বৃহত্ এই পাবলিক পরীক্ষা শুরু হয়।
