চোখের আলো না থাকলেও পাবনার ছয় অন্ধ যুবক শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।এ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা শ্রুতি লেখকের সহায়তায় এবার পাবনার আর এম একাডেমী পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।
পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার মনিরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল জেলার আব্দুল্লাহ আল আমিন, বরিশালের হুমায়ুন কবির-জামালপুরের-গোলাপ মল্লিক, জয়পুরহাটের- মো. আলী ও গোপালগঞ্জের ইখতিয়ার মৃধা। এ ছয় জন্মান্ধের প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অভাব-অনটন ও নানা প্রতিকূলতায় এক সময় তাদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অন্ধদের লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজন ব্রেইল পদ্ধতি। অথচ দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ সুযোগ নেই। পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন শ্রুতি লেখকের। দরিদ্র এসব অন্ধের শ্রুতি লেখকদের সম্মানী তো দূরের কথা, লেখাপড়া করার ন্যূনতম আর্থিক ব্যয় নির্বাহ করারও সক্ষমতা নেই। তার পরেও থেমে থাকেনি এসব সংগ্রামী দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর শিক্ষা জীবন। নানা ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করে পাবনার মানব কল্যাণ ট্রাস্টের সহায়তায় তারা এবার জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এ পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রের উত্তর মুখে বলে শ্রুতি লেখকদের শোনান এবং শ্রুতি লেখকরা সেটি লিখে আবার তাদের পড়ে শোনান। এ কারণে তাদের তিনঘণ্টার অতিরিক্ত ২০ মিনিট বেশি সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। এসময় যথেষ্ট নয় বলে তারা দাবি করেন।
শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতিবন্ধীদের কোন বই সরবরাহ করা হয় না। এ ছাড়া ঘন ঘন সিলেবাস পরিবর্তনের কারণে তারা চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই সমস্যার কথা স্বীকার করলেন পাবনার জেলা শিক্ষা অফিসার মো.কুতুব উদ্দিন।
রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়েও এ প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ঘন ঘন হরতালের কারণে তাদের যাতায়াত ও লেখাপড়া চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মানব কল্যাণ ট্রাস্ট পাবনা-চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হোসেন জানান, এ ছয় পরীক্ষার্থীর মত আরো প্রায় ৪৫ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পাবনার মানব কল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করছেন।,
এ প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হলে সারাদেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সর্বোত্কৃষ্ট শিক্ষালয় হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে স্থানীয় শিক্ষাবিদদের ধারণা।
