জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। প্রযুক্তির দিক দিয়ে মানুষকে অনেক এগিয়ে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। বরাবরই অ্যাপল কম্পিউটার থেকে শুরু করে সম্প্রতিকালের প্রযুক্তিগত নানা চমক সাজিয়ে রাখে বিশ্বের সবার জন্য। কিন্তু কিছুদিন আগেই অ্যাপলের জন্মদাতা স্টিভ জবসের মৃত্যুর পর নতুন কোনো চমক দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। তবে সম্প্রতি অ্যারেন্ডস নামের এক প্রতিভা অ্যাপল-ভক্তদের মাঝে নতুন করে আশা জাগাল। সম্ভাবনাময় এই মানুষটিকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
অ্যাপল তাদের মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম ‘আইওএস’-এর নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেছে। ২০০৭ সালে আইফোনের সঙ্গে এই অপারেটিং সিস্টেম বাজারে এনে গোটা বিশ্বে সাড়া ফেলেছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এরপর আইওএসে তেমন বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। স্টিভ জবসের অকাল প্রয়াণের পর নতুন ধারা সৃষ্টির মতো কোনো পণ্যও বাজারে ছাড়তে পারেনি অ্যাপল। সবমিলিয়ে তাই অ্যাপল-ভক্তরা বেশ হতাশ। তাদের কাছে হতাশার সামনে আলো জ্বালালেন যেন অ্যারেন্ডস।
পরনে ফুলহাতা কালো টি-শার্ট, জিন্স আর কেডস। অনেকেই চিন্তায় পরে যেতে পারেন। কিন্তু আপনি যদি অ্যাপলের ভক্ত হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয় বুঝে গেছেন ব্যক্তিটি আর কেউ নন—স্টিভ জবস। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে অ্যাপল তারকা সংকটে ভুগছে। এ থেকে মুক্তি পেতেই হয়তো সম্প্রতি অ্যাঞ্জেলা অ্যারেন্ডসকে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে অ্যাপল। বর্তমানে লন্ডনের ফ্যাশন হাউস ‘বারবেরি’-র প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যারেন্ডস আগামী বছরের বসন্ত থেকে অ্যাপলের ‘রিটেইল’ বিভাগের দায়িত্ব নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এতটুকু জানার পর অনেকের কাছে মনে হতে পারে, কে এই অ্যারেন্ডস, আর কেনইবা তাকে জবসের কিছুটা সমতুল্য মনে করা হচ্ছে! তাদের জন্য হয়তো একটা তথ্য মনে ধরার মতো হতে পারে? সেটা হচ্ছে, লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে অন্তর্ভুক্ত থাকা কোম্পানিগুলোতে কাজ করেন এমন প্রধান নির্বাহীর মধ্যে গত বছর অ্যারেন্ডসই সবচেয়ে বেশি বেতন-বোনাস পেয়েছেন। কারণ ২০০৬ সালে বারবেরির দায়িত্ব নেওয়ার পর কোম্পানির আয় বেড়েছে দ্বিগুণ। আর সেই সাথে পাল্লা দিয়ে শেয়ারের মূল্য বেড়েছে তিনগুণ! সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে, তিনি যে কোম্পানিতে কাজ করেন, সেই কোম্পানির জন্য তিনি কতটা শুভ। এমনটাই মনে করেন তার সহকর্মীরা। তবে একটা ব্যাপার পরিষ্কার যে, তিনি তার কাজ খুব ভালো বোঝেন এবং তার ভেতরে সেই উদ্যম রয়েছে যা দেখা গিয়েছিল স্টিভ জবসের ভেতর। আর তাই দুয়ে মিলিয়ে অনেকেই তাকে দ্য নেক্সট স্টিভ জবস হিসেবে ধরে নিচ্ছেন। এদিকে রিটেল খাত বিষয়ক বিশ্লেষক রবিন লুইস অ্যারেন্ডস সম্পর্কে বলেছেন, ‘তিনি একজন স্টার এবং তার দর্শন অনেকটা স্টিভ জবসের মতোই।’
শুধু তাই নয়, অ্যারেন্ডস নিজেও সব সময় অ্যাপলের ভক্ত ছিলেন। ২০১০ সালে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যদি কোনো কোম্পানিকে আমার মডেল হিসেবে দেখি, সেটা অ্যাপল।’ তিনি আরও বলেন, ‘অ্যাপল হচ্ছে একটি দারুণ ডিজাইন কোম্পানি যারা লাইফস্টাইল তৈরিতে কাজ করছে।’
সুতরাং ফ্যাশন জগতে অ্যারেন্ডসের অভিজ্ঞতা এবং অ্যাপলের প্রতি তার মোহ—এই দুইয়ের সংমিশ্রণে অ্যাপল যদি ভবিষ্যতে জবসের মতো একজনকে তারকা পেয়ে যায় তাহলে মনে হয় না খুব বেশি অবাক করা ব্যাপার হবে সেটা। কারণ ইতোমধ্যেই অ্যাপল-ভক্তরা এমন কিছুই প্রত্যাশা করছে।
